জঙ্গি হামলার ধাক্কা সামলে হলি আর্টিজানের নতুন যাত্রা

Image caption নতুন জায়গায় নতুন করে চালু হয়েছে হলি আর্টিজান ক্যাফে

গুলশানের একটি ভবনে ছোট পরিসরে কোলাহলে মুখর হলি আর্টিজান ক্যাফে।

জঙ্গি হামলার ছায়া থেকে বেরিয়ে আবারো সামনে এসেছে এ ক্যাফে।

আগের মতো খোলা জায়গা এবং মনোরোম পরিবেশ নেই। একটি সুপার শপের সাথে অর্ধেক জায়গা ভাগ করে নিয়েছে আলোচিত এ ক্যাফেটি।

ক্যাফের মালিকরা বলছেন, জঙ্গি হামালার পর তারা চেষ্টা করেছেন যত দ্রুত সম্ভব নতুন জায়গায় এটি পুনরায় চালু করার। স্বল্প পরিসরেও গত দু'দিন ভালোই চলছে এটি।

অন্যতম মালিক আলী আর্সলান বলেন, " কয়েকদিন আগে একজন রাষ্ট্রদূত লাঞ্চ টাইমে তার অ্যাম্বেসি থেকে হেঁটে এখানে এসেছেন। সামনে পুলিশ চেকপোস্ট আছে এবং পাশে থানা আছে।"

গত জুলাই মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলায় হলি আর্টিজান ক্যাফেতে ১৭জন বিদেশী নাগরিকসহ ২২জনকে হত্যা করা হয়েছিল।

Image caption হলি আর্টিজানের মালিক আলী আর্সালান: 'ভয় ঠেলে সামনে আগাতে হবে'

নতুনভাবে হলি আর্টিজান খুলতে না খুলতেই পুরনো কাস্টমাররা ভিড় করছেন। দেশী কাস্টমারা যেমন আসছেন, তেমনি দলে-দলে বিদেশী কাস্টমারাও আসছেন এখানে। নতুন এ জায়গায় সবোর্চ্চ ২০ জন একসাথে বসতে পারে।

অনেক সেখানে খাবার খাচ্ছেন, আবার অনেকে খাবার বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশী নাগরিকদের অনেকেই শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন ।

হলি আর্টিজানের পুরনো জায়গায় প্রায়ই যেতেন জার্মান নাগরিক ক্রিশ্চিয়ান সেইজার। নতুন হলি আর্টিজানকে তিনি শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন।

মি: সেইজার বলেন, " একটা মর্মান্তিক ঘটনার পর তারা আরো শক্তি পেয়েছে। সন্ত্রাসবাদ ঢাকা শহরে এরকম চমৎকার কোন জিনিসকে থামিয়ে রাখতে পারবে না।"

হলি আর্টিজান এবং জঙ্গি হামলা - এ দু'টি শব্দ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সমার্থক হয়ে উঠেছিল।

Image caption ইলিনা ফারুক: "হলি আর্টিজান চালু হওয়ার প্রতীকি তাৎপর্য আছে"

একসাথে ১৭জন বিদেশী নাগরিককে হত্যার ঘটনা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ইমেজকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। সেজন্য হলি আর্টিজান পুনরায় চালু হওয়ার অর্থ শুধুই একটি রেস্টুরেন্ট চালু হওয়া নয়।

বাংলাদেশের ইমেজের জন্য এটি একটি প্রতীকি বিষয় বলে মনে করেন বাংলাদেশী নাগরিক ইলিনা ফারুক। তিনি আশা করেন, হলি আর্টিজানে হামলার মতো কোন ঘটনা বাংলাদেশে আর কোনদিন ঘটবে না।

যে জায়গাটিতে জঙ্গি হামলা হয়েছিল সেখানে আর ফিরে যাবেনা হলি আর্টিজান ক্যাফে। সেখানে আবাসিক ভবন নির্মান করা হবে বলেন জানিয়েছে মালিকপক্ষ।

হলি আর্টিজানের মালিক এবং শুভাকাঙ্খিরা মনে করেন, জঙ্গি হামলার সকল ভয় দূরে ঠেলে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় লড়াই।

সম্পর্কিত বিষয়