সাঁওতালদের ধান বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

ধানক্ষেত
Image caption বিরোধপূর্ণ জমিতে সাঁওতালদের রোপণ করা ধান তাদের বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমির ধান সাঁওতালদের বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত একটি রুল জারি করেছে।

রিটকারীদের আইনজীবী জেড আই খান পান্না বিবিসিকে জানান, হাইকোর্ট বলেছে, ওই জমিতে সাঁওতালদের রোপণ করা ধান হয় তাদের কাটতে দিতে হবে, নাহলে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন ধান কেটে সাঁওতালদের বুঝিয়ে দেবে। হাইকোর্ট কয়েকটি নির্দেশনাও দিয়েছেন।

বাংলাদেশের গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি এবং পুনর্বাসনসহ সার্বিক নিরাপত্তার জন্য নির্দেশনা চেয়ে বুধবার দেশটির হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে তিনটি বেসরকারি সংস্থা।

বিরোধপূর্ণ জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কারণ এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে ওই রিট আবেদনে।

শুনানি শেষে, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

Image caption সংঘর্ষের ১১দিন পরেও শঙ্কায় রয়েছে গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালরা

পাশাপাশি উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সাঁওতালদের নিরাপত্তার জন্য কী কী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, এবং উচ্ছেদের সময় ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনায় কয়টি মামলা হয়েছে, তা পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে আদালতে জানানোর জন্য স্থানীয় পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে ৩০ নভেম্বর।

সংঘর্ষের ১১দিন পরে মামলা

এদিকে ঘটনার প্রায় ১১দিন পর সাঁওতালদের পক্ষ থেকে একটি মামলা নিয়েছে গোবিন্দগঞ্জের পুলিশ। বুধবার রাতে স্বপন মুরমু বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

সাঁওতালদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও হত্যার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ৬০০জনকে আসামী করে মামলাটি করা হয়েছে।

তবে সাঁওতাল নেতাদের দাবি, স্বপন মুরমু তাদের পক্ষ থেকে মামলা করেননি। এই মামলার বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।

তারা আলাদাভাবে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।