কৃষ্ণ সাগরে বিধ্বস্ত রাশিয়ান বিমানটির পাইলটের শেষ কথা কী ছিলো ?

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption টুপোলেভ-১৫৪ নামের রাশিয়ান বিমানটি

পাখার সমস্যার কারণেই কৃষ্ণ সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছিলো টুপোলেভ-১৫৪ নামের রাশিয়ান বিমানটি।

রোববার বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ফ্লাইট রেকর্ডার থেকে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।

বিমানটির দুটি পাখা এক সঙ্গে খুলেনি বলেই এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারান পাইলট।

রাশিয়ান গণমাধ্যম জানাচ্ছে বিমান ক্রু'র উচ্চারণ করা দুটি শব্দ ছিলো এমন "দ্যা ফ্ল্যাপস..হেল!!"

ব্লাক বক্স নামক ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারটি মঙ্গলবার উপকূলের এক মাইল দুরে সাগরের তলদেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিলো।

পাইলটের শেষ কথা গুলো ছিলো " কমান্ডার উই আর ফলিং" । অর্থাৎ কমান্ডার আমরা পড়ে যাচ্ছি।

এর আগে বিমানটি যখন সাগড়ে পড়ে যাচ্ছিলো তখন ককপিটে থাকা পাইলটরা আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখতে।

এক পর্যায়ে কথপোকথন ছিলোএমন : " ল্যান্ডিং গিয়ার উপরে তুলেছি কমাণ্ডার" ।

তারপরই শোনা যায় : "ওহ্ ব্লাডি হেল !"

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা

রাশিয়ার অবকাশ কেন্দ্র সোচি থেকে রোববার স্থানীয় সময় সকাল ০৫:২৫ মিনিটে উড্ডয়নের ২ মিনিট পরেই উড়োজাহাজটি রাডার থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

পরে সোচি উপকূল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ৫০ থেকে ৭০ মিটার গভীরে এর ধ্বংসাবশেষ মিলেছে বলে জানানো হয়।

টুপোলেভ-১৫৪ নামের সামরিক বিমানটি রাজধানী মস্কো থেকে যাত্রা শুরু করেছিলো।

পরে জ্বালানি নিতে এটি সোচির এডলার বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

দুর্ঘটনার পর সরকার ওই বিমানের আরোহীদের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।

তাতে আটজন সেনাসদস্য, নয়জন সংবাদকর্মী, বিমানের আটজন ক্রু এবং রুশ সেনাবাহিনীর একটি বিখ্যাত সঙ্গীতদল আলেক্সান্দ্রভ-এর ৬৪ জন সদস্য ছিলেন।

তাঁরা সিরিয়ার লাটাকিয়ায় রুশ ঘাঁটিতে নববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবাধিকারকর্মী ফেয়ার এইড চ্যারিটির নির্বাহী পরিচালক এলিজাভেতা গ্লিংকা এবং দুইজন সরকারি কর্মকর্তাও ছিলেন বিমানটিতে।

Image caption কৃষ্ণসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছিলো বিমানটি