আমরা কোনও ভাইরাস নই: সিয়েরা লিওনের প্রতিবন্ধী

সিয়েরা লিওনের প্রতিবন্ধীরা সমাজের উন্নয়েন অংশ নিতে চান
Image caption সিয়েরা লিওনের প্রতিবন্ধীরা সমাজের উন্নয়েন অংশ নিতে চান

সিয়েরা লিওনের সমাজে অবহেলার মধ্যে জীবন কাটাতে হয় প্রতিবন্ধীদের। সেখানে প্রতিবন্ধী একদল মানুষ নিজেদের বসবাসের জন্য একটা বসতি গড়ে তুলেছেন।

তারা মনে করছেন সরকার তাদের অবহেলা করছে। তাদের দাবি নিজেদের জন্য সম্মানজনক আশ্রয় ও কাজের সংস্থান।

রাজধানি ফ্রি-টাউনে একটি পরিত্যক্ত জমির উপর গড়ে উঠেছে প্রতিবন্ধীদের এই বসতি।

যার এক পাশে একটি কারাগার আর অন্যপাশে আবর্জনা ফেলার জন্য নির্ধারিত একটি জমি।

সমাজে অবহেলিত প্রতিবন্ধী মানুষজনের জন্য প্রতিবন্ধীরা নিজেরাই এই বসতি গড়ে তুলেছেন।

উদ্যোক্তাদের একজন ইসমায়েল কম্বাগবোরি বলছিলেন- "সিয়েরা লিওনে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আমাদের মতো যারা প্রতিবন্ধী মানুষজন আছে তাদের রাস্তা ছাড়া আর কোথাও জায়গা ছিলো না।"

"এই জায়গাটি আবর্জনা ফেলার কাজে ব্যবহৃত হতো। আমরা এক এক করে এখানে এসে থাকতে শুরু করেছি এবং ধীরে ধীরে একটি বসতি গড়ে তুলেছি"।

"এখানে যারা থাকেন তাদের ৮০ শতাংশই ভিক্ষা করে। সেভাবেই তারা পরিবার ও সন্তানদের খাওয়া পড়ার ব্যবস্থা করে"-বলছিলেন ইসমায়েল কম্বাগবোরি।

Image caption প্রতিবন্ধী এস্টার ক্যালন বলছেন তাদের বসতির পরিবেশ এমন যে এখানে হুইল চেয়ার ঠেলাও কঠিন।

ভাঙাচোরা টিন দিয়ে বানানো ছোট ছোট খুপড়ি ঘর। যার পাশ দিয়ে চলে গেছে কাদা মাখানো এবড়ো খেবড়ো সরু গলি। এখানে সবমিলিয়ে ৩৩ টি পরিবারের বাস। কারোর পা নেই। কারো বা হাত।

এই পাড়ার বাসিন্দাদের একজন এস্টার ক্যালন বলছেন- "এখানে হুইল চেয়ার ঠেলাও খুব কঠিন। আমার যে ধরনের প্রতিবন্ধিতা তাতে এখানে থাকাটা বেশ কষ্টের। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য আরো কঠিন"।

কিন্তু এই জায়গাটিকেই নিজের আশ্রয় বানিয়ে নিয়েছেন এস্টার বা ইসমায়েলের মতো প্রতিবন্ধী মানুষজন।

এখানে বানানো হয়েছে শৌচাগার, গণ-রান্নাঘর, বিনোদনের জন্য একটি সোশ্যাল ক্লাব। সেখানে দুটি টেলিভিশনও আছে। এখানে এমনকি একটি খুপড়ি চার্চও বানানো হয়েছে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রতিবন্ধীরা চায় না সমাজের কেউ তাদের ব্যাধি হিসেবে দেখুক।

ইসমায়েল বলছেন, এখানকার বাসিন্দারা একটি সম্মানজনক জীবন চান।

"আমার মতো প্রতিবন্ধীকে এই দেশ পরিত্যাগ করেছে। আমরা আমাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় রাস্তায় কাটিয়েছি। আমি মনে করি সরকার যদি আমাদের জন্য একটি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেয়, যদি অর্থ উপার্জনের কোনও পথ তৈরী করে দেয় তাহলে আমাদের জীবনটা বদলে যেতে পারে।"

"ধরুন আমার পা কাজ করে না কিন্তু আমার হাত তো সুস্থ আছে। অথবা আমাদের মস্তিষ্কতো প্রতিবন্ধী নয়। সমাজের উন্নয়নে আমরাও অংশ নিতে পারি। আমরা চাই সমাজ আমাদের এমন দৃষ্টিতেই দেখুক।"

"আমরা চাই না তারা আমাদের সমাজের ব্যাধি হিসেবে দেখুক। আমরা তো কোনও জীবাণু বা ভাইরাস নই। আমাদেরও মেধা আছে। আমাদের শুধু দরকার একটু সুযোগ"-বলছিলেন ইসমায়েল।

সমাজ ও সরকারের কাছে একটু সুযোগের অপেক্ষাতেই আছেন এস্টার বা ইসমায়েল। তা না পাওয়া পর্যন্ত এই বসতিই তাদের মাথা গোজার ঠাঁই। তার মাঝেই গর্ব নিয়ে বাস করছেন সমাজে অবহেলিত এই প্রতিবন্ধী মানুষগুলো।