ঢাকার জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণ ঘটানো নারীসহ দুজন নিহত হয়েছে

ঢাকার দক্ষিণখানের আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় শিশুসহ বেরিয়ে এসে আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন যে নারী তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে সকালে চারজন আত্মসমর্পণ করেছে ও একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

বেলা তিনটার দিকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন সুইসাইড ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন ওই নারী।

তার সাথে থাকা শিশুটিকে অবশ্য রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো।

Image caption আত্মঘাতী হামলা চালানো নারী। এক পুলিশ সদস্য তার মোবাইলে তোলা ছবি দেখাচ্ছেন বিবিসির সাংবাদিককে।

এরপরেও বাসাটির ভেতর থেকে আরো একজন গ্রেনেড ছুঁড়ছিলো, যদিও শেষ দিকে তার আর সাড়াশব্দ পাচ্ছিলোনা পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির সংবাদদাতা মীর সাব্বির জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে এসে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সাংবাদিকদের বলেন এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছে ।

Image caption ভোর থেকেই জঙ্গি আস্তানাকে ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ

সকালে দুই শিশুসহ দুজন নারী আত্মসমর্পণের পর পুলিশ বলেছিলো বাড়িটিতে আরও অন্তত তিনজন অবস্থান করছে।

পরে দীর্ঘসময় ধরে তাদের আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হয়েছিলো পুলিশের তরফ থেকে।

এরই এক পর্যায়ে নিহত নারী একজন শিশুসহ দরজা খুলে বেরিয়ে এসে সুইসাইড ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটায়।

এতে সাথে থাকা শিশুটি সেখানেই আহত হয় আর আহত নারীকেও কিছুটা দুরে পরে থাকতে দেখা যায়।

তখন পুলিশ এটিকে গ্রেনেড বিস্ফোরণ বলে জানিয়েছিলো।

মিস্টার ইসলাম জানান এরপরেও ভেতরে থাকা অপরজন ভেতর থেকে গ্রেনেড ছুঁড়ছিলো।

Image caption চূড়ান্ত অভিযানে অংশ নেয়া সোয়াত টীমের সদস্যদের কয়েকজন

পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশকেও টিয়ারশেল ও গুলি ছুঁড়তে হয়েছে।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য তারও মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেন।

ওদিকে পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আগেই জানিয়েছিলেন যে যারা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার রূপনগরে নিহত জঙ্গি মেজর (অব) জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তান এবং পলাতক জঙ্গি মুসার স্ত্রী।

আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আর ভবনের ভেতরে যিনি নিহত হয়েছেন তিনি ঢাকার আজিমপুরে অভিযানে নিহত জঙ্গি তানভির কাদরীর পুত্র বলে ধারণা করছে পুলিশ।

তার মা আবিদাতুল ফাতেমাকে আজিমপুরের অভিযানের সময় আটক করেছিলো পুলিশ।

Image caption ঘটনাস্থলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি