ট্রাম্প হওয়ার আগে শ্লোভেনিয়ায় মেলানিয়ার দিনগুলো

Image caption মেলানিয়া ট্রাম্প যখন মডেল

ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তাহলে তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প হবেন ১৮৭ বছরের মধ্যে প্রথম কোন ফার্স্ট লেডি, যিনি বিদেশে জন্ম নিয়েছেন।

স্লোভেনিয়ায় জন্ম নেয়া মেলানিয়ার তখনকার জীবনের খোঁজ নিয়েছে বিবিসি।

মিসেস ট্রাম্প হওয়ার আগে তার নাম ছিলো মেলানিয়া নেভস। তিনি ছিলেন স্লোভেনিয়ার শেভনিকার বাসিন্দা। তখন অবশ্য দেশটির নাম ছিলো যুগোশ্লাভিয়া।

তার জন্ম ১৯৭০ সালের এপ্রিলে। ২০০১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন আর ২০০৬ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পান।

Image caption শ্লোভেনিয়ায় মেলানিয়া ট্রাম্প যখন মডেলিং করতেন

কিন্তু তার ছোটবেলার শহর শেভনিকার অনেক মানুষ অবশ্য এখনো তাকে মনে রেখেছে।

তার ছোট বেলার বন্ধু জার্কা স্যানতেজ বলছেন, ১৬ বছর বয়সের দিকে মেলানিয়া সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি একজন ডিজাইনার হবেন। নিজের সম্পর্কে তার পরিষ্কার ধারণা ছিলো যে, তিনি কি করতে চান।

তার স্কুলের বন্ধু নেনা বেডেক বলেন, সে সমসময়েই ছিলো বেশ গর্বিত একজন মেয়ে ছিলো। তবে সে মডেল হবে, এমনটা কখনো বলেনি। কিন্তু তার সমসময়েই ইচ্ছা ছিলো যে, সে হবে ফ্যাশন জগতেরই কেউ।

একজন বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে প্রথম ফ্যাশন ফটোগ্রাফার স্টেইন জের্কোর নজরে আসেন মেলানিয়া।

তিনি বলছেন, প্রথম নজর দেখেই আমি বুঝতে পারি, ফটোগ্রাফির জন্য তার চমৎকার একটি চেহারা রয়েছে। সে সময় আমি একটি ফ্যাশন শোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

সে সময় তার অনেক ছবি তোলেন জের্কো। সে সময় ছবি শ্লোভেনিয়ার বেশ কয়েকটি ম্যাগাজিনে ছাপাও হয়। পুরোদস্তুর মডেলিং শুরু করেন মেলানিয়া।

Image caption ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন একটি প্রচারণার অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্প

কিন্তু ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মেলানিয়ার ছবি দেখতে পেয়ে তার মা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

তবে সে সময় মেলানিয়া আরো বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। এই ছোট শহরটি তার জন্য পর্যাপ্ত ছিলো না।

প্রথমে এইচ-১বি ভিসা ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মেলানিয়া। পরে একজন মডেল হিসাবে একবছর মেয়াদী ওয়ার্ক ভিসায় কয়েকবার আমেরিকায় আসেন এবং ২০০১ সালে গ্রীন কার্ড পান।

নিউইয়র্কে একটি ফ্যাশন উইকের অনুষ্ঠানে প্রথম ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মেলানিয়া ট্রাম্পের দেখা হয়, ১৯৯৮ সালের দিকে। ২০০৪ সালে এনগেজমেন্টের পর ২০০৫ সালে তারা বিয়ে করেন।