রুপি সঙ্কটে তোলপাড় ভারতের সংসদের উভয়কক্ষ

রুপি নোট সঙ্কট নিয়ে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন বিরোধীদল কংগ্রেস সমর্থকরা। ছবির কপিরাইট ইপিএ
Image caption রুপি নোট সঙ্কট নিয়ে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন বিরোধীদল কংগ্রেস সমর্থকরা।

ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট নিষিদ্ধ করার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির জেরে এযাবত দেশে অন্তত ৭০ জন মারা গেছেন বলে বিরোধীরা অভিযোগ করছেন - এবং সরকার তাদের জন্য শোকপ্রস্তাব না-নেওয়ায় বিরোধীরা সোমবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা চলতে দেননি।

একই ইস্যুতে তুমুল বাগবিতন্ডা হয়েছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভাতেও।

সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীরা অবশ্য দাবি করছেন, মৃত্যুর সংখ্যা বিরোধীরা অনেক ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে দেশের বেশির ভাগ মানুষেরই সমর্থন আছে।

সোমবার ভারতে রাজ্যসভার অধিবেশন শুরুই হয়েছিল আগের দিন কানপুরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত শতাধিক যাত্রীর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে।

কিন্তু টাকা তোলার ভোগান্তি সহ্য করতে না-পেরে যারা গত ১০-১২দিনে মারা গেছেন, তাদের জন্যও অনুরূপ শোকপ্রস্তাব নিতে হবে, বিরোধীরা এই দাবি জানানোমাত্র শুরু হয়ে যায় তীব্র বাদানুবাদ।

সভার বিরোধী দলনেতা, কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ বলেন, "গত দুসপ্তাহে টাকা তোলার লাইনে দাঁড়িয়ে যে ৭০জন মারা গেছেন তারাও তো আমাদের দেশেরই লোক - তারাও এই ভারতেরই কৃষক-মজদুর বা গরিব মানুষ - তাদের জন্য কেন শোকপ্রস্তাব আনা হবে না?"

ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদের তুমুল প্রতিবাদের মধ্যেই বিজেপি নেতা ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি অবশ্য দাবি করেন, কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়াইতে দেশের মানুষ পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন করছেন।

সত্তরজনের জন্য শোকপ্রস্তাবের দাবিকে এড়িয়ে গিয়ে মি. নাকভি বলেন, "বিরোধীদের কথায় মনে হচ্ছে তারা যেন দেশে কালো টাকার কারবারিদেরই সমর্থন করছেন।"

ছবির কপিরাইট এএফপি
Image caption মুম্বাইতে বাতিল হওয়া রুপির ছবির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ফটো তুলছেন একজন

কিন্তু বিরোধীরাই বা কীভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন এই ৭০ জন মারা গেছেন টাকা তোলার ভোগান্তির জেরেই?

সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কট্টর অবস্থান নিয়েছে যারা, সেই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা এমপি সুখেন্দুশেখর রায় এ প্রশ্নের জবাবে বিবিসিকে বলছিলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের কথা।

"মিডিয়াতেই জ্বলন্ত উদাহরণ আছে মানুষ টাকা জোগাড় করতে না-পেরে আত্মহত্যা করেছেন, টাকা তোলার লাইনে দাঁড়িয়ে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে; এমন কী অন্ধ্রে একজন ৪৮ বছরের যুবক ব্যাঙ্ক অফিসার কাজের ধকল সইতে না-পেরে নিজের ব্যাঙ্কের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন", বলছিলেন তিনি।

মি. রায় আরও বলছিলেন, "মৃত্যুর কারণ তো হৃদরোগ বুঝলাম। কিন্তু কেন সেই লোকটি হৃদরোগ আক্রান্ত হলেন, সে ব্যাপারে মিডিয়া কিন্তু এই টাকা তোলার ভোগান্তির কথাই বলছে। আর সরকার যদি এমন অমানবিক মন্তব্য করে যে প্রমাণ করতে হবে তাদের মৃত্যু সত্যিই ওই কারণে কি না - তাহলে তারা তদন্ত করে দেখুক না!"

সেরকম কোনও তদন্ত করার ইচ্ছে তাদের আছে বলে সরকার অবশ্য কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।

বরং রাজ্যসভার নেতা, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, রুল ২৬৭-র অধীনে আনা নোটিশে সংসদে কালো টাকা নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল সরকার চায় বিরোধীরা সেটাতেই অংশ নিন।

সরকার আরও অভিযোগ করছে, বিরোধীরা এই বিতর্ক থেকে পালাতে চাইছে - এই সিদ্ধান্তের ভালমন্দ নিয়ে আলোচনায় তাদের কোনও আগ্রহ নেই।

সংসদে এই তুমুল বিতন্ডার মধ্যেই এখনও ঝুলে আছে সেই ৭০ জন ভারতীয় নাগরিকের স্বীকৃতি - দেশে দুর্নীতি আর কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়াইতে তারা শহীদের মর্যাদা পান কি পান না।

সম্পর্কিত বিষয়