'কারখানা খুললেও শ্রমিকদের মধ্যে পুলিশ হয়রানি বা ছাঁটাইয়ের ভয় কাজ করছে'

একজন নারী পোশাক শ্রমিক কাজ করছেন ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে গত দুই সপ্তাহে ষোলোশোর বেশী শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।

বাংলাদেশের কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন অভিযোগ করেছে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের দাবি দাওয়ার প্রশ্নে সরকার ও কারখানার মালিকরা এক হয়েছে এবং যৌথভাবে তাদের ওপর দমননীতি চালাচ্ছে।

১২টি শ্রমিক সংগঠন আজ শ্রমমন্ত্রীর সাথে দেখা করে, আশুলিয়া এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের ছাঁটাই বন্ধ করা এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে গত দুই সপ্তাহে ষোলোশোর বেশী শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।

ক'দিন ধরে কারখানা খুললেও সেখানে শ্রমিকদের মধ্যে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে শ্রমিকদের অনেকে বলেছেন। তবে মালিকপক্ষ এবং সরকার বলছে, পরিবেশ স্বাভাবিক হয়েছে।

আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবি আগেই নাকচ করে দিয়েছে সরকার এবং মালিকপক্ষ।

এখন ঐ এলাকার শ্রমিকদের ওপর দমননীতি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

আশুলিয়ার জামগড়া এলাকা থেকে নাম প্রকাশ না শর্তে একজন শ্রমিক বলছিলেন, "কারখানা খোলার পর শ্রমিক ছাঁটাইয়ের যে তালিকা দেয়া হয়েছে। তার বাইরেও কারখানাগুলো অনেক শ্রমিককে কাজ করতে দিচ্ছে না। এছাড়া মামলার কথা বলে পুলিশ ধরপাকড় করছে। অনেক শ্রমিককে হয়রানি করা হচ্ছে। ফলে আমরা ভয়ের মধ্যে আছি।"

আরেকজন শ্রমিক বলছিলেন, পুলিশী হয়রানির ভয়ে অনেক শ্রমিক বাড়ি চলে গেছে। হয়রানি বা ভয়ের পরিবেশ থেকে কবে তারা মুক্তি পাবেন, সেটা তাদের জানা নেই।

ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption নাম প্রকাশ না করার শর্তে কজন শ্রমিক বলেছেন অনেক শ্রমিক পুলিশী হয়রানির ভয়ে বাড়ি চলে গেছে।

আশুলিয়ার শ্রমিকদের এই উদ্বেগ নিয়ে বারোটি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা শ্রম প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

বামপন্থী দলগুলোর সমর্থিত এই শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, সরকার এবং মালিকপক্ষ এক হয়ে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের ওপর দমননীতি চালাচ্ছে। এই বক্তব্য তারা মন্ত্রীর কাছেও তুলে ধরেছে।

সংগঠনগুলোর পক্ষে মোশরেফা মিশু বলছিলেন, "কারখানাগুলো খোলার পর থেকে প্রতিদিনই এগুলোর কোনো না কোনোটিতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটছে। পুলিশী হয়রানির কারণে অনেক শ্রমিক পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব এখনই বন্ধ হওয়া উচিত। সেই দাবিই আমরা মন্ত্রীকে জানিয়েছি।"

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বিবিসিকে বলেছেন, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে তাদের তেমন করণীয় নেই।

তিনি উল্লেখ করেছেন, শ্রম আইনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষমতা মালিকের রয়েছে। সেখানে শ্রমিক তাঁর পাওনা পেলো কিনা, সে ব্যাপারে অভিযোগ এলে সরকার তা খতিয়ে দেখতে পারে। মন্ত্রীর বক্তব্য মালিকদের অবস্থানকেই সমর্থন করে।

গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ' র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিক অসন্তোষের সময় যারা অন্যদের কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য করেছিল তাদের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এনিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে কোনো ভয় নেই বলে তার মনে করেন।

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption বন্ধ কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সম্পর্কিত বিষয়