ট্রেনের মধ্যে আটকাপড়া অনেককেই বের করা যায়নি

ছবির কপিরাইট SANJAY KANOJIA
Image caption দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন থেকে যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা

ভারতীয় রেলের ইন্দোর থেকে পাটনাগামী ১৯৩২১ এক্সপ্রেস ট্রেনটি যখন এই মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তখন ভিড়ে ঠাসা ট্রেনটির বেশির ভাগ যাত্রীই ছিলেন গভীর ঘুমে।

পরে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, ওই ট্রেনের অন্তত ১৪টা কামরা একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে - আর তার প্রায় সবগুলোর ভেতরেই আটকা পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী।

তাদের অনেকেই হতাহত, কেউ কেউ প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেককেই বের করা যাচ্ছে না।

উদ্ধারের কাজে ব্যস্ত রেলকর্মীরা অবশ্য বলছিলেন, বিধ্বস্ত কামরাগুলোর ভেতর থেকে জীবিতদের বের করাটাই তাদের এখন অগ্রাধিকার। এ সম্পর্কে আরো পড়ুন: 'প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে ঘুম থেকে জেগে উঠি':

ছবির কপিরাইট SANJAY KANOJIA
Image caption দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারীদের তৎপরতা

তারা বলছিলেন, "প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় এখনও পর্যন্ত পঞ্চাশের বেশি লোককে জীবিত বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। গ্যাস কাটার দিয়ে খুব সাবধানে আমাদের ট্রেনের মেটাল কাটতে হচ্ছে, যাতে ভেতরে মানুষজনদের কোনও ক্ষতি না-হয়। তবে এখনও অনেক বাচ্চা ও মহিলাদের গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে - তারা বেঁচে আছেন বোঝা যাচ্ছে এবং তাদের বের করার জন্য আমরা সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছি।"

ট্রেনটি যখন উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি স্টেশন ছাড়িয়ে কানপুরের দিকে তীব্র গতিতে ছুটছে, তখনই হঠাৎ ট্রেনের প্রায় সবগুলো কামরা লাইন থেকে ছিটকে যায়।

বিকেল চারটের মধ্যেই দোমড়ানো বগিগুলোর মধ্যে থেকে মোট ১০৩টি মৃতদেহ বের করা সম্ভব হয়। তবে রেল মন্ত্রণালয় ও প্রশাসন স্বীকার করছে, অন্তত দুটি কামরার ভেতর তারা এখনও প্রায় ঢুকতেই পারেননি বলা চলে - ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।

ভারতীয় রেলের মুখপাত্র অনিল সাক্সেনা বলছিলেন, "কানপুরের কাছে পুখরায়া স্টেশনের পাশে রাত ৩টে বেজে ১০ মিনিট নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু ভোররাতেই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন - সেই অনুযায়ী প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীদের বাঁচানোর কাজ শুরু হয়। তবে প্রথম দিকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাই।"

দুর্ঘটনার ব্যাপ্তি এতটাই বড় ছিল যে রেল প্রশাসন এবং উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারের পক্ষেও পরিস্থিতি পুরোপুরি সামলানো সম্ভব নয় - সেটা স্পষ্ট হয়ে যায় এদিন সকালেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, সরকার ভারতের ন্যাশনাল ডিস্যাস্টার রেসপন্স ফোর্সের তিনটি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়ার নির্দেশ দেয় প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বহুলোক এখনো ট্রেনের ভেতরে আটকা পড়ে আছে

তিনি বলছিলেন, "বারাণসী, গাজিয়াবাদ ও দিল্লি থেকে এনডিআরএফ-এর তিনটি দল সেখানে পৌঁছে গেছে - বাহিনীর মহাপরিচালককেও আমি বলেছি ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিতে। ঘটনাটা খুবই বিরাট - নিহতদের সকলের পরিবারকে আমি সমবেদনা জানাই। এই দুর্ঘটনার তদন্ত অবশ্যই হবে - যতদূর জানি সেই নির্দেশও জারি হয়ে গেছে।"

রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুও ইতিমধ্যে টুইট করে জানান, 'এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে'।

দুর্ঘটনার কারণ সম্বন্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার এখনও কিছু জানায়নি - তবে রেল মন্ত্রকের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, রেললাইনের কোনও ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এর পেছনে এখনও নাশকতারও কোনও প্রমাণ মেলেনি।

তদন্ত অবশ্য এখনও শুরু হয়নি, তবে প্রিয়জনদের হারানোর যন্ত্রণায় পুখরায়া গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

আজমগড়ের রুবি গুপ্তা যেমন। দশদিন বাদেই বিয়ে, বাবা আর ভাই-বোনদের সঙ্গে সে জন্যই গ্রামের বাড়িতে আসছিলেন সবাই মিলে।

ভাইবোনরা ছোটখাটো আঘাত পেলেও আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে গেছেন, শুধু কোনও হদিশ নেই বাবা রামপ্রসাদ গুপ্তার। হাসপাতালেও নেই, উদ্ধারের তালিকাতেও নেই। বাবাকে খুঁজতে যত দেরি হচ্ছে, তত অস্থির হয়ে উঠছে রুবি ও তার ভাইবোনরা।

সম্পর্কিত বিষয়