প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটির দায়ে ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছবির কপিরাইট BIMAN BANGLADESH
Image caption বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানের নয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে সেই নয়জন কর্মকর্তাকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ বিমান এবং সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তদন্ত কমিটি থেকে যেসব সুপারিশ পাওয়া গেছে, সেগুলো বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন।

বাংলাদেশ বিমানের নয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন পরিচালক। বিমানবন্দর থানার ওসি মোঃ: নূরে আজম মিয়া বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, কর্তব্যে অবহেলা এবং বিমানে নাশকতা সৃষ্টির কোন উদ্দেশ্য ছিল কীনা সেটি এ মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলছেন, "বিমান বাংলাদেশের কর্মকর্তা উইং কমান্ডার (অব) এম এম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলাটি তারা তদন্ত করছেন। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"

হাঙ্গেরি যাবার পথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানির চাপ কমে যাওয়ায় গত ২৭ শে বিমানটি তুর্কমেনিস্তানের রাজধানীতে জরুরি অবতরণ করে।

এরপর কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যে কমিটির রিপোর্টে বলা হয় যে প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি কোন স্বাভাবিক যান্ত্রিক ত্রুটি নয় বরং এটি 'মানুষের সৃষ্টি'।

বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তায় বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ জানিয়েছেন, এজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে আর এরকম ঘটনা না ঘটে, তারা সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন।

তিনি বলছেন, "বিমানের যে তদন্ত রিপোর্ট আসছে, সেটার উপর ভিত্তি করে আমরা কাজ করছি। সেখানে বেশ কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় দেখতে হবে, নিরাপত্তার বিষয়গুলোও দেখতে হবে। এ নিয়ে আমরা কাজ আরম্ভ করেছি। তদন্ত কমিটি থেকে যে পয়েন্টগুলো দেখা হয়েছে, ম্যানেজমেন্ট তার সবগুলো প্রক্রিয়া পুনরায় পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে ভবিষ্যতের জন্য বিষয়টি আমরা শুধরে নিতে পারি।"

এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানের আরো কয়েকজনের বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় তাদের গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে উড়ন্ত একটি বিমানে কারিগরি ত্রুটির বিষয় কতটা স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক ঘটনা?

এভিয়েশন বিষয়ক সাময়িকী মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলছেন, যেকোনো বিমানেই কারিগরি ত্রুটির ঘটনা ঘটতে পারে। সেটা যান্ত্রিক কারণেও হতে পারে বা মানুষের সৃষ্টও হতে পারে। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি কাজ করছে, তাদের তদন্তেই এসব বিষয় বেরিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, "বিশ্বে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা কম হলেও, বিরল নয়। অনেক সময়ই কারিগরি ত্রুটির কারণে যেকোনো বিমান সংস্থার বিমানই জরুরি অবতরণ করতে হতে পারে। তবে বাংলাদেশ বিমানের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে কীনা, তা আমাদের জানা নেই। হয়তো এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও ততটা জানাজানি হয় না বা চেপে রাখা হয়।"

যাদের মধ্যে বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বিমানের কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা রয়েছেন। যদিও নানাভাবে চেষ্টার পরেও, তাদের কারো সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কিত বিষয়