ভারতে দেশজুড়ে মোদি-বিরোধী বিক্ষোভ

ছবির কপিরাইট এএফপি
Image caption শিলিগুড়িতে কংগ্রেস সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রী কুশপুত্তলিকা দাহ করছেন।

ভারতে বড় অঙ্কের নোট বাতিলের জেরে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, তার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলো সোমবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদ হয়েছে কলকাতায়, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি 'রাজনীতি থেকে সরিয়েই ছাড়বেন'।

দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস অবশ্য বলেছে, তারা কোনও 'ভারত-বনধ' ডাকেনি, দেশের মানুষ আজ শুধু তাদের 'আক্রোশ' প্রদর্শন করছেন।

এই চাপের মুখে সরকার অবশ্য এখনও নতি স্বীকারের কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। তবে কালো টাকা নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্কের সময় প্রধানমন্ত্রী হাজির থাকবেন বলে তারা কথা দিয়েছে।

দক্ষিণ ভারতের ব্যাঙ্গালোরেও কংগ্রেস ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ডাকে বেশ বড় মাপের বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

এ মাসের গোড়ায় রাতারাতি ৫০০ ও ১০০০ রুপির পুরনো নোট অচল হয়ে যাওয়ার জেরে আমজনতাকে যে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তার প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ।

দেশের প্রধান বিরোধী নেতাদের মধ্যে একমাত্র বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁর রাজ্যের রাজধানী পাটনাতেও বামপন্থী দল সিপিআইএমএল বেশ বড়সড় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

ছবির কপিরাইট এপি
Image caption কলকাতায় বামপন্থীদের মিছিল।

তবে সবচেয়ে বিচিত্র অবস্থা ছিল পশ্চিমবঙ্গে। মানুষের ভোগান্তির প্রতিবাদে রাজ্যে বনধ ডেকেছিলেন বামপন্থীরা। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস সর্বশক্তিতে সেই বনধের প্রতিবাদ জানায়।

বনধে তেমন সাড়া মেলেনি, এমন কী বিশেষ লোকও হয়নি বামপন্থীদের মিছিলে।

কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরে একই ইস্যুতে শহরের বুকে মিছিল করে কলকাতা অচল করে দেন তৃণমূলের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই। এমন কী, মিছিলের শেষে এক জনসভা থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দেন কড়া ভাষায়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সেই সভায় বলেন, "এই দেশে ১২৭ কোটি মানুষ - খেলাটা অত সহজ নয়। আজ সবাই শপথ নিয়ে বলুন, হয় মরবো কিংবা বাঁচবো - কিন্তু নরেন্দ্র মোদিকে ভারতবর্ষের রাজনীতি থেকে সরাব।"

প্রধানমন্ত্রীকে 'মোদিবাবু' বলে সম্বোধন করে তিনি আরও বলেন, "ভারতবর্ষের রাজনীতিতে আপনার মতো ডিক্টেটরদের কোনও জায়গা নেই, এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে।"

দেশের নানা প্রান্তে এই ধরনের বিক্ষোভ সত্ত্বেও এটা যে কোনও মতেই ভারত বনধ নয়, সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা ছিল কংগ্রেসের দিক থেকে। রাজ্যসভায় দলের নেতা গুলাম নবি আজাদ দাবি করেন, এটা শুধু মানুষের আক্রোশ।

ছবির কপিরাইট এপি
Image caption দিল্লিতে পুলিশের বাধার মুখে কংগ্রেসপন্থী ছাত্রদের মিছিল।

তিনি বলেন, "সতেরো-আঠারোটা বিরোধী দল মিলে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছে, কিন্তু ভারত বনধের কথা কখনওই হয়নি। কিন্তু লোকের মুখে মুখে ভারত-বনধ কথাটাই চালু হয়ে গেছে। আমরা শুধু বলছি, সরকার এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিলো - কিন্তু কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই। তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই তারা অর্ধেক দেশকে আজ রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে।"

বিরোধীরা সোমবার পার্লামেন্টও চলতে দেননি। সংসদ ভবনের সামনে যৌথভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। আর সংসদের ভেতরে বিরোধীদের তুমুল বাধার মধ্যে সরকার শুধু এটুকু কথা দিয়েছে - কালো টাকা নিয়ে সভায় বিতর্ক হলে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, "বিতর্কে বিরোধীদের মতামত শুনতে আমরা রাজি। আর তারা যদি চান প্রধানমন্ত্রীকেও সেখানে থাকতে হবে, তাহলে বেশ - তিনিও নিশ্চয় থাকবেন, প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করবেন আমরা কথা দিচ্ছি।"

দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ বা মমতা ব্যানার্জির মতো রাজনীতিকদের হুমকির পরও সরকার অবশ্য এখনও বলছে - নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

সাময়িক অসুবিধা হলেও দেশের বেশির ভাগ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করছেন বলেই তাদের দাবি।

সম্পর্কিত বিষয়