মিয়ানমারের বিপন্ন রোহিঙ্গাদের আরও নৌকা ফেরত পাঠানো হয়েছে

নাফ নদীতে বিজিবির সীমান্ত প্রহরা। ছবির কপিরাইট এএফপি
Image caption নাফ নদীতে বিজিবির সীমান্ত প্রহরা।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযানের মুখে বিপন্ন রোহিঙ্গাদের আরো নৌকা বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠিয়েছে।

টেকনাফে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিজিবি'র অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বিবিসিকে বলছেন, বৃহস্পতিবার ভোর চারটা থেকে ছয়টার মধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে যাত্রী বোঝাই সাতটা নৌকা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে।

কিন্তু সীমান্তের চারটে পয়েন্টে এদের আটক করা হয় এবং নৌকাগুলোকে ফেরত পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।

নৌকাগুলিতে শতাধিক রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষ ছিল সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন।

অবশ্য টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা জানাছেন, বিজিবি'র কঠোর প্রহরা সত্ত্বেও সীমান্ত পথে প্রকাশ্যে কিংবা গোপণে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

ওদিকে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ পথে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাচারের দায়ে টেকনাফের ভ্রাম্যমাণ আদালত আটজন দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে।

টেকনাফ থানার ওসি আব্দুল মজিদ বিবিসিকে একথা নিশ্চিত করেছেন। গতকালও একই অভিযোগে কক্সবাজারের উখিয়াতে তিনজন দালালের সাজা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের প্রতি সরকারের কঠোর মনোভাব সত্ত্বেও সীমান্তের ওপারে চরম সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে পড়া মানুষদের প্রতি বাংলাদেশিদের সহানুভূতি দৃশ্যত বাড়ছে।

তবে মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের দাবি বরাবরই 'অতিরঞ্জিত' বলে বর্ণনা করে থাকে।

বর্মী সরকারের একজন মুখপাত্র য থে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আসলে রাখাইনে যা ঘটছে, তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

ছবির কপিরাইট YE AUNG THU
Image caption রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে

ওদিকে বাংলাদেশ সরকার বৃহস্পতিবার স্বীকার করেছে যে মানবিক কারণে তারা ইতোমধ্যে বেশ কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছে।

একই সাথে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে এক বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্র মন্ত্রনালয় থেকে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় মন্ত্রী বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে মিয়ানমারে নতুন সরকার আসার পর বাংলাদেশের সহযোগিতার বিস্তারিত বর্ণণা দিয়েছেন।

তিনি আশা করেছেন যে মিয়ানমারের পরিস্ষিতি স্বাভাবিক হবে এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া তাদের নাগরিকরা ফেরত যেতে পারবে।

সংকট মোকাবেলায় সম্ভাব্য সব উপায়ে মিয়ানমারকে সহায়তার কথা বলা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন বিদেশী প্রতিনিধিরা সবাই যেন নিজ দেশকে অবহিত করে যাতে করে এ সংকটের সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

এর আগে দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন মানবিক কারনেই কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে।

যুক্তি হিসেবে তিনি বলেছেন যে সব লোকজন আটকানো বেশ কঠিন। আর কারও কারও মানবিক পরিস্থিতি এতো খারাপ যে তাদের ঢুকতে না দিয়ে পারা যায়না।

তিনি এও জানিয়েছেন যে বাংলাদেশে যারা অনুপ্রবেশ করছে তাদের খাবার ঔষধসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত বিষয়