কুকুর নিধন বিতর্ক: ঢাকায় পশুপ্রেমীদের বিক্ষোভ

Image caption কুকুর নিধনের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ

চট্রগ্রামে কুকুর নিধনের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে প্রাণী কল্যাণ নিয়ে কাজ করে এমন কয়েকটি সংগঠন।

ঢাকার সার্ক ফোয়ারা ঘিরে এ মানববন্ধন কর্মসুচিতে কয়েকশো মানুষ অংশ নিয়েছে।

আয়োজকদের বক্তব্য গত ২৩শে জানুয়ারী থেকে চট্রগ্রামে বিষ প্রয়োগ করে শত শত কুকুরকে হত্যা করা হয়েছে, যদিও কুকুর নিধন ও প্রাণীদের দিয়ে নিষ্ঠুর খেলা প্রদর্শন বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজকদের একজন সৌরভ শামীম বলছেন রাস্তায় থাকা কুকুরেরও বাঁচার অধিকার আছে।

"মানুষই বরং বেশি সমস্যা করে কুকুরদের জন্য। ওদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলে কিংবা একটু খাবার দেয়া হলে কোন সমস্যা থাকবেনা। বরং এসব কুকুর এলাকার গার্ড হিসেবে কাজ করে"।

Image caption মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নেয় কয়েকশো নারী-পুরুষ

প্রতিবাদকারীদের একজন পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ারের চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিল বলেন কুকুরের সমস্যা রয়েছে এবং এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রকল্পও আছে। ঢাকায় কুকুরকে বন্ধ্যাকরণ ও জলাতঙ্ক টিকা দেয়া হচ্ছে।

"জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে যদি টিকা দেয়া হয় ও বন্ধ্যাকরনের মাধ্যমে মানবিক উপায়ে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হলে সেটি গ্রহণযোগ্য। হাইকোর্টের রায় আছে কুকুর নিধন বন্ধ ও প্রাণী দিয়ে নিষ্ঠুর খেলা প্রদর্শন না করতে। সেটাকে অমান্য করে চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কুকুর নিধন করে যাচ্ছে"।

কুকুর নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার রাস্তা ঘাটে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের সংখ্যা অন্তত এক লাখ।

Image caption নির্বিচারে কুকুর নিধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় পশুপ্রেমীরা

২০১৪ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা রিট আবেদনের প্রেক্ষাপটে কুকুর নিধন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলো আদালত।

২০১৪ সালেই ঢাকার সিটি কর্পোরেশন কুকর নিধন কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে কুকুরকে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনার কাজ শুরু করে। পরে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন আলাদা করে ভ্যাক্সিন দেয়ার উদ্যোগ গ্রহন করে।

তবে জাতীয় সংক্রামক ব্যধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন সুত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু ২০১৬ সালেই ঢাকায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ কুকুরের কামড়ের পর চিকিৎসা নিয়েছেন।

সম্পর্কিত বিষয়