এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি মেয়র শিরিয়া খাতুন: ধর্মীয় পরিচয়ে রাজনীতি করবেন না

শিরিয়া খাতুন, লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র। বিরোধী লেবার পার্টির হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে রয়েছেন ২০০০ সাল থেকে এবং এবার নিয়ে তিন দফা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে তার অফিসে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিবিসি বাংলার শাকিল আনোয়ারকে তিনি তার রাজনীতিতে আসা, ব্রিটেনে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর ভালোমন্দ, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং পূর্ব পুরুষের দেশ বাংলাদেশ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

শিরিয়া খাতুনের জন্ম উত্তর ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম শহরে। বাবা সেখানকার একটি কারখানায় কাজ করতেন। সেই সুবাদে শ্রমিক রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

"বাবাকে দেখেই একদম ছোট বয়স থেকে রাজনীতির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি আমি। আমার বাবাও আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। মাও আপত্তি করেননি। তারা কখনই আমার ওপর চাপ দেননি যে আমাকে ডাক্তার হতে হবে বা উকিল হতে হবে।"

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption শিরিয়া খাতুন

শিরিয়া খাতুন সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে আসেন ২০০০ সাল নাগাদ। তিন বার টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কাউন্সিলর নির্বাচন করে জিতেছেন।

ব্রিটেনে বাংলাদেশী মুসলিম সমাজের একাংশের কট্টর রক্ষণশীলতা শিকার হতে হয়েছিল শিরিয়া খাতুনকে।

কেন মুসলিম হয়েও তিনি মাথায় হিজাব দেননা - তা নিয়ে ২০১০ সালে বেনামিতে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া শিরিয়া খাতুনকে। পূর্ব লন্ডনে পোস্টার সাঁটা হয়েছিল। সংবাদপত্র, টিভিতে খবর হয়েছিল ঐ ঘটনা।

শিরিয়া খাতুন বলেন, বিন্দুমাত্র ভয় পাননি তাতে।

"ধর্ম আমার কাছে একবারে ব্যক্তিগত বিষয়। আমি মুসলিম, সেটা আমার নিতান্তই ব্যক্তিগত পরিচয়। কিন্তু আমি একজন ব্রিটিশ রাজনীতিক। আমি মুসলিম রাজনীতিক নই। আমি কখনো ধর্মীয় পরিচয়কে পুঁজি করে রাজনীতি করিনি।"

তবে বছর খানেক ধরে মাথায় চাদর দিয়ে বাইরে যান।

সেটা কি একধরণের সন্ধি? এই প্রশ্নে শিরিয়া খাতুন বলেন, গতবছর হজ্জ্ব করার পর থেকে তিনি নিজের ইচ্ছায় মাথায় চাদর দিচ্ছেন।

"কারো ভয়ে নয় বা কেউ বলেছে বলে নয়, আমার নিজের ইচ্ছায় আমি বছরখানেক ধরে মাথায় চাদর দিচ্ছি... আমার স্বামী পর্যন্ত এ ব্যাপারে আমাকে কিছু বলেন না কিন্তু আমি মাথায় কাপড় দেব কি দেব না। আসলে এই সিদ্ধান্তের অধিকার আমি কাউকেই দেইনি।"

এদেশে যখনই বিভিন্ন এথনিক গ্রুপের সাফল্য- ব্যর্থতা নিয়ে কথাবার্তা হয়, জরীপ হয়, সেখানে দেখা যায় অন্যান্য অধিকাংশ অভিবাসী জনগোষ্ঠীর তুলনায় বাংলাদেশিরা অনেক পিছিয়ে, মেয়েরা ঘরে বসে থাকে, ইংরেজি ভাষা শেখেনা। কেন? আপনার অভিজ্ঞতা কি?

এই প্রশ্নে শিরিয়া খাতুন বলেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। "এটা সত্যি ছিল প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশিদের বেলায়, প্রথম যারা বাংলাদেশ থেকে আসে তারা প্রধানত নাবিক ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রজন্ম অনেকএগিয়ে গেছে।"

তার নিজরে এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটসের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এখানকার স্কুলগুলোতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেয়েরা শ্বেতাঙ্গদের চেয়েও অনেক ভালো করছে ।

"আপনি এখন বাঙালিদের মধ্যে অনেক ডাক্তার পাবেন, আইনজীবী পাবেন, শিক্ষক পাবেন।"

ব্রিটেনে জন্ম, বাংলাদেশে গেছেন মাত্র তিনবার। এত ভালো বাংলা জানেন কিভাবে ?

"টাওয়ার হ্যামলেটস তো দ্বিতীয় বাংলাদেশ, বাংলা না জানা, সিলেটি না জানা তো ব্যর্থতা।" জানালেন, প্রায়ই তিনি বাংলাদেশে শাশুড়ি এবং স্বজনদের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন।

বাংলাদেশে গেছেন মাত্র তিনবার। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রাম তাকে প্রতিবারই মুগ্ধ করেছে। "এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমি কোথাও দেখিনি।"

সম্পর্কিত বিষয়