এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ডক্টর দাস: নজরুল-অনুপ্রাণিত এশিয়ান ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও বেজ গিটারিস্ট

বিবিসি বাংলার এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকারের অতিথি ব্রিটিশ নিরীক্ষাধর্মী মিউজিক্যাল ব্যান্ড 'এশিয়ান ডাব ফাউন্ডেশনের' অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বেজ গিটারিস্ট ডক্টর দাস।

এশিয়ান ডাব ফাউন্ডেশন হচ্ছে একটি ব্রিটিশ ইলেক্ট্রনিকা ব্যান্ড - যারা র‍্যাপকোর, ডাব, ডান্সহল এবং রাগ্গা জাতীয় নিরীক্ষাধর্মী সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

তাদের ওপর পাংক এবং ভারতীয় সঙ্গীতেরও নানা উপাদানের প্রভাব আছে।

ডক্টর দাসের আসল নাম অনিরুদ্ধ দাস। তিনি ডাক্তার নন, কিন্তু যেহেতু সঙ্গীত জীবনের শুরুতে তার হাতে একটা চামড়ার ব্যাগ থাকতো - যা তার বাবার এনে দেয়া এবং তাতে তিনি তার গানবাজনার সব দরকারি জিনিসপত্র রাখতেন। ব্যাগটা দেখতে ছিল একটা ডাক্তারের ব্যাগের মতো।

সেই থেকেই বন্ধুরা তাকে ডাকতেন 'ডক্টর দাস' বলে, আর সেটাই পরিণত হয় তার 'স্টেজ নেম'-এ।

ছবির কপিরাইট ADF
Image caption এশিয়ান ডাব ফাউন্ডেশন

তার জন্ম লন্ডনে, মা কোলকাতার, বাবা আসানসোলের। পরিবারের মধ্যে শৈশবেই তার গান শেখা শুরু।

পরে লন্ডনে শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে করতেই তার সাথে পরিচয় হয় এক বাংলাদেশী তরুণ দিদার জামান আর ডিজে জন পন্ডিতের সাথে।

তাদের সাথে মিলে গান করতে করতেই ১৯৯৩ সালে লন্ডনে এশিয়ান ডাব ফাউন্ডেশন গ্রুপের জন্ম।

এতে ব্রিটেনে বসবাসরত বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীর শিল্পীরা রয়েছেন।

তাদের প্রথম এ্যালবাম 'ফ্যাক্টস এ্যান্ড ফিকশনস' বেরোয় ১৯৯৫ সালে। এর একটি গান 'রেবেল ওয়ারিয়র' ছিল কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি দিয়ে অনুপ্রাণিত।

ড. দাস নজরুলের এই কবিতাটির একটি ইংরেজি অনুবাদ পড়ে এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। এখনো তিনি নজরুলের ভক্ত।

ড. দাসের কথায়, 'বিদ্রোহী' কবিতার যে বার্তা তা বিশ্বজনীন বা ইউনিভার্সাল, কারণ ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা হলেও এ কবিতায় সব রকম সাম্রাজ্যবাদ, নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদ রয়েছে।

Image caption এশিয়ান ডাব ফাউন্ডেশনের রেকর্ড কভার : ফ্যাক্টস এন্ড ফিকশনস

তাদের দ্বিতীয় এ্যালবাম 'রাফি'জ রিভেঞ্জ' বের হয় ১৯৯৮ সালে।

এ পর্যন্ত তাদের ১৪টি এ্যালবাম বেরিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ ও জাপানেও অনুষ্ঠান করেছে এশিয়ান ডাব ফাউন্ডেশন।

নকশাল আন্দোলন নিয়েও একটি গান রচনা করেছে ড. দাসের গ্রুপ। তিনি মনে করেন এসব উপনিবেশবাদ-পরবর্তী এসব আন্দোলনের কথা তুলে ধরা খুবই জরুরি। কারণ পৃথিবীতে দারিদ্র্য-নিপীড়ন এখনো রয়ে গেছে।

এশিয়ান ডাব ফাউন্ডেশনে ব্রিটেনে বসবাসরত বাঙালি, পাকিস্তানী, শ্রীলংকান, শ্বেতাঙ্গ ইংরেজ বা স্কটিশ - সবাই যুক্ত হয়েছেন।

ড. দাসের কথা- "আমি বর্ডার বলে কোন কিছু মানি না।"

এই দলে এখন আছেন গিটারিস্ট চন্দ্র সোনিক, তিনি এাংলো ইন্ডিয়ান। ভোকালিস্ট বা র‍্যাপার হচ্ছেন আখতার আহমেদ - ব্রিটেনে জন্মানো বাংলাদেশী। আর আছেন ন্যাখান - তিনি বাঁশি বাজান, ড্রামার ব্রায়ান, এবং ভোকালিস্ট গেটো প্রিস্ট - যিনি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত।

সম্পর্কিত বিষয়