ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে যত প্রশ্ন, কিছু জবাব

ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবির কপিরাইট AP
Image caption ডোনাল্ড ট্রাম্প

কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ-সহ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ঘটনার পর মানুষের মনে তৈরি হয়েছে প্রশ্নে পাহাড়।

কি হবে এরপর?

স্বাস্থ্য বীমা থেকে শুরু করে সমকামী বিয়ে, বৈশ্বিক উষ্ণতা থেকে ওবামা কেয়ার- আমেরিকান জনগণ এবং সারা বিশ্বের মানুষই এখন জানতে চান, নতুন প্রশাসনের অধীনে তাদের ভবিষ্যত কি।

অনলাইনে এবং বিবিসির দর্শকদের তরফ থেকে আসা কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি আমরা:

ট্রাম্প কবে ক্ষমতা পাবেন?

২০১৭ সালের ২০শে জানুয়ারি দুপুরে আমেরিকার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেক হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

তবে এর আগেই তিনি তার প্রশাসনের জনবল চূড়ান্ত করে ফেলবেন, নীতি তৈরি করবেন, তিনি সরকারি ব্রিফিংগুলোতে প্রবেশাধিকার পাবেন।

এমনকি জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযান সম্পর্কিত অতি গোপনীয় তথ্য প্রাপ্তিতেও তার অধিকার থাকবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি হোয়াইট হাউজে থাকবেন?

এটাই রীতি।

তবে গত বছর দ্য হিল ওয়েবসাইটকে মি. ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকার দেয়ার পর, তিনি হয়ত সুদীর্ঘ এই রীতিটির ব্যত্যয় ঘটাবেন বলে গুজব রটেছিল।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption হোয়াইট হাউজ

মি. ট্রাম্পের বর্তমান আবাস নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপের ট্রাম্প টাওয়ারে।

মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় বিমান প্রশাসন ওই টাওয়ার উপর দিয়ে সব ধরণের বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

২০শে জানুয়ারি অভিষিক্ত হওয়ার পর মি. ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে চলে যাবেন, এই আশায় ২১শে জানুয়ারি পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়েছে।নির্বাচনে কত মানুষ ভোট দিয়েছেন?

ভোট গ্রহণের দুই সপ্তাহ পর্যন্ত নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব তথ্য উপাত্ত চূড়ান্ত করেন না।

কিন্তু সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে ১২ কোটি ৮৮ লাখ আমেরিকান এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছে।

মোট ভোটারের সংখ্যা দেশটিতে ২৩ কোটি ১৫ লাখ।

ছবির কপিরাইট EPA
Image caption নির্বাচনে ট্রাম্প জিতলেও জনপ্রিয় ভোট বেশী পেয়েছেন হিলারি।

জনপ্রিয় ভোটে কে জিতেছেন?

জনপ্রিয় ভোট বা প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যার হিসেবে কিন্তু হিলারি ক্লিনটন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছুটা ওপরে আছেন।

সর্বশেষ গণনায় মিসেস ক্লিনটনের প্রাপ্ত মোট ভোট ৬০,২৭৪,৯৭৪ টি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাপ্ত ভোট ৫৯,৯৩৭,৩৩৮টি।

প্রার্থীদের বয়স কত?

গুগল ট্রেন্ডসে সবচেয়ে বেশী করা প্রশ্ন ছিল এটি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স ৭০।

হিলারি ক্লিনটনের ৬৯।

মি. ট্রাম্পের ব্যবসার কি হবে?

সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মি. ট্রাম্পের আইনজীবী বলেছেন, তার ব্যক্তি মালিকানাধীন ট্রাম্প অর্গানাইজেশন, যেটি হোটেল, গলফ কোর্স এবং দেশে বিদেশে বাণিজ্যিক ও আবাসিক সম্পত্তির মালিক, সেটি একটি 'ব্লাইন্ড ট্রাস্টের' মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

এই 'ব্লাইন্ড ট্রাস্টের' ট্রাস্টি হবেন তার ছেলেমেয়েরা।

যদি ব্লাইন্ড ট্রাস্টের মাধ্যমে 'কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট' বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকতে পারার কথা, কিন্তু তার সন্তানেরা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন দেখভাল করবেন বলে হয়তো সেই স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে প্রেসিডেন্ট কতটা মুক্ত থাকতে পারবেন সেটি নিয়ে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করছেন।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ফুটবলটি সব সময়েই প্রেসিডেন্টের আশপাশে রাখা হয়

ট্রাম্প কি একটি পরমাণু বোমার সুইচ টিপে দিতে সক্ষম হবেন?

একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কয়েক মিনিটের নোটিশে একটি পারমানবিক হামলা শুরু করে দেবার ক্ষমতা রয়েছে।

'ফুটবল' বলে পরিচিত পারমানবিক লঞ্চ কোডের ব্রিফকেসটি সবসময়ই প্রেসিডেন্টের আশপাশেই রাখা হয়।

প্রেসিডেন্টর নিজের পরিচয় এবং কোড ব্যবহার করে এই লঞ্চ কোড থেকেই একটু পরমাণু হামলা চালাতে পারেন।

এজন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরও "অথেনটিকেশন' বা অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

কিন্তু প্রেসিডেন্টের ইচ্ছেতে ভিটো দেয়ার ক্ষমতা তার নেই। পরিকল্পনাটা এমনই। ফলে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলেই, কারো বাধা বা পরামর্শ ছাড়াই যে কোন মুহূর্তে একটি পরমাণু বোমা যে কারো উপর ছুড়ে দিতে পারেন। এজন্য মোটে দশ মিনিট সময় প্রয়োজন তার।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচকদের সবসময়েই তার 'অস্থির চিত্ত' এবং আকস্মিক উত্তেজনার সমালোচনা করে আসছেন। সমালোচকদের মতে এধরণের চরিত্রের একজন মানুষের হাতে পরমাণু বোমার কোড থাকাটা উদ্বেগ সৃষ্টিকারী।

এ নিয়ে মি. ট্রাম্পের বক্তব্যে মিশ্র চিত্র ফুটে ওঠে।

গত এপ্রিল মাসে এনবিসি টিভিকে তিনি পরমাণু বোমার মত ভয়ংকর অস্ত্র ব্যবহার থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে বক্তব্য দেন।

কয়েক মাস পর তিনি আবার বলেন, "আইসিস যদি আমাদেরকে আক্রমণ করে, তাহলে কি আমাদের উচিত হবে না একটা পরমাণু বোমা নিয়ে পাল্টা হামলা চালানো"?

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption একদল সমকামী অধিকারকর্মী

সমলিঙ্গ বিবাহের কি হবে?

কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প সমলিঙ্গ বিবাহের বিরোধিতা করে আসছেন।

যদিও তিনি বলেছেন তিনি একটি সমলিঙ্গ বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

২০১৫ সালে সারা আমেরিকা জুড়ে সমলিঙ্গ বিবাহকে বৈধ করার যে নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোট তাতে নাখোশ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মি. ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, এটা রাষ্ট্রীয়ভাবে বিবেচনা করবার চাইতে রাজ্য পর্যায়ে বিবেচনা করা সমীচীন হবে।

তিনি অবশ্য এই ইস্যুটিকে অগ্রাধিকার বিবেচনা করছেন না।

তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত মাইক পেন্স সমলিঙ্গ বিবাহের ঘোর বিরোধী।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মামলাগুলোর কি হবে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন মামলাবাজ কোটিপতি।

হাজার হাজার ল'সুট বা অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত তিনি।

এগুলোর কোনটি তিনি দায়ের করেছেন, কোনটি তার বিরুদ্ধে করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে এখন অন্তত ৭৫টি ল'সুট কার্যকর রয়েছে।

যেহেতু এসব ল'সুট অনেক আগে হয়েছে ফলে প্রেসিডেন্ট হবার পর এগুলো থেকে কোন অব্যাহতি তিনি পাবেন না এবং প্রেসিডেন্ট হওয়া স্বত্বেও প্রয়োজনে তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption মেক্সিকো সীমান্তে এখন রয়েছে এই বেড়াটি

মেক্সিকো সীমান্তে কবে থেকে দেয়াল উঠছে?

মি. ট্রাম্পের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই সেটি শুরু হবার কথা এবং তৈরি হবার পর মেক্সিকো সরকারের কাছ থেকে খরচের অর্থ আদায় করার কথা।

কিন্তু নির্মাণের ব্যয়ভার, এটির ব্যাপকতা এবং অনেক রিপাবলিকানের অনীহা বিবেচনায় সীমান্ত জুড়ে দেয়াল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে

অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন আলোচিত এই মেক্সিকো প্রাচীর কখনোই আলোর মুখ দেখবে না।

অবৈধ অভিবাসীদের কি হবে?

যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসী আছে।

মি. ট্রাম্প যে দশ পয়েন্টের অভিবাসন পরিকল্পনা করেছেন সেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামার সাধারণ ক্ষমা বাতিল, অভিবাসন আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই তাদেরকে অবিলম্বে বহিষ্কার করার উল্লেখ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদেরও সঠিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে।

ফলে মি. ওবামা ২০১৪ সালে অবৈধ অভিবাসীদের সাময়িক বৈধতা দেয়ার যে নির্বাহী আদেশগুলো দিয়েছেন সেগুলো বাতিল করে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বহু বিচারক, কৌঁসুলি ও আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজনের হবে এবং কার্যত আসছে বহু বছর এই প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থাকে ভারাক্রান্ত করে রাখবে।