নতুন ইসি: আওয়ামী লীগের 'আস্থা', বিএনপি এখনো চুপ

ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption নতুন নির্বাচন কমিশন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দেওয়ার পর সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা এর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় এই কমিশন গঠিত হয়েছে, তাতে যারা মনোনীত হয়েছেন তারা সবাই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।

"এ কমিশনের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করতেই হবে" - বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

গত নির্বাচন বর্জনকারী প্রধান বিরোধীদল বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কিছু বলা হয়নি। তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির কোনো নেতা।

তবে, নতুন কমিশন গঠনের পর বিএনপি নিজেদের মধ্যে গত রাতেই আলাপ করেছে। মঙ্গলবার দলের শরীকদের সাথে আলাপের পর তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি নিরপেক্ষতার 'একশো ভাগ' নিশ্চয়তা দিচ্ছেন, এবং আশা প্রকাশ করছেন যে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

কেমন হলো নতুন নির্বাচন কমিশন? এসব প্রত্যাশা তারা কতটা পূরণ করতে পারবেন? আর যারা দায়িত্ব পেলেন কেমন যোগ্যতা সম্পন্ন তারা?

আরো পড়ুন: নিরপেক্ষতার শতভাগ নিশ্চয়তা দিলেন নতুন সিইসি

প্রেমিকাকে খুনের অভিযোগ, উদ্ধার বাবা-মা'র কংকাল

'বৃক্ষ মানবী' সাহানার সফল অস্ত্রোপচার

অস্ট্রেলিয়ার চার্চে যৌন নিপীড়নের শিকার হাজারো শিশু

ছবির কপিরাইট DESHAKALYAN CHOWDHURY
Image caption নির্বাচন কমিশন

বিএনপি সমর্থক একটি পত্রিকা দৈনিক দিনকালের সাবেক সম্পাদক আমানুল্লাহ কবির বলছেন, নতুন এই কমিশনের সদস্যরা তাদের কর্মজীবনে কতটা দক্ষ ছিলেন তার কিছুই তেমন জানা যায়নি - যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তিনি বলছেন, "দুটি কারণ সম্পর্কে মানুষ সম্পর্কে পাবলিকলি আলোচনা হয়। এক হলো, তিনি যদি খুব ভালো কাজ করেন, অথবা যদি খারাপ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকেন।

"এই কমিশনের সদস্যদের ভালো মন্দ কোনটাই জানা যায়নি। মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে তাদের কর্মদক্ষতা কেমন ছিলো। তারা কতটুকু যোগ্য বা নিরপেক্ষ ছিলেন। সে দিক থেকে ভালো মন্দ কোন আলোচনা নেই"

বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনগুলো ক্ষমতাসীন দল দ্বারা প্রভাবিত বলে সবসময়ই অভিযোগ ওঠে। এই কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রশাসনের সাবেক একজন সচিব কে এম নুরুল হুদা।

কিছু মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে সচিব হিসেবে কোন একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি কতটা গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ হবেন সেই প্রশ্নও উঠছে।

আমানুল্লাহ কবির বলছেন, "নুরুল হুদা সাহেব সম্পর্কে যতটুকু শুনেছি তা হলো যখন বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় ছিলো তখন উনি জয়েন্ট সেক্রেটারি পর্যায়ে আসেন। তখন তাকে ফোর্স রিটায়ারমেন্ট দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে আবার পুনর্বহাল করা হয়। সচিব হয়ে তিনি রিটায়ার করেন। সবাই ভাবতে পারে এটা কেমন হবে"

নতুন নির্বাচন কমিশনাররা হলেন- সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানম, সাবেক সচিব মো: রফিকুল ইসলাম এবং ব্রিগেডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

এদের পরিচয়ই বলে দিচ্ছে নতুন নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে সাবেক আমলাদের প্রাধান্য। যদিও নতুন কমিশন খুঁজতে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ দেয়া ছয় সদস্যের একটি সার্চ কমিটি দশজনের নাম প্রস্তাব করেছিলো।

তবে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কমিশন গঠন করেন দেশটির রাষ্ট্রপতি।

সার্চ কমিটির একজন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলছেন এই কমিশনে প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ছাড়াও নাগরিক সমাজের কাউকে প্রয়োজন ছিলো।

তিনি বলছেন, "নির্বাচন তো শুধু প্রশাসনের ব্যাপার না। নির্বাচন মানে রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি করা। নির্বাচনের সময় যে কারচুপি হয় প্রশাসনের লোকের চোখে সেগুলো সমসময় নাও পড়তে পারে। মাঠ পর্যায়ের একজন মানুষ সেটি তাড়াতাড়ি দেখতে পান"

তার মতে সেজন্যেই নতুন কমিশনে নাগরিক সমাজ থেকে একজন থাকা দরকার ছিলো।

তিনি আরো বলছেন, "নাগরিক সমাজ থেকে যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিলো বিশেষ করে জারিনা রহমান খান, তোফায়েল আহমেদ এবং নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, এদের একটা বিশেষজ্ঞের জ্ঞান রয়েছে। তারা নির্বাচনের সময় পরিবেশটা ভালো রাখার কি কি শর্ত সেসব নানান দিকে তাদের ভূমিকাটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারতো"

বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক জন্ম নেয়। প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি বিদায়ী কমিশন নিয়ে বেশ কবার প্রশ্ন তুলেছে। বিএনপি গত নির্বাচন বর্জনের পর সামনে গ্রহণযোগ্য ও সহিংসতা মুক্ত একটি জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করার গুরু দায়িত্ব এখন এই কমিশনের উপর।

নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলছেন, এটাই এখন এই কমিশনের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলছেন, এই কমিশন গতকাল খুব তাড়াহুড়ো করে ঘোষণা হয়েছে।

তার মতে, "এই কমিশনের জন্য প্রথম চাপ হবে, নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা। কারণ তাদের আগে যারা ছিলেন, তাদের কাজকর্ম প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। তাদের নির্বাচন পরিচালনা ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। সেটা থেকে আগে বেরিয়ে আসতে হবে। নির্বাচন কমিশনের যে ইমেজ সংকট আছে, সেটি প্রথমে কাটাতে হবে, সব দলের আস্থা অর্জন করতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণে একটা ইনক্লুসিভ নির্বাচন হলো সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ"

ওদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা এই কমিশনকে স্বাগত জানালেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তেমন কোন প্রতিক্রিয়া এখনো জানায় নি। এমনকি নির্বাচন কমিশন নিয়ে নানা সময় প্রশ্ন তোলা বিএনপিও তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় নিচ্ছে। তবে আজ রাতে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যাবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।