'মধ্যপ্রাচ্যে কোণঠাসা ইসলামিক স্টেট হামলা চালাতে পারে ইউরোপে'

২০১৫ সালের নভেম্বরের হামলার পর থেকে প্যারিসে সতর্কাবস্থা জারি রয়েছে ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ২০১৫ সালের নভেম্বরের হামলার পর থেকে প্যারিসে সতর্কাবস্থা জারি রয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে পরাজয়ের সম্মুখীন ইসলামিক স্টেট এখন ইউরোপের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ইউরোপীয় পুলিশ সংস্থা 'ইউরোপোল'।

সংস্থাটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে এখন ইসলামিক স্টেটের অনেক জঙ্গি ইউরোপে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। কয়েক ডজন জঙ্গি এরই মধ্যে হয়তো ইউরোপে ঢুকে পড়েছে, যাদের হামলা চালানোর মত সক্ষমতা আছে। এরা হয়তো গাড়ি বোমা হামলা, অপহরণ এবং চাঁদাবাজীর মতো কাজে লিপ্ত হতে পারে।

তবে পরমাণু কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশংকা নাকচ করে দিয়েছে ইউরোপোল।

সংস্থাটি বলছে, ইসলামিক স্টেট মূলত 'সফট টার্গেটে' হামলা চালানোর পক্ষপাতী।

সিরিয়া থেকে যে শরণার্থীরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের কাউকে কাউকে ইসলামিক স্টেট 'রিক্রুট' করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশংকা করছেন ইউরোপীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

২০১৫ সাল থেকে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার পর ইউরোপে ইসলামী সন্ত্রাসবাদের বিপদ নিয়ে নতুন আশংকা তৈরি হয়েছে।

সেবছরের জানুয়ারীতে প্যারিসে শার্লি হেবদো রঙ্গ ম্যাগাজিনের অফিসে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ঐ সাময়িকির সম্পাদক সহ অনেককে হত্যা করা হয়।

২০১৫ সালের নভেম্বরে প্যারিসের এক কনসার্ট হলে, বিভিন্ন বার এবং রেস্টুরেন্টে হামলায় নিহত হয় ১৩০ জন।

এ বছরের মার্চে ব্রাসেলস বিমান বন্দরে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয় ৩২ জন।

১৪ই জুলাই বাস্তিল দিবসের শোভাযাত্রার সময় ফ্রান্সের নিস শহরে জনতার ওপর দিয়ে ট্রাক চালিয়ে দিয়ে হত্যা করা হয় আশি জনের বেশি।

এ বছরের জুলাইতে ছোট আকারে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয় জার্মানিতে। এসব হামলায় নিহত হয় দশজন।

ইউরোপোলের পরিচালক রব ওয়েইনরাইট বলেছেন, ইউরোপে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঝুঁকি যে এই মূহুর্তে কত বড়, তা সবাই স্বীকার করেন। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় সবার সহযোগিতা দরকার।