পাকিস্তানের দাবি অসত্য ও হাস্যকর বললেন তোফায়েল আহমেদ

Image caption ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠানো পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠি।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমে উঠে আসা খবর অনুযায়ী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগে পশ্চিম পাকিস্তানের যে সম্পদ সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তানে ছিলো তারই একটি বাজার মূল্য নির্ধারণ করেছে পাকিস্তান।

আর তাদের সেই হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে নয় বিলিয়ন রূপি বা সাতশ কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে বলে দাবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে এখনো বিষয়টি জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অবশ্য বলছেন পাকিস্তানের এমন দাবি অসত্য ও হাস্যকর।

তার মতে মূলত বাংলাদেশ বিরোধী মনোভাব থেকেই পাকিস্তান এ ধরনের দাবি সামনে নিয়ে আসতে চাইছে।

তিনি বলেন, "স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ একটি টাকাও বৈদেশিক মুদ্রা পায়নি। সবই পাকিস্তান নিয়ে গেছে। পাকিস্তান আসলে ভারত ও বাংলাদেশ বিরোধী। এ বিরোধিতাও তাদের এ দাবির মধ্যে ফুটে উঠেছে যা সম্পূর্ণ অবাস্তব"।

বিষয়টি নিয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের এডিশনাল ডিরেক্টর কাদের বখশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলবেন না বলে তার অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

যদিও মিস্টার বখশ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে দেশটির সব ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে দাবি করা যায় এমন অর্থ সম্পর্কে তথ্য চেয়েছিলেন।

Image caption তোফায়েল আহমেদের দাবি বরং পাকিস্তানের কাছেই কয়েক হাজার কোটি টাকা পাবে বাংলাদেশ।

বিবিসি বাংলার হাতে থাকা ওই চিঠিতে দেখা যায় গত নয় নভেম্বরে দেয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে পাকিস্তান সরকার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে থাকা তাদের সম্পদের দাবিগুলো একত্রিত করতে চায়।

এজন্য ব্যাংকগুলোকে ওই সময় পূর্ব পাকিস্তানে ভূমি, যানবাহন, ঋণ, বিনিয়োগ, ভবন, সরকারী বণ্ড সহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তান বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে তাদের পাওনা নির্ধারণ করেছে ৯ দশমিক ২১ মিলিয়ন রুপি।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলছেন বাংলাদেশেরই বরং কয়েক হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে আর সেটি ব্যাহত করতেই নতুন করে এ উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান।

তিনি বলেন, "একটা ধারণা পত্র আমরা তৈরি করেছি। আদমজী আমাদের। মুক্তিযুদ্ধের পর ৭২ সালে পাট থেকে ৩৪৮ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছে। পাকিস্তান আমলে পাট থেকে রপ্তানির সব অর্থ তারা নিয়ে গেছে, আমরা সেটি পাইনি"।

এর আগে ১৯৯৬ সালেও বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে পাকিস্তানের কাছে পাওনা চাওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন বাংলাদেশও তার পাওনা আদায়ে শক্ত পদক্ষেপ নেবে।

বাংলাদেশ সরকারের এমন বক্তব্য এবং পাকিস্তানের পাওনা দাবির প্রস্তুতির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান মুখপাত্র আবেদ কামারও কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।