প্রেমিকাকে খুনের অভিযোগ, উদ্ধার হলো বাবা-মায়ের কঙ্কালও

ছবির কপিরাইট focusbangla
Image caption বাবা, মা ও প্রেমিকাকে খুন করার অভিযোগ উদয়ন দাসের বিরুদ্ধে

ভারতে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ উদয়ন দাস নামে এক যুবককে আজ বাঁকুড়ার জেলা আদালতে পেশ করেছে, যাকে দিন কয়েক আগে তিনটি খুনের জন্য দায়ী সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাবা, মা এবং প্রেমিকাকে খুন করার অভিযোগ উদয়ন দাসের বিরুদ্ধে। পুলিশ মি: দাসকে আদালতে পেশ করার পর আদালত তার আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

পুলিশ দাবি করছে, উদয়ন দাস তার বাবা-মাকে সাত বছর আগে খুন করে নিজেদের বাড়ির বাগানে পুঁতে দিয়েছিল বলে সে নিজেই জেরায় স্বীকার করেছে।

সাত বছর আগের ঘটনা এখন কীভাবে প্রকাশ পেল?

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের বাসিন্দা উদয়ন দাসের প্রেমিকা গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। আর ওই নারীর খোঁজ করতে গিয়েই পুলিশের সন্দেহ হয় মি: দাসের ওপরে।

পুলিশ বলছে যে তাদের টানা জেরায় উদয়ন দাস স্বীকার করে যে ২৮ বছর বয়সী প্রেমিকা আকাঙ্খা শর্মাকে সে বাড়িতেই খুন করে একটি বেদীর মধ্যে পুঁতে দিয়েছে।

জানা যায়, মিস শর্মার সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে আলাপ হয় উদয়ন দাসের, তারপরে দুজনের ঘনিষ্ঠতাও বাড়ে। মি: দাস নিজেকে জাতিসংঘে কর্মরত বলে দাবিও করেছিল। মিস শর্মাকে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের দপ্তরে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে গত বছর মাঝামাঝি সময়ে তাকে দিল্লি যেতে বলে।

মিস শর্মার পরিবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে জুন মাসে আমেরিকা যাওয়ার জন্য তাদের মেয়ে উদয়ন দাসের সঙ্গে দিল্লিতে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বের হয়। তারপরে তার সঙ্গে আর কখনও কথা হয় নি । শুধু হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠাতো তাদের মেয়ে।

গত অক্টোবর মাসে উদয়ন দাস মিস শর্মার পরিবারের সঙ্গে দুদিন কাটিয়েও গেছে তাঁদের বাঁকুড়ার বাড়িতে।

মিস. শর্মার খোঁজ না পেয়ে বা কথা বলতে না পেরে তাঁর পরিবারের সন্দেহ বাড়তে থাকে। তাঁরা একবার ভোপালে গিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ের খোঁজ পেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসে বাঁকুড়া পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান এ বছরের শুরুর দিকে।

প্রতীকী ছবি
Image caption উদয়ন দাসের প্রেমিকা আকাঙ্খা শর্মাকে খুন করার অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ জানতে পারে সে তার বাবা-মাকেও খুন করেছে।

বাঁকুড়া থেকে জানুয়ারির শেষে একটি পুলিশ দল ভোপালে তদন্ত করতে যায়। তাদেরই প্রথম সন্দেহ হয় উদয়ন দাসের ওপরে। তাকে জেরা করে আকাঙ্খা শর্মার মৃতদেহ পাওয়া যায় মি. দাসের ফ্ল্যাটে।

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা মিস শর্মার মৃতদেহ উদ্ধারের পরে উদয়ন দাস স্বীকার করে যে সাত বছর আগে তার বাবা-মাকেও সে মেরে ফেলেছিল।

ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরে পুলিশ তাদের পুরনো বাড়ির বাগান খুঁড়ে সেই কঙ্কাল দুটি উদ্ধার করেছেন।

কেন খুন করে পুঁতে রাখলো বাবা-মাকে?

মধ্যপ্রদেশ পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জেরায় উদয়ন দাস জানিয়েছে যে সে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ না করতে পারলেও সেই তথ্য বাবা-মার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিল। তাকে চাকরির চেষ্টা করতে বলায় রাগের মাথায় প্রথমে মা এবং তারপরে বাবাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলে।

নিজেদের বাগানে মৃতদেহ দুটি পুঁতে দেয়। বাবা-মায়ের জাল ডেথ সার্টিফিকেটও বের করেছিল উদয়ন দাস। বাবা-মায়ের বাড়িটিও বিক্রি করে দেয় সে।

পরিবারের অন্য সদস্যদের সন্দেহ বাবা-মায়ের টাকা যেমন আত্মসাৎ করেছিল উদয়ন দাস, তেমনই প্রেমিকা আকাঙ্খা শর্মার টাকাও সে হাতিয়ে নিয়েছিল।

পুলিশ বলছে, তার বাবা, মা এবং প্রেমিকাকে মেরে ফেললেও তাদের আলাদা আলাদা ফেসবুক প্রোফাইল তৈরি করেছিল সে। যেগুলোতে নিজেই মেসেজ বা কমেন্ট পোস্ট করতো। নিজে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ না করতে পারলেও নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে জাতিসংঘে বিভিন্ন সময়ে কাজ করার কথা সে উল্লেখ করেছে।

দামী গাড়ি, জাতিসংঘে উচ্চপদে চাকরি, কাজের সূত্রে নিয়মিত দেশ-বিদেশ ভ্রমণ - এসবই সে বানিয়ে বানিয়ে ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছে বলে পুলিশ মনে করছে। উদয়ন দাস তার প্রেমিকার নাম করে নিজেই মিস শর্মার বাড়িতে মেসেজ পাঠাত বলেও ধারণা করছে পুলিশ।

রায়পুর থেকে গত রাতে কলকাতায় নিয়ে আসার পরে তাকে রাতেই বাঁকুড়া নিয়ে গেছে পুলিশ।

পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পরে মিস শর্মার বাবা মায়ের সামনে বসে উদয়ন দাসকে দীর্ঘ জেরা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট সুখেন্দু হীরা।

আরও পড়তে পারেন:

পরবর্তী নির্বাচন কমিশনে যারা থাকছেন

শিশুরা কী ধরনের সাইবার বুলিং এর শিকার হচ্ছে?

ক্যাথলিক চার্চে যৌন নিপীড়নের শিকার হাজারো শিশু

কুমিরের বাচ্চা ‘উধাও হবার’ রহস্যের সমাধান

সম্পর্কিত বিষয়