গাইবান্ধায় সরকারি এমপিকে গুলি করে হত্যা

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption গ্রেপ্তার হওয়ার পর গাইবান্ধার সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গাইবান্ধার একজন সরকারি এমপি মঞ্জুরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা শনিবার সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জে তার বাসায় ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী সন্ধ্যায় ফোন করে তাদেরকে এই খবর দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, "এমপির স্ত্রী ফোন করে আমাদের জানিয়েছেন যে দু'জন ব্যক্তি বাসায় ঢুকে তার স্বামীকে গুলি করে পালিয়ে গেছে।"

পুলিশ বলছে,মি. ইসলামকে যখন গুলি করা হয় তখন তিনি তার নিজ বাড়ির ড্রয়িং রুমে ছিলেন।

পরে পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে তিনি মারা যান।

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption রংপুর হাসপাতালে নিহত এমপির মৃতদেহ

হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বিমল চন্দ্র রায় বিবিসিকে বলেছেন, গুরুতর আহত অবস্থায় এমপিকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখনই তার হৃৎস্পন্দন পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, এমপির শরীরে তারা মোট পাঁচটি গুলির চিহ্ন দেখেছেন। দুটো গুলি তার বুকে আর বাকি তিনটি তার হাতে লেগেছে।

মি. রায় বলেছেন, দেখে মনে হচ্ছে তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে।

কারা হামলা চালিয়েছে পুলিশ সে সম্পর্কে এখনও কিছু ধারণা করতে পারছে না।

মঞ্জুরুল ইসলাম গত বছর একটি শিশুকে গুলি করে হত্যা-চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর বেশ আলোচিত হয়েছিলেন।

ঐ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন মি. ইসলাম।

এরপর তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। সেসময় মি. ইসলাম তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা দিয়েছিলেন।

তার একজন সহকারী সুজা চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি সেই অস্ত্র ফেরত পাননি। হত্যাকারীরা একটি মোটরসাইকেলে করে এসেছিল বলেও তিনি জানান।

তাকে যখন বন্দুকধারীরা গুলি করে তখন তার সাথে কোন দেহরক্ষীও ছিল না বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের সাথে সাধারণত: পুলিশ সদস্য দেহরক্ষী হিসেবে থাকে।

তবে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাসায় থাকলে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম দেহরক্ষী রাখতেন না। বাসার বাইরে গেলেই শুধুমাত্র দেহরক্ষী নিয়ে যেতেন।

২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে শিশু শাহাদত হোসেনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসী এমপি মঞ্জুরুল ইসলামের বিচারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলো।