সার্চ কমিটিকে কী বলেছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা ?

ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption চার বিশিষ্ট নাগরিকের মতামত নিয়েছে সার্চ কমিটি

বাংলাদেশে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য অনুসন্ধান কমিটি বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নেয়া শেষ করেছে।

এই নাগরিকদের অনেকে বলেছেন, এবার অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের উপর গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতি নির্ভর করছে, সেটা অনুধাবন করে কমিটি কাজ করছে বলে তাদের মনে হয়েছে।

তাদের কয়েকজন বিবিসিকে বলেছেন নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডহীন শব্দের ব্যবহার যাতে করা না যায়, এমন একটা কমিশন দেখতে চেয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।

সেখানে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, শক্ত মেরুদণ্ডের এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিকে যেনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদের জন্য সুপারিশ করা হয়।প্রধান নির্বাচন কমিশনারই পুরো কমিশনের প্রতীক বলে বিশিষ্ট নাগরিকেরা মনে করেন।

অনুসন্ধান কমিটি বুধবার যে চার জন বিশিষ্ট নাগরিকের মতামত নিয়েছে, তাদের মধ্যে ইংরেজি দৈনিক ডেইলী স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলছিলেন,শক্তিশালী কমিশন গঠনের জন্য সাহসী ব্যক্তি খুঁজে বের করার বিষয়ই তাদের আলোচনায় অগ্রাধিকার পেয়েছে।

চার জনের সাথে এই আলোচনার দু'দিন আগে ১২জন বিশিষ্ট নাগরিকের মতামত নিয়েছে অনুসন্ধান কমিটি।

ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption বৈঠকের পর কথা বলছেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম

দু'দফাতেই স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এবং যোগ্য ও সাহসী ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করার পরামর্শ এসেছে। অনুসন্ধান কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে যে নাম সুপারিশ করবে, তা প্রকাশেরও দাবি করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।

প্রথম দফার আলোচনায় অংশ নেয়া সুজনের বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, প্রস্তাবিত নাম প্রকাশ করা হলে স্বচ্ছতা থাকবে।

"আমি স্পষ্টভাবে বলেছি যে, আমাদের সাথে কথা বলাটা যেনো লোক দেখানো না হয়।কারণ আমাদের করুণ অভিজ্ঞতা আছে।আমি আরও বলেছি, যাদের বিবেচনায় নিচ্ছেন, তাদের নামগুলো এবং সুপারিশের কারণ প্রকাশ করলে মানুষ আশ্বস্ত হবে।"

শুরুতেই প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এই অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।যদিও বিএনপি এই কমিটির আহবানে সাড়া দিয়ে নাম প্রস্তাব করেছে। কমিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম নিয়ে সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে।একইসাথে কমিটি বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নিয়েছে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন,অনুসন্ধান কমিটি এখনও স্বাধীনভাবে এবং ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে কাজ করছে বলে তাঁর মনে হয়েছে।তাঁর মতো মাহফুজ আনামও বলছিলেন, অনুসন্ধান কমিটি তাদের দায়িত্বটাকে অনুধাবন করছে বলে তিনি মনে করেন।

"ঐতিহাসিকভাবে নতুন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হবে অনেক বড়।কারণ আগামীতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের উপর দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি অনেকাংশে নির্ভর করবে।সেটা অনুসন্ধান কমিটি বুঝতে পেরেছে এবং কমিটি সে ধরণের একটা অবদান রাখতে চাচ্ছে বলে আমার মনে হয়েছে।"

ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption বৈঠকের পর সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত অনেক নাম সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।তাদের বেশিরভাগেরই কোনো না কোনোভাবে দলীয় পরিচয় আছে।এসব নামের মধ্যেই অনুসন্ধান কমিটি সীমাবদ্ধ করছে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে।

মাহফুজ আনাম বলেছেন, কমিটির সদস্য নিজেরাও নাম খুঁজছেন,আলোচনায় তিনি এমন ধারণা পেয়েছেন।

তবে কমিটির কাছে সময়েরও সীমাবদ্ধতা আছে, কারণ ৮ই ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

অন্যদিকে, যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন যে, নির্বাচন কমিশন গঠনের এই প্রক্রিয়ায় তাঁরা কোনো হস্তক্ষেপ করবেন।এরপর এক ধরণের শঙ্কা বা সন্দেহ রয়েছে আলোচনায় অংশ নেয়া নাগরিকদের অনেকের মধ্যে।সেজন্য কমিটি যখন নাম প্রস্তাব করবে, তা প্রকাশের দাবি তাঁরা করেছেন।