ভারতের একটি স্কুলে ছাত্রীদের অর্ধনগ্ন করে শাস্তি দেয়ার অভিযোগ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র জেলার স্কুলটি ছবির কপিরাইট youtube
Image caption স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা বলছেন, "পুরো ঘটনাটাই বানোয়াট, ছাত্রীদের সঙ্গে ওরকম কিছুই ঘটেনি"।

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের একটি স্কুলের কয়েকজন ছাত্রী পড়া শিখে না আসায় তাদের অর্ধনগ্ন করে শাস্তি দিয়েছেন সেখানকার প্রধান শিক্ষিকা, এমন অভিযোগ করেছে ছাত্রীরা।

ছাত্রীদের অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন, যে তাদের স্কুলের মাঠে কান ধরে প্রথমে 'নীল-ডাউন' করিয়ে রাখা হয় আর তারপরে তাদের পরনের স্কার্ট খুলে স্কুলের মাঠে দৌড়াতে বলা হয়।

সোনভদ্র জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

তবে স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা বলছেন, "পুরো ঘটনাটাই বানোয়াট, ছাত্রীদের সঙ্গে ওরকম কিছুই ঘটেনি"।

গত শুক্রবার অষ্টম শ্রেণীতে বাড়ির পড়া হিসাবে সংস্কৃত শ্লোক শিখে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পরের দিন, শনিবার, জনা পনেরো ছাত্রী পড়া না শিখে স্কুলে এসেছিল।

তখনই তাদের প্রথমে নীল ডাউন ও পরে স্কার্ট ছাড়া স্কুলের মাঠে দৌড়াতে বলা হয়।

এক ছাত্রী স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, "স্কার্ট ছাড়া আমাদের প্রথমে মুর্গা (কান ধরে নীল-ডাউন করে শাস্তি দেওয়ার ভারতীয় প্রচলিত নাম মুর্গা) করে বসিয়ে রাখা হয়, তারপরে স্কুলের মাঠে দৌড়াতে বলা হয়। মাঠে সেই সময়ে অনেক ছেলেও বসেছিল। আমাদের পায়ে মারা হচ্ছিল। একজন ছাত্রী মার খেয়ে ঝোপের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল"।

ছাত্রীরা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে এই অভিযোগও করেছে যে পুরো ঘটনার ছবি মোবাইলে ভিডিও রেকর্ডিং করে রাখা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় যে বাড়ির পড়া না শিখে এলে ইন্টারনেটে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:

বিমানবাহিনীকে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ নিতে বললেন পুতিন

ট্রাম্পকে ভোট দেয়ায় ভাঙলো ২২ বছরের সংসার

ব্রিটেনে ৩০টি গীর্জার স্কুলে পড়ুয়া অধিকাংশই মুসলিম

প্রেমিকাকে খুনের অভিযোগ, মিললো বাবা-মায়ের কঙ্কালও

ছবির কপিরাইট youtube
Image caption ভারতে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কোনও রকম শুধু দৈহিক শাস্তি নয়, অপমানজনক কথা বা মানসিক নির্যাতন করাও আইনত নিষিদ্ধ।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা মীনা সিং অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "এসব কিছু হয়ই নি। সামান্য শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। ওরা মাস দুয়েক ধরে বাড়ির পড়া না শিখে স্কুলে আসছিল। অনেকবার বলেও লাভ হয়নি"।

সোনভদ্রের জেলা শাসক চন্দ্রভূষণ সিং বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, "অভিযোগ পাওয়ার পরে ওই প্রধান শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তের জন্য একটা কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তারা খুব তাড়াতাড়িই রিপোর্ট জমা দেবে। তারপরে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবো"।

ভারতে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কোনও রকম শুধু দৈহিক শাস্তি নয়, অপমানজনক কথা বা মানসিক নির্যাতন করাও আইনত নিষিদ্ধ।

তবুও মাঝে মাঝেই এ ধরনের খবর পাওয়া যায় যে ছাত্র-ছাত্রীদের চড় মারা বা দৈহিক শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

বন্ধুদের সামনে অপমানজনক কথাও বলে থাকেন অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা। সেই অপমান সহ্য না করতে পেরে ছাত্র বা ছাত্রীটি আত্মহত্যা করেছে, এমন ঘটনাও হয়ে থাকে।

আইনের বিধান থাকলেও খুব কম ক্ষেত্রেই শিক্ষক বা শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে এ ধরনের কাজের জন্য।

সম্পর্কিত বিষয়