অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে সাইদুল

পশ্চিমা বিশ্বে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে তার অনেক ঘাটতি আছে।
Image caption পশ্চিমা বিশ্বে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে তার অনেক ঘাটতি আছে।

ছয় বছর বয়সে টাইফয়েডের কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন সাইদুল হক। জন্মগত ভাবে দৃষ্টি শক্তি সম্পন্ন মি. হক ও তার পরিবারের জন্য ছিল সেটা এক বড় ধাক্কা।

পরে ডাক্তারের পরামর্শে তিনি পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু সেসময় ব্রেইল পদ্ধতি মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে ছিল না, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়ানোর মত প্রশিক্ষিত শিক্ষিকও ছিলেন না।

তবে মি. হক বলছিলেন মানুষের যে নেতিবাচক মনোভাব সেটা তাকে ব্যথিত করেছে সবচেয়ে বেশি। " আমি যখন ক্লাস ফাইভে উঠি তখন বৃত্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য পারমিশন আনতে যায়, ওনারা আমাকে তাড়িয়ে দিলেন। বললেন তোমার এত বড় সাহস, কে তোমাকে ঘর থেকে বের হতে বলেছে?"

বৃত্তি পরীক্ষা দেয়ার পারমিশন তো পেলাম না বরং আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছিল, বলছিলেন মি. হক।

মি. হকের মত প্রতিবন্ধীদের জন্য ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে তেসরা ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস।

পশ্চিমা বিশ্বে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে তার অনেক ঘাটতি আছে। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কখনো-কখনো নেতিবাচক থাকে।

কিন্তু তার মধ্যেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কেউ-কেউ সফলতা অর্জন করেন। এদের একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাইদুল হক।

বাবা মায়ের ছিল সময়ের উদ্বেগ। তবে পরিবারের সহায়তা ও বন্ধু-বান্ধবদের সহায়তায় সেসব দিন পাড় করেছি- বলছিলেন তিনি। তিনি স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরে স্কলারশিপ পেয়ে আমেরিকায় পড়াশোনা করেন।

বর্তমানে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার কর্ণধার তিনি।