বিজ্ঞানের আসর
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

নাৎসি যুদ্ধাপরাধের বিচারে প্রযুক্তির ব্যবহার

গত প্রায় ৭০ বছর ধরে জার্মানিতে চলছে নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।

এতো বছর পরেও এই বিচারে কিভাবে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আদালতের সহযোগিতায় এখন ব্যবহার করা হচ্ছে প্রযুক্তিকেও। বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন আউসভিৎস বন্দী শিবিরের ভার্চুয়াল মডেল।

নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছিলো ১৯৪৫ সালের ২০শে নভেম্বর।

সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যারা ইহুদি নিধনযজ্ঞের সাথে জড়িত ছিলো তাদের।

৭১ বছর পরে এসে এখনও সেই বিচার অব্যাহত রয়েছে।

সেই বিচারকাজে সহযোগিতা করার জন্যে মিউনিখে বাভারিয়ান স্টেইট ক্রিমিনাল অফিস আউসভিৎস বন্দী শিবিরের একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ভার্সন তৈরি করেছে।

অর্থাৎ সেসময় এই ক্যাম্পটি দেখতে ক্যামন ছিলো তার একটি ডিজিটাল ইমেজ তৈরি করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের পেছনে আছেন ডিজিটাল ছবি তৈরির ব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞ রাল্ফ ব্রেকার।

Image caption বন্দী শিবিরের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ভার্সন

তিনি বলেছেন, "ডিজিটাল এই ছবিটি তৈরি করতে গিয়ে আউসভিৎস বন্দী শিবিরে আমরা পাঁচদিন কাটিয়েছি। সেখানে যেসব ভবন আছে লেজার স্ক্যানের মাধ্যমে সেগুলোর ছবি তোলা হয়েছে। আর এই পুরো প্রকল্পটি শেষ করতে আমাদের সময় লেগেছে ছয় মাসের মতো।"

ধারণা করা হয় এই আউসভিৎস বন্দী শিবিরে ১১ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়, যাদের বেশিরভাগই ইহুদি। আর বেশিরভাগ লোককেই হত্যা করা হয় গ্যাসে চেম্বারের ভেতরে ঢুকিয়ে।

তাদেরকে গ্যাসের চুল্লিতে ঢুকিয়ে সায়ানাইড-ভিত্তিক কীটনাশক জাইক্লন বি ছেড়ে দিলে দম বন্ধ হয়ে তারা মারা যান। তারপর তাদের বেশিরভাগেরই মৃতদেহ চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

প্রথম দিকে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছিলো কম্পিউটারের মনিটরে দেখার জন্যে। কিন্তু এখন এটিকে ডিজিটালি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি চশমা চোখে দিয়ে মডেলটির দিকে তাকালে এই ক্যাম্পটিকে যেকোনো দিক থেকে দেখা সম্ভব।

যুদ্ধের শেষের দিকে হিটলারের বাহিনী এসএএস ক্যাম্পের বেশিরভাগ ফাইল এবং দলিল দস্তাবেজ ধ্বংস করে ফেলে। ধ্বংস করে ফেলা হয় গ্যাস চেম্বার এবং চুল্লিগুলোকেও।

কিন্তু একটি রেখে দেওয়া হয় বিমান হামলার সময় তার ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার জন্যে।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption এই বন্দী শিবিরে বহু ই্হুদীকে হত্যা করা হয়

ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এই চেম্বারটির ওপর ভিত্তি করে আউসভিৎস ক্যাম্পের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ভার্সনটি তৈরি করা হয়েছে।

কিন্তু যেকোনো রকমের মডেল হলেই তো আর চলে না। বিচারকাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে এই ক্যাম্পটিকে যতোটা সম্ভব বাস্তবের সাথে মিল রেখে বানাতে হবে।

রাল্ফ ব্রেকার বলেছেন, "আউসভিৎসের যেসব আর্কাইভ আছে সেখানে আমরা খুঁজে দেখেছি। ভাগ্য ভালো যে আমরা ওই বন্দী শিবিরের ভবনগুলোর ব্লু প্রিন্ট বা নকশা খুঁজে পেয়েছি।"

"যেসব ভবন ধ্বংস করা হয়েছে সেগুলোর ব্লু প্রিন্টও আমরা পেয়েছি। এসবের সাহায্যে বাস্তবের সাথে মিল রেখে ভার্চুয়াল বন্দী শিবির তৈরির কাজটা সম্ভব হয়েছে।"

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আদালতে এই ভার্চুয়াল মডেল এখনও ব্যবহৃত হয়নি।

তবে এর আগে, সবশেষ বিচারের সময় থ্রি ডি কম্পিউটারে তৈরি মডেল ব্যবহার করা হয়েছে।

এটি ছিলো এবছরের জুন মাসে, এসএএস ক্যাম্পের রক্ষী রাইনহোল্ড হ্যানিং-এর বিচারের সময়।

প্রায় দুই লাখ মানুষকে হত্যায় সহযোগিতা করার জন্যে আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

ছবির কপিরাইট Bundesarchiv
Image caption যুদ্ধাপরাধী রাইনহোল্ড হ্যানিং

মি. ব্রেকার বলছেন, এই বিচারের সময় থ্রিডি মডেল প্রসিকিউশন বা সরকারি কৌসুলিদের সহায়তা করেছে।

তিনি বলেন, "এই বিচারের সময় আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেসময় তার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে থ্রিডি মডেলের কথা উল্লেখ করেছে। বিচারকরা বলেছেন, এই মডেলের কারণে এটা বোঝা সম্ভব হয়েছে যে ওয়াচ টাওয়ার থেকে রেইনহোল্ড হ্যানিং কি দেখতে পেয়েছেন।"

নাৎসি আমলের শীর্ষস্থানীয় বহু কর্মকর্তারই বিচার হয়েছে তাদের অপরাধের জন্যে।

আবার একই সাথে এসএএস ফোর্সের অনেক ক্ষুদে কর্মকর্তা, অপরাধের সাথে জড়িত থাকা সত্বেও, বিচার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

রাল্ফ ব্রেকার মনে করেন, অপরাধীদের বিচারে এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ভার্সন ভবিষ্যতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, "আমি মনে করি, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি পুলিশের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার হয়ে উঠবে। শুধু জার্মানিতেই নয়, সারা পৃথিবীতেই। কারণ যেকোনো অপরাধের ঘটনা ঘটে যাওয়ার বহু বছর পরও এই ভার্চুয়াল মডেলের মাধ্যমে অপরাধের বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।"

মৎস্য জরিপ

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় আগামী ডিসেম্বর মাসে কর্তৃপক্ষ একটি মৎস্য জরিপ শুরু করতে যাচ্ছে।

এই জরিপের উদ্দেশ্য হচ্ছে, সাগরে কি পরিমাণে মাছ আছে এবং কি কি প্রজাতির মাছ সেখানে বিচরণ করছে সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া।

এই জরিপটি চালাতে মালয়েশিয়া থেকে দেড়শো কোটি টাকা খরচ করে বিশেষ একটি জাহাজও আনা হয়েছে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার নৌকা

বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, আগামী তিন বছর ধরে এই জরিপ কাজ চলবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসেম্বর থেকে মে জুন মাস পর্যন্ত, সমুদ্র যখন তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকে, এই মওসুমে, জরিপটি চালানো হবে।

এই জরিপটি নিয়ে শুনুন বাংলাদেশে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদের সাক্ষাৎকার।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান