গুলশান হামলার ঘটনায় আটককৃত ‘রাজীব গান্ধী’ সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?

রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলম
Image caption রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলম (মাঝখানে হেলমেট মাথায়)

বেঁটেখাটো, স্বাস্থ্যবান, নাকের নিচে পুরু গোঁফ, ক্লিন শেভড মানুষটিকে হেলমেট, বুলেট প্রুফ ভেস্ট আর হাতকড়া পরিয়ে যখন সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়, তখন তাকে বেশ স্বাভাবিকই লাগছিল।

গত রাতে টাঙ্গাইল থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে তাকে।

পুলিশ তাকে গুলশান হামলার অন্যতম 'পরিকল্পনাকারী' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

নাম 'রাজীব গান্ধী'।

পুলিশের বক্তব্য, এছাড়াও সে জাহাঙ্গীর আলম, সুভাষ, শান্ত, টাইগার, আদিল, জাহিদ ইত্যাদি নামেও পরিচিত।

তার বয়স আনুমানিক ৩২ বছর। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আটককৃত প্রথম কোন জীবিত 'পরিকল্পনাকারী' এই রাজীব গান্ধী।

আরো পড়ুন: গুলশানের এক মাস্টারমাইন্ড 'রাজীব গান্ধী' আটক

ছবির কপিরাইট AP
Image caption গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি, গত বছর এখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের সব চেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়।

পাচক থেকে নেতা:

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজীব গান্ধী নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা হলেও জঙ্গিবাদের সঙ্গে তার যোগসাজশ পুরাতন জেএমবি থেকেই।

গত দশকে জেএমবির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষস্থানীয় নেতা আব্দুল আউয়ালের বাবুর্চি বা পাচকের কাজ করত সে।

এসময় সে বগুড়ায় ছিল।

সাইকেলে চেপে আব্দুল আউয়ালের নানা বার্তা আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়ার কাজ করতো সে, বলছে পুলিশ।

আব্দুল আউয়াল ছিল জেএমবির প্রধান নেতা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শায়খ আব্দুর রহমানের জামাতা।

বিগত দশকে শায়খ রহমান ও আব্দুল আউয়াল-সহ শীর্ষ জেএমবি নেতাদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হয়।

এরপর কিছুদিন বিরতির পর নব্য জেএমবি হিসেবে পুনর্গঠিত এই জঙ্গি গোষ্ঠীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আসে সাবেক পাচক জাহাঙ্গীর আলম।

সে নিহত নব্য জেএমবির প্রধান তামিম চৌধুরীর সহযোগীও ছিল বলে জানাচ্ছে পুলিশ।

Image caption রাজীব গান্ধীকে গ্রেপ্তারের খবর দিতে শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম-সহ (মাঝে) কর্মকর্তারা।

উত্তরাঞ্চল থেকে জঙ্গি সরবরাহকারী:

পুলিশের ভাষ্যমতে, গুলশান হামলায় যে ৫ জন জঙ্গি সশরীরে হামলা চালিয়েছিল তাদের মধ্যে দুজনকে সরাসরি 'রিক্রুট' করেছে এই রাজীব গান্ধী।

শোলাকিয়া হামলায় জড়িত একজনকেও সে-ই সরবরাহ করেছে।

মূলতঃ নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব হামলায় যোগ দেয়া জঙ্গিরা রাজীব গান্ধীর হাত ধরেই এসেছে বলে মনে করছে পুলিশ।

নব্য জেএমবি বা পুনর্গঠিত জেএমবির অন্যতম নেতা হিসেবে উত্তরাঞ্চলে গোষ্ঠীটির যেসব হামলা হয়েছে তারও মূল সমন্বয়ক সে।

মনে করা হয়, জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী এবং পুরোহিত, খাদেম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হত্যাসহ প্রায় ২২-২৩ টি হামলার মূল হোতা সে।

গুলশান হামলার মামলায় অগ্রগতির আশা:

রাজীব গান্ধীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই প্রথম গুলশান হামলার বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে বলে মনে করছে পুলিশ, কারণ সে-ই এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ধরা পরা একমাত্র জীবিত 'মাস্টারমাইন্ড'।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলছেন, জীবিত জঙ্গিদের মধ্যে গুলশান হামলা সম্পর্কে রাজীব গান্ধী-ই সবচেয়ে বেশি জানে।

মি. ইসলাম বলছেন, গুলশানের ৫ জন হামলাকারী যখন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে হলি আর্টিজানে যায় তখন সেই বাসাটিতে রাজীব গান্ধীও ছিল।

গুলশান হামলায় জড়িতদের মধ্যে তিন জনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানাচ্ছে পুলিশ।

এদের মধ্যে একজনের নাম বাশারুজ্জামান চকলেট বলে উল্লেখ করছে পুলিশ।

বাকীদের নাম কৌশলগত কারণে গোপন রাখা হচ্ছে বলে পুলিশ বলছে।

আরো পড়ুন:

কেন নিপীড়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিলো মেয়েটি

১৮ বছর আগে চুরি যাওয়া সেই নবজাতক উদ্ধার

মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে সেদিন বঙ্গভবনে যান জেনারেল মইন

সম্পর্কিত বিষয়