ভুয়া খবর বন্ধে ফেসবুকের উদ্যোগ: কিভাবে সম্ভব
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ভুয়া খবর বন্ধে ফেসবুকের উদ্যোগ: কিভাবে সম্ভব

ফেসবুকে প্রতিদিনই আমরা কতো শতো খবর দেখি। নিউজ ফিডে শেয়ার করা হয় এরকম হাজার হাজার খবর। কিন্তু কোন খবরটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা- আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারি না।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগের বৃহত্তম এই সাইটটিতে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা খবর নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে প্রচুর সমালোচনাও হয়েছে ফেসবুকের।

ফেসবুকে এধরনের ভুয়া কিম্বা উড়ো খবর ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নতুন কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছে। এজন্যে ফেসবুক যে প্রযুক্তিতে চলে তাতে কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুকের এলগরিদমে কিছু পরিবর্তন আনা। কর্মকর্তারা বলছেন, এর ফলে মিথ্যা খবর চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, ভুয়া খবর ফেসবুকের খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে: "মানুষ যাতে কথা বলতে পারে - আমরা এই নীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা কোন কিছুর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাই না।"

এরই অংশ হিসেবে ফেসবুকে নতুন একটি ফিচার সংযোজন করা হয়েছে।

ফিচারটি হলো: 'ইটস এ ফেইক নিউজ স্টোরি' বা 'এটি একটি মিথ্যা সংবাদ।' এই অপশনে ক্লিক করে আপনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে চাইলে রিপোর্ট করতে পারবেন।

'বিতর্কিত খবর' এই লেবেলও থাকবে ফেসবুকে।

এসব অপশনে ক্লিক করলে ওই খবর চলে যাবে তৃতীয় একটি পক্ষের কাছে।

ওই পক্ষটি এসব খবরের সত্য মিথ্যা যাচাই করবে।

আর সেটা করা হবে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালার ভিত্তিতে।

মিথ্যা খবরের প্রচার ঠেকাতে ফেসবুকের উদ্যোগ শুনুন আয়ারল্যান্ডে, ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনে সোশাল মিডিয়া গবেষক এবং আপটাম ইউনাইটেড হেলথ গ্রুপের ড্যাটা সায়েন্টিস্ট ড. নাসিম মাহমুদের সাক্ষাৎকার:

ছবির কপিরাইট Facebook
Image caption ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এখন খবর বানোয়াট মনে করলে রিপোর্ট করতে পারবেন

ফেসবুক বলছে, তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর কোন সংবাদ ফেইক নিউজ বা মিথ্যা খবর বলে প্রমাণিত হলেও সেটা ফেসবুকে থাকবে, তবে খুবই গুরুত্বহীনতার সাথে।।

তবে সেটা ভুয়া খবর হিসেবে চিহ্নিত করে দেওয়া হবে।

তার সাথে 'কেনো মিথ্যা' সেটারও ব্যাখ্যা থাকবে।

আর বিতর্কিত খবরের ব্যাপারেও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এই সামাজিক নেটওয়ার্ক। তবে আপনাদের শতকরা ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি ফেসবুকে বিজ্ঞানের আসরের এই লিঙ্কটি শতকরা ১০০ ভাগ খাটি।

পৃথিবীর প্রাণ ধ্বংসকারী গ্রহাণুর খোঁজে

বিজ্ঞানীর বলছেন, যে গ্রহাণুর আঘাতে সাড়ে ছ'কোটি বছরেরও বেশি আগে এই পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো সেটি খুঁজে বের করার জন্যে তারা কিছু ক্লু বা ধারণা পেয়েছেন।

বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক একটি দল সম্প্রতি এনিয়ে গবেষণা শুরু করেছে।

ছবির কপিরাইট SPL
Image caption গ্রহাণুর আঘাতের প্রভাব

ধারণা করা হয়, ওই গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীর বুকে বিশাল যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছিলো সেটিই আজকের দিনে গাল্ফ অফ মেক্সিকো বা মেক্সিকো উপসাগর। বিজ্ঞানীদের ওই দলটি এখন ওই সাগরে ড্রিল করে ওই গ্রহাণুর কিছু নমুনা উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। সাগরের তলদেশে মাটির গভীর থেকে তারা শিলা-খণ্ড বা পাথরের নমুনা, ডিএনএ ইত্যাদি সংগ্রহ করছেন।

এই গবেষণা দলের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা।

এই গ্রহাণুর আকার ছিলো একটি শহরের চেয়েও বড়ো।

এটি যখন আমাদের গ্রহে আঘাত হেনেছে, ঠিক তখনই তৈরি হয়েছে বিশাল একটি গর্ত।

আর ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান।

এর প্রভাবে ধ্বংস হয়ে যায় পৃথিবীর পরিবেশ। বলা হয় জীবনের ৭৫ শতাংশই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো এই গ্রহাণুর আঘাতে।

ছবির কপিরাইট CHEUNG CHUNG-TAT
Image caption গ্রহাণুর আঘাতে বিলুপ্ত হয়ে যায় ডাইনোসর

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই অভিযানে তারা প্রচুর পরিমাণে নিকেলের উপাদান খুঁজে পেয়েছেন।

তারা ধারণা করছেন, এসব নিকেল ওই গ্রহাণু থেকেও আসতে পারে।

গ্রহাণু আঘাত হানার পর এসব উপাদান বাষ্প হয়ে গছে তবে এর কিছুটা হয়তো আকাশে ঘনীভূত হয়ে জমা হয়েছিলো পরে যা বৃষ্টি হয়ে বিশাল ওই গর্তের ভেতরে পড়েছে।

বিজ্ঞানীরা এখন দেখার চেষ্টা করছেন, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্বের ওপর এই গ্রহাণুর আঘাতের এতো বিপর্যয়কর প্রভাবের কারণ কি হতে পারে।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান