মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ঢাকা মোহামেডান ক্লাবটি কি শেষ হয়ে যাচ্ছে?

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবার প্রিমিয়ার লিগে দশম স্থান পাবার পর অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ক্লাবটি কি ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে?

এটা কি আবার একটি চ্যাম্পিয়ন দল হয়ে উঠতে পারবে, নাকি দ্বিতীয়-তৃতীয় সারির দলে পরিণত হবে?

যে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ঢাকার লীগে ১৯৫৭ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত অন্তত: ১৯ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে - সেই দলটিই ১০ বছর আগে এই পেশাদার লীগ চালু হবার পর একবারও শিরোপা জেতে নি ।

প্রথম তিন বার তারা রানার্স আপ হয়েছিল, কিন্তু এর পর দ্বিতীয় স্থানও পায় নি। আর এবার ১২টি দলের মধ্যে ১০ম হয়েছে তারা ।

অনেকেই দাবি তুলছেন, ক্লাবের পরিচালনায় পরিবর্তন আনতে। কিন্তু লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হওয়ায় সে প্রক্রিয়া খুব সহজ সরল নয়।

ছবির কপিরাইট MOHAMMEDAN SPORTTING CLUB
Image caption মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো ফুটবল ক্লাব

যে মোহামেডানের কাছে সমর্থকরা কখনোই চ্যাম্পিয়ন হবার কম কিছু পেয়ে সন্তুষ্ট হয় না - সেই ক্লাব পেশাদার লিগে গত কয়েক বছরে চ্যাম্পিয়ন হবার মতো দলই গড়তে পারছে না কেন?

কেন ভালো খেলোয়াড়রা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন?

এ নিয়ে ক্লাবটির ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, খারাপ সময় সবারই আসতে পারে। এবার ক্লাব ভালো খেলতে পারে নি, ভাগ্যও তাদের সহায় ছিল না।

তবে তিনি বলেন, তারা প্রক্রিয়া শুরু করেছেন যাতে আগামী বছর একটি শক্তিশালী এবং শিরোপা জেতার মত দল গড়তে পারেন।

ছবির কপিরাইট YOUTUBE
Image caption এবার প্রিমিয়ার লীগে আবাহনী ও মোহামেডানের খেলা

কিন্তু যারা বলছেন মোহামেযান স্পোর্টিংকে বাঁচাতে হলে ক্লঅবের পরিচালনায় পরিবর্তন আনতে হবে - তাদের একজন সাবেক তারকা ফুটবলার এবং এখনও ক্লাবের একজন সাধারণ সদস্য বাদল রায়।

বাদল রায় বলছেন, ক্লাবের বর্তমান পরিচালনাকারীরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন এবং তাই যারা দলের শুভাকাঙ্খী তারা দূরে সরে গেছেন।

ক্লাবের পরিচালনায় পরিবর্তন আনাটাই এখন সবার আগে দরকার বলে তিনি মত দেন।

বাদল রায় বলছেন, তারা ক্লাবটিকে বাঁচানোর জন্য একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

ছবির কপিরাইট Google
Image caption রে লিন্ডওয়ালের বোলিং। তার সামনের পা পপিং ক্রিজের প্রায় দেড় ফুট বাইরে, কিন্তু ৫০এর দশকে এটা নো-বল ছিল না

নো-বলের নিয়মই কি বোলারদের ইনজুরির জন্য দায়ী?

ক্রিকেটে বোলারদের বেশি ইনজুরিতে পড়ার কারণ কি নো-বলের আধুনিক নিয়ম? এ নিয়ে নতুন এক ব্যাখ্যা হাজির করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া গবেষক ডগ এ্যাকারলি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বোলিং সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান তার বিশ্বের ভালো ভালো ব্যাটসম্যানদের তার কাটার আর স্লোয়ার বল দিয়ে নাস্তানাবুদ করে যেমন সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন - তেমনি আলোচনায় এসেছেন তার ইনজুরিতে পড়া আর তার দীর্ঘ চিকিতসা নিয়ে।

আজকাল ক্রিকেটে বোলারদের বিশেষত দ্রুতগতির বোলারদের ইনজুরিতে পড়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

কেন বোলারদের এত ইনজুরি হয় - এর পেছনে অনেকে অনেক রকম কারণের কথা বলেন । কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান লেখক ডগ এ্যাকারলি তার "ফ্রন্ট ফুট: দ্য ল দ্যাট চেঞ্জড ক্রিকেট" নামের নতুন বইতে বলেছেন, ১৯৬৩ সালে ক্রিকেটের নো-বল সংক্রান্ত আইনে যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল - সেটাই বোলারদের পিঠ এবং পায়ের এত ইনজুরির সবচেয়ে বড় কারণ।

ছবির কপিরাইট WILLIAM WEST
Image caption এ যুগের বোলারদের ইনজুরির শিকার হতে হয় বেশি

এ্যাকারলি ব্যাখ্যা করছেন, ১৯৬৩ সালের আগে বোলিংএর নিয়ম ছিল - বল ছাড়ার মুহূর্তে বোলারের পেছনের পা বোলিং ক্রিজ- অর্থাৎ স্টাম্প বরাবর সাদা রেখাটির ভেতরে থাকতে হবে। সামনের পা কোথায় পড়লো তাতে কিছু আসতো-যেতো না। কিন্তু তখনকার দুই বোলার অস্ট্রেলিয়ার রে লিন্ডওয়াল এবং ইংল্যান্ডের ফ্রেডি ট্রুম্যানের বোলিং এ্যাকশন এমন ছিল যে তাদের সামনের পা পপিং ক্রিজের প্রায় দেড় ফুট বাইরে পড়তো। ফলে তারা অন্য বোলারদের তুলনায় একটা বাড়তি সুবিধা পেতেন।

"এর পর ৬৩ সালে ইংল্যান্ড নতুন নিয়ম করলো যে সামনের পা - অর্থাৎ ডানহাতি বোলারের বাম পা - পপিং ক্রিজের পেছনে থাকতে হবে। তা না হলে নো-বল হবে। এই নতুন নিয়মে বল করতে বোলারদের এ্যাকশনে এমন কিছু পরিবর্তন আনতে হলো যাতে তাদের পা ও পিঠের ওপর অনেক বেশি চাপ পড়ে। আধুনিক বোলারদের বেশি ইনজুরি হবার এটা এক বড় কারণ।"

অনেকে বলেন, আজকালকার বোলারদের অনেক বেশি বল করতে হয়, এবং নো-বল রুলের চাইতে সেটাই বরং তাদের ইনজুরির জন্য দায়ী। কিন্তু এ্যাকারলি বলেন, তার গবেষণা অনুযায়ী এ যুক্তি ধোপে টেকে না।

তিনি বলছেন, "আমার বইয়ে এ নিয়ে একটি অধ্যায় আছে। আমি জানি না লোকে কোথায় এসব তথ্য পায়। কারণ আগেকার বোলাররা মোটেও কম বল করতেন না।"

ছবির কপিরাইট Cameron Spencer
Image caption সিডনিতে একটি টেস্ট ম্যাচ

"যেমন এ যুগের বোলার দক্ষিণ আফ্রিকার মর্নি মরকেল - তিনি ২৪০টি টেস্ট উইকেট নিয়েছেন। তিনি বছরে সব রকম ক্রিকেট মিলিয়ে মোটামুটি ২ হাজার ৩শ বল করেন। পিটার সিডল বল করেন ২ হাজার ৬ শ। কোর্টনি ওয়ালশ করেছেন ৫ হাজার ৬শর মতো। কিন্তু এ্যালেক বেডসার ৪০-৫০এর দশকে ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর ৭ হাজার ৪শটি করে বল করতেন। কাউন্টি ও টেস্ট মিলিয়ে।"

কিন্তু তখনকার নো-বলের নিয়মের কারণে তাদের এ্যাকশন এমন ছিল যে তারা ক্লান্ত হতেন, কিন্ত স্ট্রেস ফ্র্যাকচার হতো না - বলছেন মি. এ্যাকারলি।

মি. এ্যাকারলি বলেন, তিনি যে বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেছেন তারা বোলারদের ইনজুরি থেকে বাচাতে নো-বলের আইনে পরিবর্তন আনা উচিত বলেই মত দিয়েছেন।

দেখা যাক - তার এই গবেষণায় আগামীতে সত্যি তেমন কোন পরিবর্তন আসে কিনা।

এবারের মাঠে ময়দানে পরিবেশন করেছেন পুলক গুপ্ত।

সম্পর্কিত বিষয়