সাত কোটি বছর পুরনো ডায়নোসরের কঙ্কাল: অজানা তথ্য
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

সাত কোটি বছর পুরনো ডায়নোসরের কঙ্কাল

ডায়নোসরের ব্যতিক্রমধর্মী একটি জীবাশ্ম সম্প্রতি উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো জীবাশ্মটিই মোটামুটি অক্ষত রয়েছে।

ডায়নোসরটির ফসিলের মাথার সাথে লাগানো তার লম্বা ঠোট। আর দু'পাশে দুটো ডানা, ছড়ানো।

ধারণা করা হচ্ছে, কাদামাটির মধ্যে আটকে গিয়ে এই প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে। এবং এটি ৭২ মিলিয়ন অর্থাৎ সোয়া সাত কোটি বছরের মতো পুরনো।

বলা হচ্ছে, এটি ছিলো এশিয়াতে টিকে থাকা শেষ ডায়নোসরগুলোর একটি।

বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন -টংটিয়ানলঙ লিমুসাস। এর বাংলা করলে অর্থ দাঁড়ায়, 'স্বর্গে যাওয়ার পথে মাটির ড্রাগন।'

কি অবাক হচ্ছেন এসব খবরে?

আসুন তাহলে এর বিস্তারিত গল্পটা শোনা যাক।

দক্ষিণ চীনে ডায়নোসরের অবিশ্বাস্য রকমের এই ফসিল উদ্ধারের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার সায়েন্টিফিক রিপোর্টে।

বলা হচ্ছে, এই প্রজাতির ডায়নোসর সম্পর্কে এর আগে কিছুই জানা ছিলো না।

নির্মাণাধীন একটি এলাকায় ডায়নোসরের এই ফসিলটি পাওয়া গেছে। সেখানে কর্মরত শ্রমিকরাই প্রথমে এর সন্ধান পান।

তারা যখন পাহাড়ি মতো একটা জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটাতে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই তারা এই জীবাশ্মটি দেখতে পান। ফসিলটি অল্পের জন্যে রক্ষা পেয়েছে।

ব্রিটেনে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. স্টিফেন ব্রুসেট এই ফসিলটিও ওপর গবেষণা করছেন।

Image caption ডায়নোসরটি কাদায় আটকে যায়

তিনি বলেছেন, নির্মাণ কাজ চলছিলো এমন একটি জায়গায় শ্রমিকরা এই জীবাশ্মটির খোঁজ পেয়েছেন।

পাহাড়ের পাদদেশে যখন একটি হাই স্কুল নির্মাণের কাজ চলছিলো তখন শ্রমিকরা সেখানে ডায়নামাইট দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাহাড় ভেঙে সমান করার সময় তারা এই ফসিলটি দেখতে পান।

গবেষকরা বলছেন, ফসিলটির ছোট ছোট কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু তারপরেও পুরো জীবাশ্মটি মোটামুটি অক্ষতই রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর আকার একটি ভেড়ার সমান। পাখির মতো দেখতে যেসব ডায়নোসর ছিলো এই প্রজাতি সেরকমই একটি।

এর গায়ে পালক ছিলো। এর বৈজ্ঞানিক নাম অভিরেপটোরোসরস।

গবেষকরা বলছেন, আমাদের পৃথিবীতে গ্রহাণুপুঞ্জ আঘাত হানার আগে এই প্রজাতিটির বিকাশ ঘটতে শুরু করেছিলো।

ডায়নোসরের এই কঙ্কালটি এতোটা অক্ষত এবং পূর্ণা-ঙ্গ থাকার একটি কারণ হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা বলছেন, দেখে মনে হচ্ছে এটি ভেজা নরোম মাটিতে আটকা পড়ে গিয়েছিলো। এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে।

"ডায়নোসরটির জন্যে এটা খুবই খারাপ একটি ঘটনা ছিলো কিন্তু আমাদের জন্যে এটি একটি সুখবর। কারণ কোন প্রাণী যখন এরকম মাটির নিচে আটকা পড়ে যায় তখন এটি এক ধরনের পাথরের ফসিলে পরিণত হয়," বলেন তিনি।

"এই জীবাশ্মটির বিশেষ দিক হচ্ছে, এটি শেষ দিকে বেঁচে থাকা ডায়নোসরের একটি কঙ্কাল এবং এটি পাখির মতো দেখতে ডায়নোসর প্রজাতির। তখন বিবর্তনের মাধ্যমে নানা রকমের ডায়নোসরের বিকাশ ঘটছিলো। তারপরই এস্টেরয়েডের আঘাতে এই পৃথিবী থেকে ডায়নোসরের বিলুপ্তি ঘটে।"

চীন ও যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা মিলে এই ফসিলটির ওপর গবেষণা চালাচ্ছেন।

তারা বলছেন, ডায়নোসর থেকে কিভাবে পাখির বিবর্তন ঘটছিলো সেবিষয়ে এই ফসিলটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

কারণ বিজ্ঞানীদের দাবি আজকের দিনে আমরা যে পাখি দেখি সেগুলো আসলে ডায়নোসর থেকে বিবর্তিত হয়েছে। আর এই ফসিলটি থেকে বোঝা যেতে পারে আধুনিক কালের পাখিদের পূর্বপুরুষরা দেখতে ঠিক কিরকম ছিলো।

সামুদ্রিক পাখিরা প্লাস্টিক খেয়ে মারা পড়ছে

সমুদ্রে প্লাস্টিকের দূষণ এমন একটা গন্ধ তৈরি করছে যা খাদ্যান্বেষী পাখিদের আকৃষ্ট করছেন বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন।

তাদের এই আবিষ্কার থেকে এখন বোঝা যেতে পারে অ্যালবাট্রোসের মতো সামুদ্রিক পাখিরা কেন প্লাস্টিক গিলে খেয়ে ফেলে।

এর ফলে অসুস্থ হয়ে অনেক পাখিরও মৃত্যু ঘটে।

ছবির কপিরাইট John Harrison
Image caption সামুদ্রিক পাখি

এই গন্ধটা অনেকটাই সামুদ্রিক আগাছা পচে যাওয়ার গন্ধের মতো।

প্লাস্টিকের গায়ে আটকে থাকা প্ল্যাঙ্কটন বা লতাগুল্মের ভেঙে যাওয়ার কারণে এরকম গন্ধ তৈরি হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৯০ শতাংশের মতো সামুদ্রিক পাখি প্লাস্টিক খেয়েছে এবং অনেকের পেটেই এই প্লাস্টিক পাওয়া যাবে। ফলে এদের বেঁচে থাকাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ম্যাথিউ স্যাভেকা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলছেন, এই গন্ধ অনুসরণ করেই সামুদ্রিক পাখিরা খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়।

তিনি বলছেন, প্লাস্টিকের মধ্যে আমরা এমন একটি রাসায়নিক খুঁজে পেয়েছি যার সাথে পাখিরা মিল খুঁজে পায়। ফলে তারা বিভ্রান্ত হয় এবং প্লাস্টিককে খাবার মনে করেই খেয়ে ফেলে।

পরীক্ষাটি যেভাবে চালানো হয়: প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড জালির ব্যাগে ভরে সেটাকে সমুদ্রের ডুবিয়ে রাখা হয়। এর তিন সপ্তাহ পর ওই প্লাস্টিকের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা হয় তাতে কি ধরনের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে।

ছবির কপিরাইট Sarah Youngren
Image caption অনেক পাখির পেটেই এরকম প্লাস্টিক পাওয়া যায়

সমুদ্রে ফেলে দেওয়া তিন ধরনের প্লাস্টিকে রাসায়নিক পদার্থের তীব্র গন্ধ পাওয়া গেছে। একটি রাসায়নিক হচ্ছে ডাইমিথাইল সালফাইড যার গন্ধ অনেকটা সেদ্ধ করা বাঁধাকপি কিম্বা পচে যাওয়া সামুদ্রিক আগাছার গন্ধের মতো।

আলবেট্রোসের মতো যেসব পাখির গন্ধ শোঁকার তীক্ষ্ণ ক্ষমতা রয়েছে তারা এই গন্ধের টানে প্লাস্টিকের কাছে ছুটে যায় এবং খাবার মনে করে সেটাকে খেয়ে ফেলে।

আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বেই এই প্লাস্টিক দূষণের হার বাড়ছে।

২০১৪ সালে সমুদ্রে যতো প্লাস্টিক ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হয় তার একটি হিসেবও দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এর পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টন।

বিপদ থেকে বাঁচতে

এবারে অভিনব এক প্রযুক্তির কথা শোনা যাক বিপদের সময়ে যেটি আপনাকে রক্ষা করতে সক্রিয় হয়ে উঠবে।

এই যন্ত্রটি আপনার সাথেই থাকবে এবং কাজ করবে অ্যালার্মের মতো।

বিপদে পড়লে আপনার আশেপাশে পুলিশের মতো যেসব বিভাগ বা সংস্থা আছে সেখানে তার সঙ্কেত চলে যাবে।

Image caption অ্যাপটি যেভাবে কাজ করবে

আপনি যাদের কাছে বিপদ সঙ্কেত পাঠাতে চান শুধু যে তাদের কাছেই বার্তাটা চলে যাবে তা নয়। আপনার সবচে কাছাকাছি যারা অবস্থান করছেন তাদের কাছেই সেটা আপনা আপনি পৌঁছে যাবে।

সেসময় আপনার আশেপাশে যারা থাকবে তাদের মোবাইলেও যদি সেই অ্যাপটা ডাওনলোড করা থাকে তাহলেও তারাও সেই বার্তাটি পেয়ে যাবেন।

বার্তাটি হতে পারে এরকম:

"আপনার আশেপাশেই আছেন এমন একজনের আপনার সাহায্য দরকার। ওই ব্যক্তিটি কোথায় অবস্থান করছেন যদি সেটি জানতে চান তাহলে আপনার মোবাইল ফোনটি আনলক করুন।"

ফোন আনলক করার পর আপনি আরেকটি মেসেজ পাবেন।

"আপনাকে জরুরী ভিত্তিতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আর সেই জায়গাটি ওমুক রাস্তার পাশে তমুক জায়গায়। সেটি আপনার এখান থেকে এতো মিটার দূরে।"

বিপদের সময় এই যন্ত্রটিকে সক্রিয় করে তুলতে আপনাকে খুব ছোট্ট একটি শব্দ ব্যবহার করতে হবে, যেটি ওই যন্ত্রের সাথে আগেই সেট করে নিতে হবে।

স্কুল অফ কমিউনিকেশন আর্টসের শিক্ষক মার্ক লিউইস বলেছেন, ভবিষ্যতে এই যন্ত্রটি নিয়ে আমরা অনেক কিছুই করতে চাই।

Image caption ফোনে অ্যাপ

"এর একটি হচ্ছে, আপনি যখন দেখবেন যে কোন ব্যক্তির আপনার সাহায্যের দরকার হচ্ছে, তখন আপনার কাছে একটি বার্তা চলে আসবে। আর আপনি যখন তার কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন তখন আপনার মোবাইল ফোনে আপনা আপনি সেখানকার ম্যাপ ভেসে উঠবে।"

তিনি বলেন, "একই সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে আপনার ফোনের ক্যামেরাও। আশেপাশে যা কিছু আছে বা যা কিছু ঘটতে থাকবে সেগুলো তখন সেখানে রেকর্ড হতে থাকবে। শুধু তাই নয়, এই ভিডিওটা সরাসরি চলে যাবে পুলিশের কাছেও। লাইভ স্ট্রিমিং এর মতো।"

এখন ধরুন আপনি হয়তো রাতের বেলা হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন। কোন ছিনতাইকারী আপনার ওপর হামলা চালালো। ঠিক তখনই সেই খবরটা চলে যাবে আপনার কাছাকাছি অবস্থান করছে এরকম মানুষের কাছে।

তারপর ধরুন একসময় বিপদও কেটে গেলো। তখন সেই অ্যাপের সাহায্যেই আপনি আবার সবাইকে জানিয়ে দিতে পারবেন যে আপনি এখন বিপদমুক্ত।

যুক্তরাজ্যে এই ডিভাইসটি ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর নাম আই সি ই বাটন বা আইস বাটন।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান।