স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার ফসল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা: মানবাধিকার কমিশন

নাসিরনগরে এমন বহু দেব-দেবীর মূর্তি ভাংচুরের শিকার হয়েছে ওই হামলায়। ছবির কপিরাইট BBC bangla
Image caption নাসিরনগরে এমন বহু দেব-দেবীর মূর্তি ভাংচুরের শিকার হয়েছে ওই হামলায়।

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দুদের বাড়ীঘর এবং মন্দিরে ব্যাপক হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বিবিসিকে বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসন সেদিন যে ভূমিকা পালন করেছিল, কোনভাবেই তারা এই ঘটনায় দায় এড়াতে পারে না।

ফেসবুকে ইসলামধর্মকে অবমাননার এক কথিত অভিযোগকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত রোববার হিন্দুদের বহু ঘরবাড়ী এবং মন্দিরে শত শত মানুষ হামলা চালায়।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, যেভাবে আগে থেকে পরিকল্পনা করে সেদিন এই হামলা চালানো হয়, সেটা মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।

"শনিবারে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে তারা মাইকিং করেছে, তারা মানুষদের উত্তেজিত করেছে। আর যখন উত্তেজনা বিরাজ করছে ঠিক তখনই দুটো ইসলামী সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ করতে চায় এবং স্থানীয় প্রশাসনও তখন তাদেরকে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে"।

এমন কঠিন উত্তেজনাকর সময়ে স্থানীয় প্রশাসন সঙ্গে সঙ্গে যে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে এটাকে প্রশাসনের অদূরদর্শীতা বা অপরিপক্কতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন মি: হক।

তিনি আরও জানান, কেন সে সমাবেশে যথেষ্ট পরিমাণ পুলিশ রাখা হয়নি-কমিশনের এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছে পুলিশ দেয়ার দায়িত্ব ওসির।

যখন কোনও এলাকায় সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় তখন তখন স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন আলোচনা করে সে অনুমতি দেয়া হয়, কিন্তু এখানে এমন কোনও লক্ষণ দেখেননি বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:

‘এক মুসলমান হামলা করছে, আরেক মুসলমান বাঁচাইছে’

ছবির কপিরাইট BBC bangla
Image caption নাসিরনগরের আক্রান্ত একটি মন্দির

কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক আরও বলেছেন- এই সমাবেশে যে পরিমাণ পুলিশ রাখার কথা ছিল সে পরিমাণ পুলিশ সে রাখেনি।

পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে- সেটার প্রমাণও তারা পাচ্ছেন না।

হামলার চারদিন পর ওখানকার স্থানীয় প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে যান উল্লেখ করে মি: হক বলেন "প্রায় প্রত্যেক জায়গায় ঘটনায় দেখা যাচ্ছে অদূরদর্শীতা বা গাফিলতি বা এটাকে খুব হালকাভাবে নেয়া হয়েছে -যার জন্য এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে"।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এ ঘটনার উপজেলা প্রশাসনকে দায়ী করে কমিশন চেয়ারম্যান বলেছেন প্রশাসন তাদের দায়কে অস্বীকার করতে পারে না।

সম্পর্কিত বিষয়

বিবিসির অন্যান্য সাইটে