ট্রাম্পের বিজয়: অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধানের আশা বাংলাদেশের

Image caption ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর আমেরিকার সঙ্গে অমীমাংসিত কিছু বিষয়ের সমাধানের আশা করছে বাংলাদেশের সরকার।

এর মধ্যে বাণিজ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনার মতো বিষয় রয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিবিসিকে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেছেন; আমরা অবশ্যই সেটিকে শ্রদ্ধা জানাই এবং সামনের দিনে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হব এই প্রত্যাশাই আমরা করি। "

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকারের অধীনে বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার মত অমীমাংসিত কিছু বিষয় সমাধান হবে বলে মি. আলম আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে মার্কিন নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐ বার্তায়, মি. ট্রাম্পের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, মি. ট্রাম্প এবং তার স্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মি. ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া একটি বিবৃতিতে বলেছেন, বিশ্ব ও মানবজাতির উন্নয়নে মি. ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদী।

বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র রক্ষা করায় ভূমিকা রাখবেন বলে তারা আশা করছেন।

তিনি বলেন, "আমেরিকাকে যে বলা হয় গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা সারাবিশ্বে গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং গণতন্ত্রের চর্চার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে আশা করছি।"

মি. ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রধান এইচ এম এরশাদও।

ছবির কপিরাইট EPA
Image caption ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের উল্লাস

এই নির্বাচন নিয়ে গত বেশ কিছুদিন সরগরম ছিল বাংলাদেশও

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্লেষক, রাজনীতিকরা নানা মতামত দিয়েছেন এই নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পরও পক্ষে-বিপক্ষে মতামত থেমে নেই।

মার্কিন নির্বাচন নিয়ে সারা বিশ্বে যে বিশ্বজুড়ে যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছিল, শুরু থেকেই তার বাইরে ছিল না বাংলাদেশও।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে তিক্ত একটি প্রচারণা শেষে এই নির্বাচনের ফলাফল দেখতে সকাল থেকেই টেলিভিশন সেটের সামনে কিংবা অনলাইনে চোখ আটকে ছিল অনেকের।

মি. ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ায় কি প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশে?

একজন বলছিলেন, "আমেরিকাকে যে বলা হয় গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা সারাবিশ্বে গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং গণতন্ত্রের চর্চার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে আশা করছি।"

ছবির কপিরাইট TWITTER
Image caption ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়ে তিনটি টুইট করেছেন নরেন্দ্র মোদি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারকে যদি আমরা দেখি তবে বাংলাদেশের সরকারের সাথে কিন্তু তাদের একটা কনফ্লিক্ট রয়েছে, আমাদের জিএসপি সুবিধা তারা বন্ধ করেছে। আমি মনে করি এই ক্ষেত্রে ট্রাম্প একটি নতুন সম্পর্কের সূচনা করবে"।

আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, "উনার কথাবার্তা একদম স্ট্রেটকাট কথাবার্তা। ভেতরে একটা আর বাইরে একটা বলবে এমন লোক না উনি"।

নির্বাচনের আগে গণমাধ্যমের খবরে অনেকসময়ই দেখা গেছে যে বাংলাদেশে হিলারি ক্লিনটনের পক্ষেই জনমতের পাল্লাটা ভারী। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও যে কেউ কেউ পছন্দ করতেন না তা নয়। নির্বাচনের পর অবশ্য অনেকেই ট্রাম্পের পক্ষেই মতামত দিচ্ছেন।

ঢাকার একজন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, "ট্রাম্প ভালই হইছে, সে খারাপ হবে না। ইলেকশনের আগে ভোট নেবার জন্য অনেকেই অনেক কিছু বলে। ভোট কাস্ট করার জন্য সে এই পলিসি নিসে।''

তবে মি. ট্রাম্পের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় ধরণের কোন পরিবর্তন আসবে এমনটা অনেকেই মনে করেন না।

Image caption ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করে।

বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।

বিজয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। অভিনন্দন জানিয়ে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বারাক ওবামাও।

তাকে অভিনন্দন জানিয়ে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

অভিনন্দন জানিয়ে তিনটি টুইট করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রচারণার সময় ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য মি. ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। এবং বলেন, ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবেন বলে তিনি আশা করেন।

অভিনন্দন জানিয়ে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শী জিনপিং।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল ইরানের নীতিতে কোন পরিবর্তন আনবে না। পারমানবিক নীতিতেও তা প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি মনে করেন, কারণ ইরান জাতিসংঘের সঙ্গে ওই চুক্তিটি করেছে।

আরো অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফাঁসোয়া হঁলাদ, জার্মানির প্রধানমন্ত্রী অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসিপ তাইয়্যিপ এর্দোয়ান এবং আরো কয়েকটি দেশের নেতারা। এখনো অনেক দেশ থেকে অভিনন্দন আসছে।