সার্চ কমিটির সদস্য হলেন যারা

ছবির কপিরাইট Focusbangla
Image caption নির্বাচন কমিশন সদস্যদের বাছাই করতে রাষ্ট্রপতির গঠিত কমিটির সদস্যরা । উপরের সাড়িতে বাম থেকে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মহা হিসাব নিরীক্ষক মাসুদ আহমেদ, পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক শিরিন আখতার এবং বিচারপতি ওবায়দুল হাসান

বাংলাদেশে নতুন একটি নির্বাচন কমিশনের সদস্য কারা হবেন তা খুঁজে বের করার জন্য একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।

মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলম বিবিসিকে বলেছেন, বুধবার সন্ধ্যায় সার্চ কমিটির ছয় সদস্যের নাম সম্বলিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সার্চ কমিটির প্রধান করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে।

আরও পড়ুন: বিচারপতি মাহমুদ হোসেনই নতুন সার্চ কমিটির প্রধান

এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন - হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, মহা হিসাব নিরীক্ষক মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম ও একমাত্র মহিলা সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরিন আখতার।

এ কমিটিকে দশ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ অন্য কমিশনারদের নাম সুপারিশ করতে হবে।

কমিটির সদস্যদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আপিল বিভাগ

২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান যে সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন, তারও প্রধান ছিলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ১৯৮১ সালে জেলা আদালত, দু'বছর পরে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসাবে কার্যক্রম শুরু করেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আরও পড়তে পারেন:সিইসি খুঁজে বের করতে ছয় সদস্যের 'সার্চ কমিটি' হচ্ছে

Image caption ফেব্রুয়ারীতে শেষ হবে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, হাইকোর্ট বিভাগ

১৯৮৬ সাল থেকে আইনজীবী হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৯ সালের জুন মাস থেকে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১১ সাল থেকে বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

মাসুদ আহমেদ, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক. কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স এর কার্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর করলেও, তিনি যুক্তরাজ্য থেকে হিসাববিজ্ঞানে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমা করেছেন। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে নিরীক্ষা এবং হিসাব ক্যাডারে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়, বেপজা, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, বিএমইটি ইত্যাদি দপ্তরেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখেন। একসময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে গানও গাইতেন।

ড. মোহাম্মদ সাদিক, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন

২০১৬ সালের ২রা মে থেকে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের দায়িত্বে রয়েছেন ড. মোহাম্মদ সাদিক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর করার পর যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারসোনাল ম্যানেজমেন্ট-এর উপর পড়াশুনা করেন এবং পরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সিলেটিনাগরী লিপির উপর গবেষণা করে পি. এইচ. ডি. ডিগ্রী লাভ করেন। সিভিল সার্ভিসের নানা পদে দায়িত্ব পালনের পর তিনি শিক্ষা সচিব ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিয়ামের মহাপরিচালক, নজরুল ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সচিব হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ও বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসাবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। জন্মস্থান সিলেটে পড়াশোনা শুরুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। পরে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়েটস-এর কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব বিষয়ে পিএইচডি করেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ তিনি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

শিরিন আখতার, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকেই স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর করার পর ভারতের জয়দেবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইডিডি করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের তিনজন ‌উপন্যাসিক শওকত ওসমান, ওয়ালিউল্লাহ এবং আবু ইসহাক। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্পর্কিত বিষয়