ভারতে ক্রিকেট চালাবেন রাজনীতির বাইরের লোকরা

ছবির কপিরাইট SAM PANTHAKY
Image caption প্রশাসকদের একজন হলেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের দৈনন্দিন পরিচালনার জন্য চারজন প্রশাসককে নিয়োগ করেছে - যাদের সঙ্গে রাজনীতি বা ক্রিকেট প্রশাসনের এতদিন কোনও সম্পর্কই ছিল না।

শীর্ষ আদালতের নিযুক্ত এই প্রশাসকরা হলেন দেশের সাবেক কম্প্রোটার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বিনোদ রাই, ঐতিহাসিক ও ক্রিকেট-গবেষক রামচন্দ্র গুহ, বিক্রম লিমায়ে ও ভারতের মহিলা জাতীয় দলের সাবেক ক্যাপ্টেন ডায়ানা এডুলজি।

এই নতুন প্রশাসকদের প্রধান কাজ হবে ভারতীয় ক্রিকেটে সংস্কারের জন্য বিচারপতি লোধা কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা। চারজন প্রশাসকের প্রধান হলেন বিনোদ রাই।

এর আগে এ মাসের গোড়ার দিকে সুপ্রিম কোর্ট বিসিসিআই বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির পদ থেকে অনুরাগ ঠাকুর ও সচিবের পদ থেকে অজয় শিরকে-কে সরিয়ে দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট তখন মনে করেছিল, ভারতীয় বোর্ডের নেতৃত্ব লোধা কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে এবং তাদের প্রস্তাবগুলো মানতে গড়িমসি করছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট তাদের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও বোর্ডের অন্যতম প্রশাসক করার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে।

ছবির কপিরাইট Hindustan Times
Image caption বিসিসিআই সভাপতির পদ থেকে অনুরাগ ঠাকুর অপসারিত হয়েছেন এ মাসের গোড়াতেই

শীর্ষ আদালত বলেছে, যেহেতু তাদের আগের এক রায়েই মন্ত্রী বা সরকারি আমলাদের বিসিসিআইয়ের পদ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তাই ক্রীড়া সচিবকে বোর্ডের প্রশাসক নিয়োগ করার দাবি মানা সম্ভব নয়।

ভারতীয় ক্রিকেটের অত্যন্ত প্রভাবশালী বোর্ড বা বিসিসিআইয়ের নিয়ন্ত্রণ রাজনীতির জগতের লোকেদের হাতে থাকবে কি না, বা থাকলেও কতটুকু থাকবে তা নিয়ে বিতর্ক ও মামলা-মোকদ্দমা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে।

সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোধা কমিটির সুপারিশ মানতে গেলে ভারতীয় বোর্ডে বা তাদের অনুমোদিত রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলোতে রাজনীতিকদের বা বছরের পর বছর ধরে ছড়ি-ঘোরানো প্রশাসকদের মৌরসি পাট্টা কার্যত শেষ হয়ে যাবে।

তবে আজ যে চারজন প্রশাসককে সুপ্রিম কোর্ট বেছে নিয়েছে, তা থেকে এটা স্পষ্ট যে রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক আছে কিংবা আগে ক্রিকেট-প্রশাসনে জড়িত ছিলেন এমন লোকজনকে তারা বোর্ডের প্রশাসক হিসেবে চাইছেন না।

ভারতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি মুকুল মুদগল (যিনি আগে ক্রিকেট বোর্ডের সংস্কার নিয়ে বহু কাজ করেছেন), সাবেক বিসিসিআই সবাপতি এ সি মুথাইয়া কিংবা ক্রিকেট সাংবাদিক আয়াজ মেমনের মতো অনেকেই নতুন এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন।