ঢাকায় ব্লগার নিলয় ও প্রকাশক দীপন হত্যার এক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ব্লগার
Image caption বাংলাদেশে গুপ্তহত্যার শিকার কয়েকজন লেখক ও ভিন্ন মতাবলম্বী ব্লগার।

বাংলাদেশের পুলিশ বলছে, তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে, যে ব্লগার নিলয় প্রকাশক দীপন হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গত বছর অগাস্ট মাসে নিলাদ্রী চ্যাটার্জি ওরফে নিলয় নীল নামে এক ব্লগারকে তার ঢাকার বাসভবনে ঢুকে হত্যা করা হয়।

আর ওই বছরই অক্টোবর মাসে শাহবাগের প্রকাশনা কার্যালয়ে ঢুকে ফয়সাল আরেফিন দীপন নামে এক প্রকাশককে হত্যা করে আততায়ীরা।

মি. দীপনের প্রকাশনা জাগৃতি থেকে অভিজিৎ রায় নামে আরেক নিহত ব্লগার ও বিজ্ঞান বিষয়ক আমেরিকা প্রবাসী লেখকের বই প্রকাশিত হয়েছিল।

ঢাকায় পুলিশের মুখপত্র ডিএমপি নিউজের খবরে বলা হয়, ডিবির একটি দল শুক্রবার রাতে কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকা থেকে খায়রুল নামে এক অভিযুক্ত জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে।

তার ফাহিম, রিফাত, জামিল ও জিসান নামে আরো কয়েকটি ছদ্মনাম রয়েছে।

ছবির কপিরাইট Faceboo
Image caption নীলাদ্রি চ্যাটার্জী

সে পুলিশকে দেয়া স্বীকারোক্তিতে দীপন ও নিলয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে খবরে বলা হয়।

অভিযুক্ত খায়রুলের বাড়ি ঝিনাইদহে।

তবে সে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করছিল বলে জানাচ্ছে পুলিশ।

এর আগেও এসব হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত জুন মাসে অভিজিৎ রায় ও নিলয় হত্যার এক অভিযুক্ত পুলিশের 'ক্রসফায়ারে' নিহত হয়।

গত বছর অগাস্ট মাসে নিলয় হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী কয়েকদিন অভিযান চালিয়েও পুলিশ নাহিন ও রানা নামে দুই জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল।

ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption ফয়সাল আরেফিন দীপন

গত অগাস্ট মাসে দীপন হত্যার মূল অভিযুক্ত, পুরষ্কার ঘোষিত জঙ্গি শমী ওরফে সমীর ওরফে ইমরানকে গ্রেপ্তারের দাবী করে পুলিশ।

এর পরের মাসেই গ্রেপ্তার হয় দীপন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, পুলিশের ভাষায় 'মাস্টারইন্ড' আব্দুস সবুর।

গত বছরটি বাংলাদেশে ভিন্ন মতাবলম্বীদের গুপ্ত হত্যার শিকার হওয়া প্রায় প্রতি সপ্তাহের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ওই বছর গুপ্ত হত্যার শিকার হয়েছেন স্বঘোষিত নাস্তিক, ভিন্ন মতে ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, ধর্মগুরু, সমকামী অধিকার কর্মী, বিদেশী নাগরিক, ভিন্ন ধর্মের অনুসারী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।

উগ্র ইসলামপন্থী জঙ্গিরা বিভিন্ন সময়ে এসব হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অনেকগুলো হত্যাকাণ্ডই কথিত ইসলামিক স্টেট ও ভারতীয় আল কায়েদা ঘটিয়েছে বলে দাবী করেছে।

যদিও বাংলাদেশের সরকার বরাবরই দাবী করে এসেছে, স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলো ঘটিয়েছে এসব হত্যাকাণ্ড।

বিদেশী কোন জঙ্গি সংগঠনের উপস্থিতি বাংলাদেশে নেই।

সম্পর্কিত বিষয়