অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারে কি মানুষ বিদেশি চ্যানেলে ঝুঁকছে?

তুর্কী টিভি সিরিয়াল 'সুলতান সুলেমান' বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে ছবির কপিরাইট WIKIPEDIA
Image caption তুর্কী টিভি সিরিয়াল 'সুলতান সুলেমান' বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে বিজ্ঞাপন নাকি বিজ্ঞাপনের ফাঁকে একটু অনুষ্ঠান? বাংলাদেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলির লাগামহীন বিজ্ঞাপন বিরতির কারণে দর্শকদের মাথায় এখন এমন প্রশ্ন আসাটা হয়তো স্বাভাবিক।

অনেক দর্শকই বলছেন, অতিমাত্রায় বিজ্ঞাপন প্রচারে বিরক্ত হয়ে তারা বিদেশী চ্যানেলের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

টেলিভিশন এবং বিজ্ঞাপন শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন এই অভিযোগ নিয়ে কি বলেন?

তিন প্রজন্মের টেলিভিশন দর্শক; মা, মেয়ে, এবং নাতনীর সাথে কথা হচ্ছিল।

বয়স আর রুচির ক্ষেত্রে তাদের অনেক ভিন্নতা থাকলেও, একটি বিষয়ে তাদের মতামত খুব একটা আলাদা নয়।

আর তা হলো বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে অনুষ্ঠানের মাঝে বিজ্ঞাপন বিরতির পরিমাণ বিরক্তিকর মাত্রায় বেশি।

বিজ্ঞাপন বিরতির বর্তমান অসহনীয় অবস্থা নিয়ে বিজ্ঞাপনী সংস্থা গ্রে অ্যাডভারটাইজিং এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সালাহউদ্দিন শাহেদের সাথে কথা বলে জানা গেল, বাংলাদেশের দর্শক একটা বিদেশি চ্যানেল দেখার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ক্যাবেল অপারেটর কে দেয় তা সেই চ্যানেল পর্যন্ত ঠিকই পৌঁছায় কিন্তু দেশি চ্যানেল গুলির ক্ষেত্রে সেটি ঘটছে না।

ছবির কপিরাইট স্টার জলসা
Image caption ভারতের একটি জনপ্রিয় বাংলা টিভি সিরিয়ালের বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন এর মাত্রা নিয়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের ভাবনা জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি চ্যানেল 'চ্যানেল আই'কে।

চ্যানেল আই এর মহাপরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর মনে করছেন যে, বাংলাদেশে এখনও যেহেতু কোন পে-চ্যানেল নেই এটা বিজ্ঞাপন নির্ভরশীলতার একটা অনেক বড় কারণ।

এদিকে বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজা মনে করছেন চ্যানেলগুলো মূলত কাজ করছে অর্থ উপার্জনের জন্য, সেখানে টেলিভিশনের শৈল্পিক বিষয়গুলি গুরুত্ব পাচ্ছে না আর দর্শক এ কারণেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের টেলিভিশন শিল্পের পরিসর গত কয়েক বছরে অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

কিন্তু সে তুলনায় চ্যানেলগুলোর বিতরণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য গুণগত উন্নয়ন হয়নি । এছাড়া অনুষ্ঠানের মান নিয়েও রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ । তবে বাংলা ভিশনের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান শামিম শাহেদ মনে করছেন ভাল অনুষ্ঠান হচ্ছে ।

সাধারণ দর্শকরা মনে করছেন যদি বাংলাদেশের বেসরকারি চ্যানেল গুলোর বিজ্ঞাপন বিরতি একটু সহনীয় মাত্রায় হত তো বিদেশী চ্যানেল দেখার প্রবণতা অনেকটাই কমে যেত ।

Image caption বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজা

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই টেলিভিশনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে ।

ভারতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট সম্প্রচার আইন। বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয় একটি সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

কিন্তু সেখানে বিজ্ঞাপন বিরতির বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে তেমন কিছু বলা হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন এবং ফিল্ম স্টাডিস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শফিউল আলম ভুঁইয়া মনে করেন যে, বিজ্ঞাপন বিরতি কতটুকু থাকা উচিত সেটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্প্রচার নীতিমালা বা আইনে থাকা প্রয়োজন।

আর বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গুলো তা মেনে চলছে কিনা সেটা নজরদারীর জন্য প্রয়োজন একটি যথাযথ কতৃপক্ষের সক্রিয় উপস্থিতি ।

ছবির কপিরাইট BBC bangla
Image caption তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

বাংলাদেশে শীঘ্রই একটি সম্প্রচার আইন পাশ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন বিরতির বিষয়ে সেখানে কি ধরনের দিক নির্দেশনা আছে তা জানতে হাজির হয়েছিলাম তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কাছে ।

বৈচিত্র্যপূর্ণ ও মানসম্মত অনুষ্ঠানের দর্শক সবসময়ই ছিল,আছে ও থাকবে ।

যেমন- এ সময়ে আলোচিত ,দীপ্ত টেলিভিশন এর বাংলায় ডাবিং করা সিরিয়াল 'সুলতান সুলেমান' তার বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনার গুণে ব্যাপক দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে পরিমিত বিজ্ঞাপন বিরতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

Image caption টিভিতে বিজ্ঞাপন প্রচারের একটি অংশ

সম্পর্কিত বিষয়