সিরিয়ায় পূর্ব আলেপ্পো শহরে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে; আবার শুরু হয়েছে জোর লড়াই

পূর্ব আলেপ্পোয় আবার শুরু হয়েছে তুমুল লড়াই ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption পূর্ব আলেপ্পোয় আবার শুরু হয়েছে তুমুল লড়াই

সিরিয়ার পূর্ব আলেপ্পো শহরে একদিন আগে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হলেও তা ভেঙে গেছে।

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বাদবাকি এলাকার উপর বিমানহামলা আবার শুরু হয়েছে এবং বিদ্রোহী যোদ্ধা ও সরকার সমর্থিত বাহিনীর সধ্যে জোর লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বেসামরিক মানুষজন এবং যোদ্ধাদের আলেপ্পো থেকে সরিয়ে নেবার জন্য এই যুদ্ধবিরতি হয়েছিল।

আটকে পড়া বেসামরিক লোকজন এবং বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল।

অনেকগুলো বাস এনে রাখা হয়েছিল কাছাকাছি। কিন্তু সেটা হয়নি। যেসব বাসে করে সাধারণ মানুষজনকে বের করে আনার কথা ছিল সেগুলো দৃশ্যত খালি পড়ে আছে।

আরও পড়তে পারেন:

আলেপ্পোর জয় সিরিয়ায় যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে

সিরিয়ার আলেপ্পোতে পিছু হটছে বিদ্রোহী বাহিনী

সিরিয়ার টিভিতে বলা হচ্ছে, বিদ্রোহীদের ছোঁড়া রকেটে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ছয়জন বেসামরিক লোক মারা গেছে। অনেকেই আহত হয়েছে।

বিদ্রোহীরা এখন পূর্ব আলেপ্পোর দুই বর্গমাইল এলাকার মত জায়গায় আটকা পড়েছে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption বেসামরিক মানুষ ও বিদ্রোহী যোদ্ধাদের আলেপ্পো থেকে সরিয়ে নেবার জন্য বাস প্রস্তুত রাখা হলেও সেগুলো খালিই পড়ে রয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টাফান দ্য মিস্তুরা হিসাব দিয়েছেন দেড় হাজারের মত বিদ্রোহী যোদ্ধা সেখানে আছে, এবং ৫০ হাজারের মত বেসামরিক লোক।

তবে লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী হেযবোল্লাহ, যারা আসাদ সরকারের হয়ে লড়াই করছে, তাদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা বলছে পনের হাজারের মত লোক আলেপ্পো ছেড়ে যেতে চায়, যাদের মধ্যে চার হাজার যোদ্ধা রয়েছে।

যে চিত্র বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে তাতে বলা হচ্ছে খাবার নেই, হাসপাতাল কাজ করছে না। মানুষজন আহত হচ্ছে। উদ্ধারের জন্য কেউ নেই।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে শ'খানেকের মত শিশুকে নিয়ে। বলা হচ্ছে, অভিভাবকহীন এসব শিশু একটি ভবনে আটকে রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির উদ্যোক্তা ছিল তুরস্ক এবং রাশিয়া। তারা বলেছিল দু পক্ষ গোলাগুলি করবে না।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption পূর্ব আলেপ্পো শহরে ঘরবাড়ি সব ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে- পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

গতরাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক বৈঠকে রাশিয়ার দূত ভিতালি চুরকিন ঘোষণা করে দেন, আলেপ্পোতে সামরিক তৎপরতা শেষ হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী ভোর পাঁচটা থেকে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের হালকা অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে আসার কথা ছিল। তাদের বাসে করে নিরাপদে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিবে পৌঁছে দেওয়া হবে চুক্তিতে এমন কথা বলা হয়েছিল ।

কিন্তু এই প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ার জন্য বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সিরিয়ার সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। তারা বলছে সরকার নাকি শর্ত দিয়েছে, আলেপ্পোর কাছাকাছি কিছু এলাকা, যেগুলো বিদ্রোহীরা ঘিরে রেখেছে, সেখান থেকে সরকার-পন্থী মিলিশিয়া এবং আহত লোকজনকে চলে যেতে দিতে হবে। তারপরই ভেঙ্গে পড়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি, এবং লড়াই আবার শুরু হয়েছে।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption কিছু কিছু বাসিন্দা শহর ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়া এবং সিরিয়ার সরকার বলছে বিদ্রোহীরাই প্রথমে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গোলাবর্ষণ শুরু করে। যার ফলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে বলে তারা বলছে।

তবে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বাঁচানো যায় কীনা তার জন্য তুরস্কের দিক থেকে চেষ্টা শুরু হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন তিনি রাশিয়া এবং ইরানের সাথে কথা বলছেন।

আরও পড়তে পারেন:

আলেপ্পো ইস্যুতে মস্কো-প্যারিস মুখোমুখি, পুতিনের সফর স্থগিত

আল-কায়েদাপন্থীদের সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র: রাশিয়া

খবর পাওয়া যাচ্ছে, চুক্তি ভেঙ্গে যাওয়ায় ক্ষেপে গেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান। তিনি আজ বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে সরাসরি কথা বলতে চেয়েছেন।

ক্রেমলিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আজ আরো পরের দিকে মিঃ এরদোয়ান এবং মিঃ পুতিনের মধ্যে টেলিফোনে কথা হবে।

আলেপ্পোর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ হয়ত সেই টেলিফোন আলাপের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।

সম্পর্কিত বিষয়