'সরকার নিজেদের কাজকর্ম ফেসবুকে তুলে ধরছে'

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসে ফেসবুক লাইভ শুরু হতে চলেছে

বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় লাইকের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যাওয়া উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ ফেসবুক লাইভে বাংলাদেশ সরকার বলেছে তাদের কর্মকান্ডকে তুলে ধরতে ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াকে বিরাট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ওই ফেসবুক লাইভে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম যে অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে সে বিষয়টি কিছুতেই অস্বীকার করা যাবে না, আর তাই সরকারের কার্যক্রমকে অনলাইন বা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

তিনি বলেন, "আমরা মনে করছি তরুণ প্রজন্মকে যদি রিচ-আউচ করতে হয় তাহলে ফেসবুক ইউজ করতে হবে। যে কারণে গত দুই বছর ধরে আমরা সরকারের কার্যক্রমকে তুলে ধরছি ফেসবুকে।"

তিনি আরো বলেন "আমরা দেখেছি অনেক তরুণরাই টেলিভিশনের সামনে নেই, নিউজপেপারে দেখছে না কিন্তু তারা ফেসবুকে থাকছে। তরুণদের ভাবনা গুলো আমরা সেই ফেসবুক পেজ থেকে পাচ্ছি। এটা মারাত্মক ভাবে সহায়তা করছে আমাদের।"

সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ফেসবুক বাংলাদেশে অত্যন্ত একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক সামাজিক বিষয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই ফেসবুককে কেন্দ্র করে।

শাহবাগের আন্দোলন সহ বেশ কিছু সামাজিক ইস্যুতে এখানে ইভেন্ট খুলে প্রথম সচেতনতা তৈরি করা হয়।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ নূর বলছিলেন ফেসবুকের মধ্যমে সহজে কোটি কোটি লোকের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয় বলেই তিনি এই মাধ্যমকেই বেছে নিচ্ছেন এখন।

আরিফ নূর বলছিলেন, "গণজাগরণ মঞ্চের শুরুটা ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। আমি যে যুক্তিটা দিচ্ছি, আমার মতামত অনেক সময় মেইনস্ট্রিম মিডিয়া দিচ্ছে না কিন্তু ফেসবুকে আমি দিতে পারছি।"

ছবির কপিরাইট ফোকাসবাংলা
Image caption শাহবাগ আন্দোলন শুরু হওয়ার পেছনেও সোশ্যাল মিডিয়ার বড় ভূমিকা ছিল

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসার যত হচ্ছে তত মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার উপর চাপ বাড়ছে। নতুন নতুন প্রতিযোগিতায় পড়ছে গণমাধ্যমগুলো।

প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান বলছিলেন নাগরিক সচেতনতা বাড়ার কারণে প্রতিনিয়ত কাজের ক্ষেত্র সাংবাদিকদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে ।

"আমাদের ঘুমটা নির্ঘুমে পরিণত করে দিয়েছে নাগরিকরা। আমরা কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি করলে সার্বক্ষণিক নিউজ রুম ছাড়াও নাগরিকরা অতন্দ্র প্রহরী হয়ে সেটা তারা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ভুল শুধরে দিচ্ছেন" বলছেন মি খান।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সবগুলো ভাষা বিভাগের মধ্যে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় লাইকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। বিবিসি বাংলার পরেই রয়েছে বিবিসি আরবি বিভাগ।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে বিবিসি বাংলা ফেসবুক লাইকের সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়