এক রাতে রোহিঙ্গাদের ২০টি নৌকা ফিরিয়ে দিয়েছে বিজিবি

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নাফ নদী বরাবর বিজিবির টহল

নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টার সময় গত রাতে প্রায় ২০টি নৌকা ভর্তি রোহিঙ্গা মুসলিমকে 'ফিরিয়ে দিয়েছে' সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

টেকনাফ থেকে বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, নাফ নদী সংলগ্ন বাংলাদেশ -মিয়ানমার সীমান্তে গত রাতে ৬টি পয়েন্টের প্রতিটিতে দু' থেকে তিনটি - কোন কোন ক্ষেত্রে চারটি পর্যন্ত - নৌকা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল, যা তাদের জওয়ানরা প্রতিহত করেছেন।

নৌকার আরোহীরা পরবর্তীতে মিয়ানমারে ফেরৎ গিয়েছে - বিবিসি বাংলাকে টেলিফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ।

এ নৌকাগুলোতে প্রায় ১৫০ জন লোক ছিল বলে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: বার্মা মানে নিশ্চিত মৃত্যু, বলছেন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা

সীমান্তে কড়াকড়ি সত্ত্বেও প্রাণ বাঁচাতে আসছে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো

এ ছাড়া সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে আরেকটি জায়গায় ৮৬ জন রোহিঙ্গাকে 'পুশ ব্যাক' করা হয়েছে।

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption নাফ নদীতে বিজিবির টহল

বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এবং কোস্ট গার্ডকে এ জন্য উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

বিভিন্ন খবরে বলা হচ্ছে, গত কয়েকদিনে শত শত রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ বলেন, তারা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য সতর্কাবস্থায় আছেন। কিন্তু তার পরও দীর্ঘ এই সীমান্তে ফাঁকফোকর গলে কেউ ঢুকছে না - এটা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।

তিনি বলেন গত সপ্তাহখানেক সময়ের মধ্যে প্রতিদিনই ১৫-২০টি করে নৌকা ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

তারা সবাই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সহিংস পরিস্থিতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে আসছে।

এই রাজ্যে এক আক্রমণে কয়েকজন সীমান্তরক্ষী সেনা নিহত হবার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা এলাকাগুলোতে এক অভিযান শুরু করে। এতে শতাধিক লোক নিহত এবং আনুমানিক ৩০ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়।

জাতিসংঘ ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের সীমান্ত খুলে দেবার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।