ভারতে তিন 'লস্কর-এ-তৈয়বা' সদস্যের ফাঁসির রায়

Image caption ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে বহু আক্রমণ চালিয়েছে এলইটি

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-এ-তৈয়বার তিন সদস্যকে আজ ফাঁসির আদেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। এদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি নাগরিক, আরেক জন ভারত শাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দা।

পুলিশ আদালতে প্রমাণ করেছে যে সেনা ছাউনিতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে এরা বাংলাদেশ ঘুরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার সময়ে বি এস এফের হাতে ধরা পড়েছিল।

ঢাকার একটি হোটেলেই হামলার মূল পরিকল্পনা হয়েছিল বলে ধৃতেরা জেরায় জানিয়েছিল।

উত্তর চব্বিশ পরগণার বনগাঁ আদালতে আজ এই ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। দন্ডিতদের মধ্যে শেখ আবদুল্লা ও মুহম্মদ ইউনুস পাকিস্তানের বাসিন্দা এবং মুজফ্ফর আহমেদের বাড়ি ভারত শাসিত কাশ্মীরের অনন্তনাগে।

কোর্ট জানিয়েছে, যে দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ ঘোষণা সহ দন্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারায় তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

ভারত শাসিত কাশ্মীরের সেনা ছাউনিতে হামলার চালানোর পরিকল্পনা নিয়েই এরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। পেট্রাপোল সীমান্তের কাছে বি এস এফের হাতে তারা ধরা পড়ে ২০০৭ সালে।

ছবির কপিরাইট Google
Image caption লস্কর এ তৈয়বার পতাকা

এই মামলাটির সরকারী কৌঁসুলি সমীর দাস বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে আদালতে দোষীদের বিরুদ্ধে রায়ে ঠিক কী বলেছে।

"আদালত বলছে যে এরা দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। পাকিস্তানে বসে এরা শপথ নিয়েছিল যে ভারতকে ধ্বংস করতে হবে। তারই অংশ হিসাবে কাশ্মীরের একটি সেনা ছাউনি উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এদের। এদের জবানবন্দিতেও সেটা জানা গেছে, পরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও তারা নিজেরা সেটা স্বীকার করেছিল।" বলছিলেন সমীর দাস।

যে তিনজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে, তারা ছাড়া চতুর্থ এক ব্যক্তি শেখ আব্দুল নইম ওরফে সামিরও ধরা পড়েছিল বি এস এফের হাতে। মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুম্বাইতে নাশকতার কিছু অভিযোগ ছিল। সেই ঘটনার তদন্তে ট্রেনে করে মুম্বাইতে নিয়ে যাওয়ার সময়ে সে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়।

মি. সমীর দাস বলছিলেন এই চারজনই ঢাকার একটি হোটেলে বসে হামলার পরিকল্পনা যে করিছিল, সেটা ধৃতরা জেরায় স্বীকার করেছে।

Image caption এল ই টি-র নেতা হাফিজ মুহম্মদ সাঈদ

"পাকিস্তানে ২১ দিন ধরে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরে পি আই এ-র বিমানে চেপে দুজন ঢাকায় যায়। আর দুই ভারতীয় নাগরিক ঢাকার মুন হোটেলে বসে হামলা চালানোর গোটা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। তারপরেই পেট্রাপোল সীমান্ত চৌকির কাছে একটি জায়গা দিয়ে তারা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বি এস এফ এদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তারপর মামলাটির তদন্তভার যায় সি আই ডি-র হাতে," জানাচ্ছিলেন সমীর দাস।

দোষীদের জেরা করে যে তল্লাসী চালিয়ে বিস্ফোরক তৈরীর বেশ কিছু উপাদানও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবি অবশ্য বলছেন যে তাঁর মক্কেলদের এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং তাঁরা আশা করেন যে উচ্চতর আদালতে আপীল করলে ন্যায়বিচার পাবেন।

সম্পর্কিত বিষয়