'বাংলাদেশে যৌতুক এখন একটা বিজনেসের মতো করে ফেলেছে'

বিয়ের ছবি ছবির কপিরাইট AP
Image caption যৌতুকের কারণে বিয়ের পর অনেক অত্যাচারের পর মেরে ফেলেছে এমন ঘটনার খবরও অনেক হয়েছে

বাংলাদেশের সিলেটে যৌতুক না দেয়ায় স্ত্রীর জিহ্বা ও পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে অভিযুক্ত স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক চেয়েছিলো।

বাংলাদেশে যৌতুক নিয়ে বহু বছর ধরে নানা প্রচার-প্রচারণা হচ্ছে। বর্তমান আইনেও এর কঠোর সাজার ব্যবস্থা রয়েছে।

কিন্তু তারপরও নিয়মিত যৌতুকের কারণে নির্যাতনের খবর পাওয়া যায়। তাহলে এত প্রচারণা ও আইন কি ব্যর্থ হলো?

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট সালমা আলী বলছেন "বিচারহীনতার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে"।

সালমা আলী বলেন "তৃণমূল থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের যারা আছে তারা যৌতুকের বিষয়টাকে সিস্টেমের মতো করে ফেলেছে, এটা দিতেই হবে। যৌতুকের কারণে অনেক অত্যাচারের পর মেরে ফেলেছে এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে। তবে আগের তুলনায় যদিও কমেছে। কিন্তু ঘটনা ঘটছে"।

সিলেটের ঘটনাটি খুবই নৃশংস উল্লেখ করে সালমা আলী বলছেন- কোনও সময় মানুষ দেখে না যে এমন নির্যাতনের ঘটনার পর অভিযুক্তের বিচার হয়েছে।

"তাই এমন কাজ যারা করে তারা মনে করে তারা শক্তিশালী, মনে করে যাই করি না কেন আমিতো পার পেয়ে যাবো। এটা একটা মানসিক রোগের মতো।"

বিবিসি বাংলার আরো খবর পড়ুন:

ভারতে মার্কিন পর্যটক ধর্ষণ: ৪ জন গ্রেপ্তার

ভাড়া বাড়িতে উঠলেন ড. মুহম্মদ ইউনুস

ভারতে মোহাম্মদ শামির স্ত্রীর পোশাক নিয়ে বিতর্ক

ছবির কপিরাইট SPA
Image caption বিশ্লেষকদের মতে নির্যাতনের কিছু ঘটনা খবরের শিরোনাম হচ্ছে বাকিগুলো থাকছে আড়ালে

"শুধু স্বামী না শাশুড়ি বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দ্বারাও নির্যাতিত হচ্ছে মেয়েরা। অনেক সময় নির্যাতনটা শুধু যৌতুকের কারণে না হয়ে অন্য কারণেও হয়। কিন্তু আদালতে দেখায় যৌতুক, পরে সাক্ষী বা প্রমাণের অভাবে আসামী পার পেয়ে যায়"।

শুধু নিম্নবিত্ত নয় উচ্চবিত্তের মধ্যেও যৌতুকের বিষয়টা অন্যভাবে বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করেন সালমা আলী।

কারণ এখন শহুরে বিয়েতে যৌতুক শব্দটি ব্যবহৃত হয় না। কিন্তু বিয়ের সময়ও প্রচুর জিনিসপত্র দেয়া হয় যেগুলোকে উপহার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

"অনেকে এমনও আছেন যারা সামর্থের বাইরে যেয়ে বিয়েতে উপহার দেন"-বলছেন সালমা আলী।

"উপহার দেওয়া যায় কিন্তু তার একটা সীমা আছে, বাড়ি-গাড়ি দিলাম এটাই কিন্তু সমস্যা। অনেক সময় কিন্তু চাপও থাকে। ওরতো স্ট্যাটাস আছে, দিবেই। আমার স্ট্যাটাস ঠিক রাখতে অনেক কিছু দিতে হবে- এই মাইন্ড সেটটা কিন্তু এখন প্রবল হয়ে গেছে, এটা একটা বড় সমস্যা"।

"মেয়ের বিয়ের সময় বেশি বেশি দিচ্ছি আবার ছেলের বিয়ের সময়ও বেশি নেবো-এটা একটা যেন বিজনেসের মতো করে ফেলেছে"-বলছেন এডভোকেট সালমা আলী।

এডভোকেট সালমা আলী বলছেন "পরিবারগুলো যদি ভাবে মেয়ের বিয়ের সময় আমি এভাবে কিছু দিবো না এবং ছেলের বিয়েতেও নিবো না তাহলে কিন্তু বিষয়টা কমে যায়। এরকম পরিবার কিন্তু আছে তবে খুব কম।"

সম্পর্কিত বিষয়