জলবায়ু চুক্তি ট্রাম্পের চাইতে বড়: মার্কিন দূত

জলবায় ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption আরো উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যবস্থার দাবীতে মারাক্কেশের রাস্তায় নেমে এসেছেন জলবায়ু বিষয়ক আন্দোলনকারীরা।

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ড. জোনাথন পেরশিং বলছেন, ট্রাম্প শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না প্যারিসের জলবায়ু চুক্তি।

নির্বাচনী প্রচারকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিসের জলবায়ু চুক্তি 'বাতিলের' পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন।

কিন্তু আজ মরক্কোর মারাক্কেশে জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের আগমনের আগমুহূর্তে দেয়া বক্তব্যে ড. পেরশিং বলেন, "রাষ্ট্রনায়ক বদলাতে পারে, বদলাবেও, কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার লড়াইয়ের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আমরা বজায় রাখতে পারব এবং রাখবো"।

মারাক্কেশে আজ বিশ্বনেতারা মূলত আসছেন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে সেটা ঠিক করতে।

কিন্তু জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারেন হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এই আশঙ্কার কালো ছায়া পড়েছে বিশ্বনেতাদের আসন্ন এই বৈঠকটিতেও।

এই আশঙ্কার বিষয়টি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন মারাক্কেশে অবস্থানরত পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. সালিমুল হকও।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র যদি জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে কি হবে?

"কিছুটা আঘাত তো পড়বে, উনি হয়তো প্রেসিডেন্ট ওবামার নেয়া কিছু উদ্যোগ বাতিল করবেন" বলছেন ড. হক।

কিন্তু ২০০টি দেশ মিলে জলবায়ু চুক্তি হয়েছে উল্লেখ করে ড. হক আরো বলছেন, এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ না।

"সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হল চীন। তারা তাদের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। অন্যান্য সদস্যরাও একই কাজ করবে। এখন যুক্তরাষ্ট্র বের হলেও আমরা এগিয়ে যাব"।

"যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলে তা পৃথিবীর জন্য খারাপ, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও খারাপ। তাদের অর্থনীতি এবং চাকরি খাতও ক্ষতির মুখে পড়বে। উনি আদৌ করবেন কি করবেন না দেখতে হবে। আগে থেকে ধারণা করা ঠিক হবে না"। বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. সালিমুল হক।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তার নাম ঘোষণা করছেন তার মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক দলের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মাইরন ইবেলের নাম।

মাইরন ইবেলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা বিষয়ক জনপ্রিয় তত্ত্বের ঘোর বিরোধী হিসেবে সুবিদিত।

ড. পেরশিং বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ইস্যু সমূহের নেতৃত্বে কে থাকবেন সে ব্যাপারে তার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।

কিন্তু যে-ই হোন না কেন, তার উচিত হবে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে গত বছরের জলবায়ু চুক্তির শক্তির দিকটি উপলব্ধি করা।