শাকিলের মৃত্যু: ৬ জনকে জেরা, ময়না তদন্তও হবে

ছবির কপিরাইট Mahbubul Hoque Shakil Facebook
Image caption মাহবুবুল হক শাকিল

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল আজ ঢাকায় মারা যাবার পর সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার তার মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা হবে।

মি. শাকিল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হলেও, তার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে রেস্তোরাঁর কয়েকজন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

পুলিশ এবং ঘটনাস্থলে যাওয়া সংবাদকর্মীরা জানাচ্ছেন, মাহবুবুল হক শাকিলের মৃত্যুর খবরটি প্রথম পাওয়া যায় দুপুর নাগাদ। গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে, তার ড্রাইভারের মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনকে খবর দেয়া হয়।

সেই রেস্তোরাঁতেই একজন চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপরই সেখানে তার স্বজনদের পাশাপাশি কয়েকজন মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নেতারা আসেন। পুলিশও আসে। সন্ধ্যা নাগাদ তার মরদেহ ঢাকার বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। আগামীকাল ময়নাতদন্তের পর দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

পুলিশ কি কিছু সন্দেহ করছে?

পুলিশ আসলে পরিষ্কার করে কোন সন্দেহের কথা জানায়নি। মি. হক হৃদরোগে মারা গেছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তবে তার মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হতেই আগামীকাল ময়নাতদন্ত করা হবে বলে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিআইডির ফরেনসিক টিম এবং পুলিশের কয়েকটি টিমও সেখানে কাজ করছে। আপাতত সামদাদো নামের ওই রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং রেস্তোরাঁর ছয়জন কর্মীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মাহবুবুল হক শাকিল ২০০৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডেপুটি প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সালে তাকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মি: শাকিলকে অনেকেই কবি হিসেবে জানতেন।

এক সময় তিনি আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। ১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণকারী মাহবুবুল হক শাকিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

সম্পর্কিত বিষয়