বাংলাদেশের ব্যবসায়ী রাগিব আলীকে বাংলাদেশী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলো ভারত

বিবিসি, ভারত, বাংলাদেশ ছবির কপিরাইট Ragib-rabea Medical College Website
Image caption সিলেটের ব্যবসায়ী রাগিব আলী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পরিবারসহ ভারতে অবস্থান করছিলেন।

বাংলাদেশের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হওয়া ব্যবসায়ী রাগিব আলীকে আজ দুপুরে বাংলাদেশের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ সদস্যরা। সিলেটের বিয়ানীবাজারের সুতারখালী সীমান্ত এলাকায় বেলা আড়াইটার পরে বাংলাদেশের পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বিবিসিকে বলেন, এরপর বিশ্বনাথ থানা পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয় মি. আলীকে।

এর আগে আসামের করিমগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট প্রদীপ রঞ্জন কর বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন, আজই মি. আলকে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি বলেন,"মি. আলীর ভারতীয় ভিসার মেয়াদ আজই শেষ হচ্ছে। আমরা জানতে পেরেছি বাংলাদেশে তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী আছে, সেজন্যই ভিসার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না"।

মি. বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের একটি হিন্দু দেবত্তোর সম্পত্তি বেদখলের অভিযোগ রয়েছে।

১৯১৫ সালে এক হিন্দু ব্যক্তি নিজের চা বাগান এলাকার প্রায় ৪২৩ একর জমি এক মন্দিরের জন্য দান করে দেন। সেই জমিটিই সই জালিয়াতি করে বেদখল করে নিয়েছিলেন মি. আলী আর তাঁর ছেলে, এমনটাই অভিযোগ।

গত মাসেই রাগিব আলীর ছেলে আব্দুল হাইকে ভারত থেকে ফেরার সময়ে জকিগঞ্জ সীমান্ত চেক পোস্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ছেলে, মেয়ে এবং জামাই সহ ভারতে গিয়েছিলেন রাগিব আলী। এর আগে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে মি. আলির ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। করিমগঞ্জের এস পি মি. কর বলেন, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা তারা তখন জানতেন না।

"তখন আমরা জানতাম না যে বাংলাদেশ পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। সেই খবর পাওয়ার পরে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে আমরা নিশ্চিত হই যে সত্যিই তাঁকে সেদেশে খোঁজা হচ্ছে। তখনই আমি মতামত পাঠিয়ে দিই ওপর মহলে, যাতে মি. আলীর ভিসার মেয়াদ আর বাড়ানো না হয়"।

বাংলাদেশ সরকারের তরফে তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করে মি. আলীকে ফেরত পাঠানোর আবেদন জানানো হয় নি বলেও জানিয়েছেন মি. কর।

তবে যেহেতু এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বাংলাদেশ থেকে গ্রেপ্তার এড়াতেই তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হল। আজ ভিসার মেয়াদ শেষ, অর্থাৎ ভারতে থাকার আইনী অধিকার আর নেই মি. আলীর।

সিলেটের তারাপুর চা-বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও ভূমি আত্মসাতের দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ আছে, চা-বাগান এলাকায় রাগীব আলী ৩৩৭টি প্লট বানিয়ে বিক্রি করেন। এবছরের মে মাসে রাগীব আলীর দখলে থাকা তারাপুর চা-বাগান ফিরিয়ে নেওয়ার অভিযান শুরু করে সিলেটের জেলা প্রশাসন।