স্মৃতি ফিরে পাওয়া সালমা এবার ফিরে যাচ্ছেন বাংলাদেশে

ছবির কপিরাইট Jamal Hossain
Image caption সালমা বেগম তাঁর স্মৃতি ফিরে পেয়েছেন। এখন বাংলাদেশে ফেরার দিন গুনছেন।

তিন সন্তানকে নিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে থাকতেন ৩৯ বছরের সালমা বেগম। বেশ কয়েক বছর আগে এক পরিচিত নারীর সঙ্গে মানসিক রোগের চিকিৎসা করাতে ভারতে এসে হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিছুই মনে ছিল না তাঁর।

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলা পুলিশ তাঁকে গত বছর এপ্রিল মাসে আরামবাগ থেকে খুঁজে পায়। নিয়ম অনুযায়ী আদালতে তোলা হলে তাদের নির্দেশে সালমা বেগমকে একটি আবাসে রাখা হয়েছিল।

ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন, হারিয়েছেন স্মৃতি।

শুরু হয় মানসিক রোগের চিকিৎসা।

মাস ছয়েক চিকিৎসার পরেই তিনি কিছুটা স্মৃতি ফিরে পান। মনে পড়ে যায় যে বাংলাদেশের গাইবান্ধায় তাঁর বাড়ি। দেশের কথা, গ্রামের কথা হোমের কর্তৃপক্ষকে জানান তিনি।

এটাও জানিয়েছেন সালমা বেগম যে তিনি যাঁর সঙ্গে চিকিৎসা করাতে ভারতে এসেছিলেন, সেই গোলাপী বেগম তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

"ওই হোমের থেকে খবর পেয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপরেই আমরা ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিতকরণের জন্য বাংলাদেশে খবর পাঠাই," বিবিসি-কে বলছিলেন কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের কাউন্সেলর জামাল হুসেইন।

সালমা বেগমের আত্মীয়রা উপদূতাবাসের কাছে ছবি ও অন্যান্য পরিচয় পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।

মি. হুসেইনের কথায়, "পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে বৃহস্পতিবার আমি নিজেই হুগলীর ওই হোমে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে দেশে ফেরত পাঠানোর একটি আবেদনে টিপ সই করিয়ে এনেছি। খুব তাড়াতাড়ি যাতে তিনি দেশে ফিরতে পারেন, আমরা সেই চেষ্টা করছি।"

পুলিশ আরামবাগ থেকে উদ্ধার করার পরের ১৯ মাস হোমেই কাটিয়েছেন সালমা।

এবার সময় এসেছে সাময়িক আবাস ছেড়ে নিজের দেশে, নিজের সংসারে ফিরে যাওয়ার। সেই আশাতেই দিন গুনতে শুরু করেছেন সালমা বেগম।

সম্পর্কিত বিষয়