দুর্নীতির সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ, বাস্তবে পরিবর্তন কতটা?

টিআইবি ছবির কপিরাইট TIB
Image caption টিআইবি বলছে, সূচকে অগ্রগতি হলেও গুণগত কোন পরিবর্তন আসেনি।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) বুধবার দুর্নীতির ধারণা সুচক প্রকাশ করে বলেছে বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ দু'ধাপ এগিয়ে এখন ১৫ নম্বরে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, তালিকায় দু ধাপ এগোলেও দুর্নীতি দমনে গুণগত কোন পরিবর্তন আসেনি।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলছেন দুর্নীতি দমনে বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। যদিও অনেকেই মনে করেন সরকারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি ভয়াবহ পর্যায়েই রয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০১ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। এর ২০০৬ সালে তৃতীয়, ২০০৭ সালে সপ্তম ও গত বছর ছিল ১৩ তম অবস্থানে।

টিআইবি অবশ্য বলছে এবারের দুধাপ উন্নতির খু্ব একটা গুরুত্ব নেই কারণ তালিকায় যেমন দেশের সংখ্যা বেড়েছে আবার কিছু দেশ আগের চেয়ে খারাপ করেছে।

বুধবার প্রকাশিত ধারনা সুচকে তাই র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি হলেও বাংলাদেশ বরং যে অবস্থানে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড: ইফতেখারুজ্জামান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম অবশ্য বলছেন সরকারের নানা উদ্যোগ আর দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় থাকায় দুর্নীতি প্রতিরোধে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে আরও অগ্রগতির জন্য সরকারী বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সেবা গ্রহীতাদের সচেতন হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

Image caption ধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম অবশ্য বলছেন সরকারের নানা উদ্যোগ আর দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় থাকায় দুর্নীতি প্রতিরোধে অনেক অগ্রগতি হয়েছে

তবে সরকারের দিক থেকে যা ই বলা হোক না কেন দুর্নীতি প্রসঙ্গে পুলিশ বাহিনীর পর মানুষের বেশি অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজউক,পাসপোর্ট অফিস, আয়কর অফিস কিংবা বিআরটিএর মতো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাজউক নিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিবিসিকে বলেন রাজউকে টাকা ছাড়া কোন কাজই হয়না।

আবার মোহাম্মদ সোহেল একটি ব্যক্তিগত গাড়ির চালক। তার মতে বিআরটিএ তে দালাল ছাড়া কাজ করানোই কঠিন।

ঢাকায় পাসপোর্ট অফিসগুলোতে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হলেও নতুন আবেদনকারীদের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশনের আর ঢাকার বাইরের পাসপোর্ট কার্যালয়গুলো নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েই গেছে।

একজন অভিযোগ করেন পিরোজপুরে তার তিন আত্মীয়ের পাসপোর্ট করাতে ৩৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এমনকি তার নিজের ও স্ত্রীর পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে আসা পুলিশকে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

আর দুর্নীতির আরেকটি বড় ক্ষেত্র হলো আয়কর অফিস গুলো, যা উঠে এসেছে একজন আয়কর আইনজীবীর কথায়।

আর এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে এটাই বলাই যায় যে সরকারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতির মাত্রা ভয়াবহ বিস্তৃত।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড: ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন প্রযুক্তির ব্যবহারের বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনাগুলোর বিচার দৃশ্যমান হলে সেটি দুর্নীতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।