করাচিতে বাংলাদেশ মিশনে জ্বলন্ত ফ্লেয়ার, পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব

বুধবার বিকালে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাফিউজ্জামান সিদ্দিকীকে ডেকে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
Image caption বুধবার বিকালে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাফিউজ্জামান সিদ্দিকীকে ডেকে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পাকিস্তানের করাচিতে বাংলাদেশ মিশনে একটি জ্বলন্ত ফ্লেয়ার ছুঁড়ে মারার ঘটনার পর ঢাকায় সেদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশের কূটনীতিক আর হাইকমিশনার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

করাচিতে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান, উপ-হাইকমিশনার নূর-এ-হেলাল সাইফুর রহমান বিবিসিকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পৌনে ৬টায় করাচি মিশনের দেয়ালে একটি জ্বলন্ত ফ্লেয়ার ছুড়ে মারা হয়। সে সময় তিনি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ভেতরেই ছিলেন। যদিও এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি, তবে এতে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলছেন, গত দুই বছর ধরে তিনি পাকিস্তানে থাকলেও এর আগে এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি বা হুমকি দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি।

এরই জের ধরে বুধবার বিকালে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাফিউজ্জামান সিদ্দিকীকে ডেকে পাঠায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাফিউজ্জামান সিদ্দিকীকে তলব করে দক্ষিণ এশিয়া অণু বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। সেখানে মি. সিদ্দিকীকে বলা হয় যেন, তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বাংলাদেশের হাইকমিশনার, করাচীতে উপ-হাইকমিশনার এবং হাইকমিশনার অন্যান্য কর্মকর্তার নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।

তাকে জানানো হয় যে, পাকিস্তানে কর্মরত সকল কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের।

পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে যে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা বা ঘটনা থেকে কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশটির।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে বাংলাদেশ মিশনের নিরাপত্তা আরো জোরদার করার এই বার্তা পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য তাকে বলা হয়েছে।

মি. রহমান জানিয়েছেন, ওই ফ্লেয়ার ছোঁড়ার ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর পাশাপাশি পুলিশকেও জানানো হয়েছে। তারা স্বাভাবিকভাবেই অফিসের কার্যক্রম করছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মিশন পরিদর্শন করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়