বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সাহায্যের নতুন প্রস্তাব পশ্চিমবঙ্গের

বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ঢাকাকে সাহায্যের নতুন প্রস্তাব পশ্চিমবঙ্গের
Image caption বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ঢাকাকে সাহায্যের নতুন প্রস্তাব পশ্চিমবঙ্গের

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের কর্মকর্তারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদ্যুৎ কেনাই যে বাংলাদেশের পক্ষে সব থেকে সুবিধাজনক, সেটাও উল্লেখ করেছিলেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

তারপরেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংবহন সংস্থাগুলি বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরি করে যে কী কী ভাবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করা যেতে পারে।

রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চ্যাটার্জী বিবিসিকে জানিয়েছেন, "আমাদের অফিসারেরা যে প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন, তার মধ্যে যেমন থাকছে বাংলাদেশকে আরও বেশী বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা, তেমনই থাকবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংবহন ক্ষেত্রের মতো কারিগরি বিষয়ে সাহায্যের প্রস্তাবও।"

পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে বাংলাদেশের ভেড়ামারা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন দিয়ে ভারত দিনে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাঠায়।

এর মধ্যে ২৫০ মেগাওয়াট দেয় জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কর্পোরেশন বা এন টি পি সি। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী ওই বিদ্যুতের দাম খুবই কম রাখা আছে। এছাড়া আরও ২৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ রফতানি করে পশ্চিমবঙ্গ - যেটার দাম বাজার অনুযায়ী ঠিক হয়ে থাকে।

২০১৩ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থা পাওয়ার ট্রেডিং কর্পোরেশনের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ রফতানি করা হয়।

আরো পড়ুন:

অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে সাইদুল

টেলিভিশন অনুষ্ঠান তৈরিতে দর্শকদের চাহিদা কতটা ভাবা হচ্ছে?

পশ্চিবমঙ্গের বিদ্যুৎ মন্ত্রী মি. চ্যাটার্জী বলছেন, "আমাদের রাজ্যে প্রায় সাড়ে দশ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। নিজেদের চাহিদা মেটাতে লাগে সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ। তাই দুহাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ তো এখনই রফতানি করতে পারি আমরা। তবে সবটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশ কতটা বিদ্যুৎ নিতে চাইছে, তার ওপরে। ওদের চাহিদা মতোই রফতানি করতে প্রস্তুত আমরা।"

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে যা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, তার সঙ্গে নতুন কয়েকটি ইউনিট থেকেও বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে নিকট ভবিষ্যতে।

দৈনিক বিদ্যুৎ রফতানি ছাড়া বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ, সংবহন, কারিগরি পরামর্শ দেওয়া আর গ্রামীণ বৈদ্যুতিকরণ প্রভৃতি বিষয়েও প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের কর্মকর্তারা।