সরকারের মেয়াদ শেষেই নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী

ছবির কপিরাইট পিআইডি
Image caption বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে আগামী সংসদ নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের এখনো চলছে। যদিও নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেছেন,

বর্তমান সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অবশ্য প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে গঠিত নির্বাচন কমিশনের ওপর সব রাজনৈতিক দল আস্থা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন এই মেয়াদের সরকারের তিন বছর পূর্তিতে রেডিও টেলিভিশনের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে এই ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আগামী নির্বাচন প্রশ্নে এটাও বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।

কিন্তু বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন পরিচালনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি এখনও করে আসছে, সেই প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে আদালত থেকে সে ব্যবস্থা বাতিলের বিষয়টিকে আবারও তুলে ধরা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অবৈধ পথে ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেই নির্বাচনের সময় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন।

তিনি এমন মন্তব্যও করেছেন, সংবিধানের আওতায় তারা সব ধরনের ছাড় দিতেও প্রস্তুত ছিলেন। এমনকি সেই জাতীয় সরকারে বিএনপি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক তা-ও তারা দিতে চেয়েছিলেন।

ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে পদ্মাসেতু প্রকল্পের কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূরক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

তবে বিএনপি তাতে সাড়া না দিয়ে সারাদেশে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি হামলা, লেখক ব্লগারদের ওপর হামলার প্রসঙ্গটিও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসে।

আরও পড়ুন:

'ফটোশপ ছবি পাঠানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়'

মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে সেদিন বঙ্গভবনে যান জেনারেল মইন

ভারতে ইংল্যান্ডের আসন্ন ক্রিকেট সিরিজ বাতিলে কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বলেছেন, একটি গোষ্ঠী ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করছে।

'ইসলাম কখনও মানুষ হত্যা সমর্থন করেনা' উল্লেখ করে শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ধর্মান্ধ নয়। এদেশে সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সাথে শান্তিতে বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের ঠাঁই বাংলার মাটিতে হবে না"।

তিনি ইমাম, মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিতষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, স্থানীয় মুরুব্বি এবং অভিভাবকদের জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী ভাষণে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু, মেট্রো রেল প্রকল্প চালুর উদ্যোগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।