'ফুটপাত থেকে সরুম না' - বললেন হকার নেতা

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption ঢাকার ফুটপাতগুলোর একটা বড় অংশই হকারদের দখলে

ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানের ফুটপাতে চলাচল করতে গিয়ে হকারদের হাঁকডাক শোনা যাবে না, তা কি কখনো কেউ ভেবেছেন?

অথচ রবিবার সেরকমই ঘটেছে বলে খবর দিচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

কতৃপক্ষের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গুলিস্তানে রবিবার থেকে অফিস সময়ে যাতে ফুটপাতে হকার বসতে না পারে, সেজন্য মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। আর মতিঝিলে চালানো হয় উচ্ছেদ অভিযান।

অবশ্য এটা করতে গিয়ে হকারদের তরফ থেকে কিছু বাধা আসে, তারা এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষেও জড়ায়।

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠনের সভাপতি আবুল হাশেম কবির, যিনি নিজেও গুলিস্তানের একজন হকার, তিনি বিবিসিকে বলছেন, আজ পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে তারা হয়তো সেভাবে দোকান খোলেননি, কিন্তু তারা ফুটপাত থেকে সরবেন না।

"আমরা ফুটপাত থেকে সরুম না। যদি আমাদের মনপুত পুনর্বাসন দিয়ে দেয়, আমরা সইরা যামু", বলছিলেন মি. কবির।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন অবশ্য বলেছেন, যারা এই পরিস্থিতির কারণে পেশা পরিবর্তন করতে চান, তাদের পাশে দাঁড়াবে সিটি করপোরেশন।

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption ঢাকার ফুটপাতে হকারদের কাপড় বিক্রি

প্রয়োজনে সরকারি চাকরির সুপারিশ তারা করবে।

এমনকি শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যেতে চাইলে সেই ব্যবস্থাও করে দেবে।

আর সন্ধ্যের পরে কিংবা শুক্র-শনিবার হলিডে মার্কেটে ব্যবসা করার সুযোগ তো থাকছেই।

মি. খোকন বলছেন, ফুটপাতকে হকার মুক্ত করার প্রথম এই পর্যায় শেষ হলেই ধাপে ধাপে শহরের অন্য অংশও হকার মুক্ত করা হবে।

"কোনক্রমেই দিনের বেলা রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে জনসাধারণের চলাচল বিঘ্ন সৃষ্টি করবে, এমন কোন কাজ আমরা অ্যালাউ করব না"।

"এটার জন্য যদি আমাকে কঠোর হতে হয়, তাহলে আমি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পিছপা হব না", বিবিসিকে বলেন মেয়র সাঈদ খোকন।

ঢাকাকে এর আগেও হকার মুক্ত করবার একটি উদ্যোগ দেখা গিয়েছিল গত দশকে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।

তখনো ঢাকায় এক এক দিন এক এক এলাকায় হলিডে মার্কেট চালু করা হয়েছিল। সেটা কিছুদিন চলেও ছিল।

কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে ঢাকাকে হকার মুক্ত করবার সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলছেন, হকার বা ভ্রাম্যমান ব্যবসা একটি অনানুষ্ঠানিক খাত হলেও বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়ে এর জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

"প্রথমে উচ্ছেদ করল, তার পরে ব্যবস্থা করবে, এটা তো হবে না", বলেন প্রফেসর ইসলাম।

"সিটি কর্পোরেশন যদি অনেকগুলো মার্কেট করে দিতে পারতো, সেইখানে তারা কিছু জায়গা পেত"।

নগরীতে নির্বিঘ্ন চলাচলের পথে এই ভ্রাম্যমান হকারের একটা বাধা উল্লেখ করে প্রফেসর ইসলাম আরো বলছেন, ফুটপাত আরো চওড়া করে, এদের জন্য কিছুটা জায়গা ছেড়ে দেয়া যেতে পারে।

তিনি ঢাকার শিশু একাডেমি সংলগ্ন ফুটপাতের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ফুটপাতের একাংশে অস্থায়ী দোকান আনুষ্ঠানিকভাবেই ব্যবসায়ীদের জায়গা দেয়া হয়েছে।