ভারতে ধর্ষণের ভুয়া অভিযোগও কি একটি বড় সমস্যা ?

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভারতে প্রতিনিয়তই পাওয়া যায় ধর্ষণের অনেক অভিযোগ

ভারতে ধর্ষণের ভুয়া অভিযোগও কি একটি বড় সমস্যা ?

২০১২ সালে নয়াদিল্লীর রাস্তায় একটি বাসে একজন ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পর পুলিশের কাছে হুড়হুড় করে বাড়তে থাকে ধর্ষণের অভিযোগ।

যদিও ২০১৩-১৪ সালের অভিযোগগুলোর ওপর চালানো এক জরিপে দেখা যাচ্ছে অর্ধেকেরও বেশি অভিযোগই ভুয়া।

এমনকি কিছু অভিযোগ এসেছে শুধুমাত্র চাঁদা আদায়ের জন্য, অর্থাৎ অভিযোগ করে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা চেয়েছে অভিযোগকারী।

যেমন ৪৪ বছর বয়সী রিয়েল এস্টেট এজেন্ট যোগেশ গুপ্ত।

একজনের আর্থিক অনিয়ম তার হাতে ধরা পড়ার পর উল্টো তাকেই হুমকি দেয়া হলো।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption বেশ কিছু আলোচিত ঘটনায় সোচ্চার ছিলো প্রতিবাদকারীরা

পরে একজন নারী ক্রেতা সাজিয়ে মিস্টার গুপ্তর সাথে প্রোপার্টি দেখতে পাঠানো হলো।

পরে সেই নারী ফেরার সময় মিস্টার গুপ্তকে অনুরোধ করলো তাকে মেট্রো রেল স্টেশনে নামিয়ে দেয়ার জন্য।

পরে সেই নারী অভিযোগ করেন যে মিস্টার গুপ্ত তাকে একটি এপার্টমেন্টে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন।

"ভাগ্য ভালো যে আমি অফিসে সিসিটিভি লাগিয়েছিলাম," বলছিলেন তিনি।

"পুরো বিষয়টি ছিলো এমন সিঁড়ি দিয়ে উঠে চার তলায় ফ্লাট খুলে সেই নারীকে দেখিয়ে এবং পরে তাকে গাড়িতে মেট্রো স্টেশনে দিয়ে আসা। এটা সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটের ব্যাপার। আমি প্রমাণ করতে পারবো যে আমি ১১ মিনিটের মধ্যেই অফিসে ফিরে এসেছি"।

যদিও অভিযোগ দায়েরের পর থেকে মিস্টার গুপ্ত বুঝতে পারলেন যে সত্য প্রমাণের বিষয় পরে, আগেই তাকে অনেকে অপরাধী ভাবতে শুরু করে দিয়েছে।

"পুলিশ আমার সাথে আলোচনাই করেনি। আমি সব চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ন্যায় বিচার পাইনি"।

পরের আট মাস ধরে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আর জনসম্মুখে হেয় হতে হয় মিস্টার গুপ্তকে।

"আমি এমনকি স্ত্রী, ছেলে মেয়ে, বাবা-মা কারও কাছেই ব্যাখ্যা করতে পারছিলামনা।আমার সন্তানদের জন্যও ছিলো সেটি কঠিন সময়"।

পরে আদালতে যাওয়ার পর অভিযোগকারী নারী স্বীকার করেন যে অভিযোগ সত্যি নয় এবং এর পরেই খালাস পান মিস্টার গুপ্ত।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ২০১২ সালে একজন ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ

আর অধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে এ ধরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে।

আইনজীবী বিনয় শর্মার মতে ধর্ষণের অভিযোগগুলোর মাত্র এক শতাংশ সত্যি। বাকী সব হয়তো প্রতিশোধ নেয়া কিংবা আর্থিক সুবিধা নেয়ার জন্য হয়ে থাকে।

পুরুষদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন পার্থ সাদুকান।

তার মতে এখন ধর্ষণের সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়ে গেছে, সবকিছুই ধর্ষণ হিসেবে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে।

কিন্তু এসব দাবিও কি সত্যি?

অনেকে আবার বলছেন অনেক সত্যি অভিযোগও প্রমাণের অভাব প্রমাণিত হয়না। ফরেনসিক এভিডেন্সও মামলাগুলোতে খুব কম ব্যবহৃত হয়।